ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথে ঝুঁকিতে ট্রেন চলাচল, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি : 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথে রেলওয়ের সিগন্যাল ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। বারবার ট্র্যাক পট ও অন্যান্য সিগন্যাল সরঞ্জাম চুরির কারণে সিগন্যালিং ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে ট্রেন চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর চালু হয় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত রেলপথে ট্রেন চলাচল। এর পর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে ট্রেনে। রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হলেও সম্প্রতি রেলপথের বিভিন্ন এলাকায় সিগন্যালের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও কেব্‌ল চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

শিবচর রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, গত ১৯ জুন রাতে মাদারীপুর জেলার শিবচর অংশের পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের সিগন্যাল পয়েন্টের কয়েকটি ট্র্যাক পট (ট্র্যাক সার্কিটের যন্ত্রাংশ) খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর মাত্র কয়েক দিন আগে ৯ জুন একই স্টেশনের শিবচর প্রান্তের সিগন্যাল পয়েন্টের সবগুলো ট্র্যাক পট চুরি হয়। এরও আগে গত ১৮ মার্চ শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের ট্র্যাক পট খুলে নিয়ে যায় চোরেরা।

শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, গত ছয় মাসে ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ট্র্যাক পটসহ সিগন্যাল ব্যবস্থার বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্লক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে এবং ট্রেন পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ার পাশাপাশি ট্রেন চলাচলেও অতিরিক্ত সময় লাগছে।

তাঁরা জানান, এই অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেলওয়ের কর্মীদের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ‘লুক স্টিক’ ব্যবহার করে পেপার লাইন ক্লিয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন তাঁরা।

শিবচরের পদ্মা রেলওয়ের স্টেশনমাস্টার মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, এই রুটে সিগন্যালের ট্র্যাক পটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি বাড়ছেই! এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

শিবচর রেলওয়ের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ সেলিম হোসেন বলেন, ঘন ঘন ট্র্যাক পট চুরির কারণে ট্রেন পরিচালনায় আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। আগে পুলিশ টহল থাকলেও এখন তা অনেক কমে গেছে। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় রেলপথে স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।

জানতে চাইলে ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল বলেন, যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় আগেও মামলা হয়েছে এবং কয়েকজন চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভাঙ্গা জংশন থেকে শিবচর ও পদ্মা স্টেশনের দূরত্ব বেশি হওয়ায় নিয়মিত টহলে কিছুটা বেগ পোহাতে হয়। তবে চুরি প্রতিরোধে টহল আরও জোরদার করা হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথে ঝুঁকিতে ট্রেন চলাচল, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

প্রকাশের সময় : ০৪:০২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি : 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথে রেলওয়ের সিগন্যাল ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। বারবার ট্র্যাক পট ও অন্যান্য সিগন্যাল সরঞ্জাম চুরির কারণে সিগন্যালিং ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে ট্রেন চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর চালু হয় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত রেলপথে ট্রেন চলাচল। এর পর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে ট্রেনে। রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হলেও সম্প্রতি রেলপথের বিভিন্ন এলাকায় সিগন্যালের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও কেব্‌ল চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

শিবচর রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, গত ১৯ জুন রাতে মাদারীপুর জেলার শিবচর অংশের পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের সিগন্যাল পয়েন্টের কয়েকটি ট্র্যাক পট (ট্র্যাক সার্কিটের যন্ত্রাংশ) খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর মাত্র কয়েক দিন আগে ৯ জুন একই স্টেশনের শিবচর প্রান্তের সিগন্যাল পয়েন্টের সবগুলো ট্র্যাক পট চুরি হয়। এরও আগে গত ১৮ মার্চ শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের ট্র্যাক পট খুলে নিয়ে যায় চোরেরা।

শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, গত ছয় মাসে ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ট্র্যাক পটসহ সিগন্যাল ব্যবস্থার বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্লক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে এবং ট্রেন পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ার পাশাপাশি ট্রেন চলাচলেও অতিরিক্ত সময় লাগছে।

তাঁরা জানান, এই অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেলওয়ের কর্মীদের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ‘লুক স্টিক’ ব্যবহার করে পেপার লাইন ক্লিয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন তাঁরা।

শিবচরের পদ্মা রেলওয়ের স্টেশনমাস্টার মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, এই রুটে সিগন্যালের ট্র্যাক পটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি বাড়ছেই! এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

শিবচর রেলওয়ের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ সেলিম হোসেন বলেন, ঘন ঘন ট্র্যাক পট চুরির কারণে ট্রেন পরিচালনায় আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। আগে পুলিশ টহল থাকলেও এখন তা অনেক কমে গেছে। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় রেলপথে স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।

জানতে চাইলে ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল বলেন, যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় আগেও মামলা হয়েছে এবং কয়েকজন চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভাঙ্গা জংশন থেকে শিবচর ও পদ্মা স্টেশনের দূরত্ব বেশি হওয়ায় নিয়মিত টহলে কিছুটা বেগ পোহাতে হয়। তবে চুরি প্রতিরোধে টহল আরও জোরদার করা হবে।