নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশে টিকার ঘাটতি এবং এর ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে বহুবার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, টিকার মজুদ সংকট, রোগ বিস্তার ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে সরকারকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছিল।
রোববার (১৭ মে) ইউনিসেফ বাংলাদেশ এক লিখিত বক্তব্যে জানায়, ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে চিঠি পাঠিয়ে দেশে টিকার ‘আসন্ন ঘাটতি’র বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, হাম-রুবেলার এমআর৫ টিকার মেয়াদ ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া পোলিওর ‘বিওপিভি’, টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া (টিডি) এবং যক্ষ্মার বিসিজি টিকার মজুদও পর্যায়ক্রমে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউনিসেফ জানায়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাদের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরকার টিকা সংগ্রহ করত। তবে ২০২৫ সালে এসে সেই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে রাজস্ব বাজেটের আওতায় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে টিকা সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।
সংস্থাটি বলেছে, উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা কিনতে সাধারণত আট থেকে ১১ মাস সময় লাগে। ফলে সময়মতো টিকা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল এবং এ বিষয়ে ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক অংশীদাররা সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল।
এদিকে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ আন্দোলনের কারণেও টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে মার্চে গিয়ে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ৪৫১ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৭৪ জন।
চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বলেছে, এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
ইউনিসেফ আরও জানিয়েছে, বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং অন্যান্য অংশীদারদের সহায়তায় গত ৫ এপ্রিল ৩০টি উচ্চঝুঁকির উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেটি জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে সম্প্রসারণ করা হয়।
১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি গত ১০ মে প্রায় শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
সংস্থাটি আরও বলেছে, ভবিষ্যতে সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে সরকার আবারও ইউনিসেফের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ফিরে এসেছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















