Dhaka বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেফতারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০২:৩৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৫ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দুর্নীতির মামলায় পলাতক আসামি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেফতারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবেদন থেকে জানা যায়, আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই অবৈধ পারিতোষিক হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে গুলশান-২ এলাকার বাড়ি নং-৫এ ও ৫বি (পুরাতন), বর্তমানে ১১এ ও ১১বি (নতুন), রোড নং-৭১, ঢাকা-১২১২ ঠিকানার ফ্ল্যাট নং-বি/২০১ এর দখল বুঝে নেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম থাকায় সম্পত্তিটি হস্তান্তরযোগ্য ছিল না —এটি জানা সত্ত্বেও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক তাঁর আপন খালা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকার সুবাদে এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাগনি হিসেবে দলীয় প্রভাব ব্যবহার করেন। পাশাপাশি রাজউকের আইন উপদেষ্টা হওয়ার সুবাদে সংস্থাটির আইন কর্মকর্তাকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করে ইস্টার্ন হাউজিংকে আমমোক্তার অনুমোদন ও ফ্ল্যাট বিক্রির অনুমোদন পাইয়ে দেন। এতে অবৈধ সুবিধা দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তিনি ফ্ল্যাটটি বিনা মূল্যে গ্রহণ করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, মামলা দায়েরের আগেই আসামি দেশত্যাগ করেছেন এবং মামলা প্রমাণে সহায়ক প্রমাণাদি ও আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। কিন্তু তিনি বিদেশে অবস্থান করায় গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা একান্ত প্রয়োজন।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনায় টিউলিপ সিদ্দিক এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সারদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। আদালত পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন নির্ধারণ করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন গত ১৫ এপ্রিল টিউলিপ সিদ্দিক, সারদার মোশাররফ হোসেন এবং তার সহকর্মী শাহ মো. খসরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই দখলে নেন এবং পরে সেটি নিজেদের নামে নিবন্ধন করেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সংযোগ সড়ক না থাকায় কাজে আসছে না ৫ কোটি টাকার সেতু

টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেফতারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি

প্রকাশের সময় : ০২:৩৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দুর্নীতির মামলায় পলাতক আসামি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেফতারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবেদন থেকে জানা যায়, আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই অবৈধ পারিতোষিক হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে গুলশান-২ এলাকার বাড়ি নং-৫এ ও ৫বি (পুরাতন), বর্তমানে ১১এ ও ১১বি (নতুন), রোড নং-৭১, ঢাকা-১২১২ ঠিকানার ফ্ল্যাট নং-বি/২০১ এর দখল বুঝে নেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম থাকায় সম্পত্তিটি হস্তান্তরযোগ্য ছিল না —এটি জানা সত্ত্বেও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক তাঁর আপন খালা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকার সুবাদে এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাগনি হিসেবে দলীয় প্রভাব ব্যবহার করেন। পাশাপাশি রাজউকের আইন উপদেষ্টা হওয়ার সুবাদে সংস্থাটির আইন কর্মকর্তাকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করে ইস্টার্ন হাউজিংকে আমমোক্তার অনুমোদন ও ফ্ল্যাট বিক্রির অনুমোদন পাইয়ে দেন। এতে অবৈধ সুবিধা দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তিনি ফ্ল্যাটটি বিনা মূল্যে গ্রহণ করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, মামলা দায়েরের আগেই আসামি দেশত্যাগ করেছেন এবং মামলা প্রমাণে সহায়ক প্রমাণাদি ও আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। কিন্তু তিনি বিদেশে অবস্থান করায় গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা একান্ত প্রয়োজন।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনায় টিউলিপ সিদ্দিক এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সারদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। আদালত পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন নির্ধারণ করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন গত ১৫ এপ্রিল টিউলিপ সিদ্দিক, সারদার মোশাররফ হোসেন এবং তার সহকর্মী শাহ মো. খসরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই দখলে নেন এবং পরে সেটি নিজেদের নামে নিবন্ধন করেন।