নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব করতে ‘ঢাকার চাকা’ বাসসেবায় যুক্ত হচ্ছে র্যাপিড পাস। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীরা স্মার্ট কার্ড বা কিউআর (ছজ) কোড ব্যবহার করে বাসভাড়া পরিশোধ করতে পারবেন। যাত্রী যত দূর ভ্রমণ করবেন, তত দূরত্বের ভাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান (সচিব)।
ডিটিসিএর র্যাপিড পাস কার্যক্রমসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত এ ব্যবস্থায় ভাড়া-সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তন বা ডেটা ম্যানিপুলেশনের কোনো সুযোগ থাকবে না। যাত্রী যে দূরত্ব পর্যন্ত ভ্রমণ করবেন, কেবল সেই অংশের ভাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে।
সভায় ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, যাত্রীসেবা সহজ করা এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করতে সরকারপ্রধানের স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিটিসিএ এ উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, এটি কোনো পাইলট প্রকল্প নয়; চলমান কার্যক্রমেরই অংশ। নির্বাচিত সরকারের মেয়াদকালে ঢাকাকে পর্যায়ক্রমে প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থার আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘আমার বাস’ পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে খুব শিগগিরই ‘ঢাকার গণপরিবহন’ বাসেও র্যাপিড পাস চালু করা হবে।
তিনি আরো বলেন, মেট্রোরেলের আদলে ‘ঢাকার চাকা’ বাসসেবায় স্মার্ট কার্ডভিত্তিক ভাড়া পরিশোধ ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এ ধরনের কার্ডভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা মুকুল চন্দ্র মহন্ত বলেন, আধুনিক এ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস সুবিধা রাখা হয়েছে। যাত্রীরা অনলাইনে কার্ডে টপ-আপ করতে পারবেন। কার্ড হারিয়ে গেলে নতুন কার্ড সংগ্রহ করে পুনরায় নিবন্ধন (রি-রেজিস্ট্রেশন) করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হবে।
তিনি বলেন, আজ স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পুরো কার্যপ্রক্রিয়া ‘ঢাকার চাকা’ কর্তৃপক্ষকে দেখানো হয়েছে। তারা প্রাথমিকভাবে সম্মতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্টকেও এ সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে পরিবহন কর্তৃপক্ষ যাতে প্রয়োজনীয় ডিভাইস কিনতে পারে, সে জন্য ধাপে ধাপে মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, র্যাপিড পাসের স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে গ্রাহককে ৪০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে ২০০ টাকা থাকবে প্রাথমিক রিচার্জ ব্যালেন্স হিসেবে। এ ছাড়া একক যাত্রার ক্ষেত্রে যাত্রীরা কিউআর কোড ব্যবহার করেও ভাড়া পরিশোধ করতে পারবেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















