Dhaka শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমাদের লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য একটাই, দেশ পুনর্গঠন : প্রধানমন্ত্রী

চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি : 

দেশ পুনর্গঠনই বর্তমান সরকারের একমাত্র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজকে থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন। এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা। আমরা শুধু স্বপ্ন দেখতে চাই না। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, আজকে এই খাল কাটা অনুষ্ঠানে আসুন আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, আমাদের শপথ হোক যে, আমরা করব কাজ, গড়ব দেশ সবার আগে বাংলাদেশ। এটাতে আছেন নাকি আমার সাথে দেশ গড়ার কাজে। আসুন আজকে থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন; দেশ গড়া, রাষ্ট্র পুনর্গঠনৃএটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই, আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই না; আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

May be an image of one or more people, dais and text

জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সকলকে দেশ গঠনে হাত দিতে হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই এলাকার সাতটা তাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছিল স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে। সাতটা তাজা প্রাণ। কেন ঝরে গিয়েছিল? সেই সাতটা তাজা প্রাণ তাদের দাবি ছিল বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা। বিএনপিরই সাতটা প্রাণ ঝরে গিয়েছে বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে। এইভাবে সারা বাংলাদেশে শুধু বিএনপিরই শত শত নেতাকর্মী তাদের জীবন আত্মাহুতি দিয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্ট মাসেই আমাদের সারা বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে চারশোর মতো নেতাকর্মী সেদিন খুন হয়েছিল।

শহীদদের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, তাদের স্বপ্ন যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাদের মৃত্যুকে যদি মূল্যায়ন করতে হয় তাহলে আমাদের সকলকে আজ দেশ গঠন বা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে আমাদেরকে হাত দিতে হবে।

‘খোদ খাল’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করে গিয়েছিলেন, তারপরে সময়ের পরিক্রমায় খালটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই খাল শহীদ জিয়া যখন খনন করেছিলেন, তার ফলে এই এলাকার কৃষক ভাইদের সুবিধা হয়েছিল। প্রায় ২০০০ কৃষক পরিবারের সুবিধা পেয়েছে। ১৩ কিলোমিটার লম্বা খালের সুবিধা বহু মানুষ পাবে, শুধু কৃষক ভাইয়েরা না, খালের দুই পাশে যারা থাকে তারাও পানির সুবিধা পাবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বাংলাদেশের মাটি এত উর্বর করে দিয়েছেন যে আমরা যদি সময়মতন পানি দিতে পারি তাহলে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে এখানে ফসল পড়ে।

ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতিও আমরা নির্বাচনের আগে এই দেশের মানুষের কাছে দিয়েছিলাম। বিএনপি ১২ তারিখের নির্বাচনে যদি আপনাদের সহযোগিতায় আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করে, ইনশাআল্লাহ আমরা দেশের চার কোটি পরিবার রয়েছে, ধীরে ধীরে আমরা এই পরিবারের যারা মায়েরা আছে, গৃহিণীরা আছে, তাদেরকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এক এক করে পৌঁছে দেব এবং সেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা আড়াই হাজার টাকা প্রতি মাসে আমরা মায়েদের হাতে তুলে দেব। যাতে করে সেই মায়েরা শিশুদের লেখাপড়া বলেন, স্বাস্থ্য বলেন, সবকিছু ঠিকভাবে যত্ন নিতে পারে। ধীরে ধীরে যাতে মায়েরা ছোট ছোট ব্যবসা-বাণিজ্য করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে উঠতে পারে। কারণ মা যদি শিক্ষিত হয় পরিবার শিক্ষিত হয়। মা যদি স্বাবলম্বী হয় একই সাথে পরিবারের সকল সদস্য ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়।

May be an image of one or more people and text that says 'তোনাত 백시 মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, চয়ারম্যান, বাংলাজে মোঃ হসদ সদস্য ২৬৪ সদস্য, জাতী আয়োজনে: ශූ উপজে'

বরাদ্দ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেই বাজেট চলছে এটি তো বিএনপি সরকারের বাজেট না। এটি বিএনপি সরকারের আগে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল তাদের করে যাওয়া বাজেট এবং সেই বাজেটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের কোন টাকা দেওয়া ছিল না। সেই বাজেটের মধ্যে কৃষক কার্ডের জন্য কোন টাকা দেওয়া ছিল না। সেই জন্য ইনশাআল্লাহ এবার আপনাদের সরকারের বিএনপি সরকার বাজেট তৈরি করছে এবং সেই বাজেটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে, কৃষক কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে কৃষক ভাইদের জন্য।

কৃষক কার্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রতিবছর যাতে কৃষক ভাইদের যে সার, কীটনাশক, যেসব বীজ, ফসলের বীজ এগুলো কিনতে যেই টাকাটির প্রয়োজন তার একটি অংশ আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ভাইদের হাতে পৌঁছে দেব।

নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচিকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব এবং ইনশাআল্লাহ আমরা এই যে মেয়েদেরকে শিক্ষা ব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি আছে, এটাকে আমরা ডিগ্রি বা স্নাতক পর্যন্ত আমরা ইনশাআল্লাহ ফ্রি করব। শুধু তাই নয়, যে সকল মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করবে ইনশাআল্লাহ তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব।

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়তে চাই, তাহলে এই নারীদেরকে যদি আমরা স্বাবলম্বী না করি, শিক্ষিত না করি, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না করি তাহলে আমাদের এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না।

বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই আমাদের দেশের তরুণদেরকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং দিতে, যাতে করে তারা দেশে কোন একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে অথবা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য তৈরি করতে পারে। যাতে করে দরকার হলে তারা বিদেশেও যেতে পারে এবং বিদেশে যাতে ভালো চাকরির ব্যবস্থা করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এখন যে রকম অদক্ষ শ্রমিক যায়, আমরা চাই আমাদের শ্রমিকদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে যাতে বিদেশে গিয়ে তারা বেশি ইনকাম করতে পারে, যাতে করে তারা বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাতে পারে।

May be an image of clarinet and crowd

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, এই এলাকার সন্তান চাঁদপুরের সন্তানই হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী। আপনাদের সামনে শিক্ষামন্ত্রীকে আমি এখনই বলে যাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব সেই টেকনিক্যাল কলেজের ব্যাপারে যাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, এই খাল (খোর্দ্দ খাল) যদি খনন না করি, কৃষক ভাইয়েরা কি পানি পাবে? পাবে না। কাজেই খাল খনন করলে কৃষক ভাইয়েরা পানি পাবে। ঠিক একইভাবে আমরা যদি হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি একসঙ্গে কাজ করে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবো।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যেরকম নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ অতীতে সবসময় দেখা গিয়েছে বিএনপি যে সকল প্রতিশ্রুতি জনগণকে দেয়; বিএনপি দেশ পরিচালনা করার সময় আস্তে আস্তে সবগুলো প্রতিশ্রুতি তারা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। কাজেই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব। বিএনপির শক্তির উৎস কারা? বিএনপি শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ। সেজন্যই আমরা বলি, সেজন্যই আমরা যারা বিএনপি করি, সেজন্যই আমরা যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা দল করেছি, আমরা সকলে বলি— জনগণই হচ্ছে আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। আপনাদের শক্তি হচ্ছে আমাদের শক্তি। আপনাদের সমর্থন আপনারা যতক্ষণ আমাদের পাশে থাকবে, আপনাদের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে আমাদের দেশ করার কাজ ইনশল্লাহ চলতে থাকবে।

‘করব কাজ, সবার আগে’ স্লোগান তুলে উপস্থিত জনতাকে দেশ গড়ার শপথ নিতে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন স্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর খালের তীরে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন এবং খালের তীরে বৃক্ষরোপণ করেন।

এ সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোমিনুল হক, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সলিম উল্যা সেলিম, শাহরাস্তি উপজেলা সভাপতি আয়াত আলী ভূঁইয়া ও সহসভাপতি আবু ইউসুফ রুপম উপস্থিত ছিলেন।

আবহাওয়া

আমাদের লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য একটাই, দেশ পুনর্গঠন : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:১৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি : 

দেশ পুনর্গঠনই বর্তমান সরকারের একমাত্র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজকে থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন। এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা। আমরা শুধু স্বপ্ন দেখতে চাই না। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, আজকে এই খাল কাটা অনুষ্ঠানে আসুন আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, আমাদের শপথ হোক যে, আমরা করব কাজ, গড়ব দেশ সবার আগে বাংলাদেশ। এটাতে আছেন নাকি আমার সাথে দেশ গড়ার কাজে। আসুন আজকে থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন; দেশ গড়া, রাষ্ট্র পুনর্গঠনৃএটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই, আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই না; আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

May be an image of one or more people, dais and text

জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সকলকে দেশ গঠনে হাত দিতে হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই এলাকার সাতটা তাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছিল স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে। সাতটা তাজা প্রাণ। কেন ঝরে গিয়েছিল? সেই সাতটা তাজা প্রাণ তাদের দাবি ছিল বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা। বিএনপিরই সাতটা প্রাণ ঝরে গিয়েছে বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে। এইভাবে সারা বাংলাদেশে শুধু বিএনপিরই শত শত নেতাকর্মী তাদের জীবন আত্মাহুতি দিয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্ট মাসেই আমাদের সারা বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে চারশোর মতো নেতাকর্মী সেদিন খুন হয়েছিল।

শহীদদের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, তাদের স্বপ্ন যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাদের মৃত্যুকে যদি মূল্যায়ন করতে হয় তাহলে আমাদের সকলকে আজ দেশ গঠন বা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে আমাদেরকে হাত দিতে হবে।

‘খোদ খাল’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করে গিয়েছিলেন, তারপরে সময়ের পরিক্রমায় খালটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই খাল শহীদ জিয়া যখন খনন করেছিলেন, তার ফলে এই এলাকার কৃষক ভাইদের সুবিধা হয়েছিল। প্রায় ২০০০ কৃষক পরিবারের সুবিধা পেয়েছে। ১৩ কিলোমিটার লম্বা খালের সুবিধা বহু মানুষ পাবে, শুধু কৃষক ভাইয়েরা না, খালের দুই পাশে যারা থাকে তারাও পানির সুবিধা পাবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বাংলাদেশের মাটি এত উর্বর করে দিয়েছেন যে আমরা যদি সময়মতন পানি দিতে পারি তাহলে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে এখানে ফসল পড়ে।

ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতিও আমরা নির্বাচনের আগে এই দেশের মানুষের কাছে দিয়েছিলাম। বিএনপি ১২ তারিখের নির্বাচনে যদি আপনাদের সহযোগিতায় আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করে, ইনশাআল্লাহ আমরা দেশের চার কোটি পরিবার রয়েছে, ধীরে ধীরে আমরা এই পরিবারের যারা মায়েরা আছে, গৃহিণীরা আছে, তাদেরকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এক এক করে পৌঁছে দেব এবং সেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা আড়াই হাজার টাকা প্রতি মাসে আমরা মায়েদের হাতে তুলে দেব। যাতে করে সেই মায়েরা শিশুদের লেখাপড়া বলেন, স্বাস্থ্য বলেন, সবকিছু ঠিকভাবে যত্ন নিতে পারে। ধীরে ধীরে যাতে মায়েরা ছোট ছোট ব্যবসা-বাণিজ্য করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে উঠতে পারে। কারণ মা যদি শিক্ষিত হয় পরিবার শিক্ষিত হয়। মা যদি স্বাবলম্বী হয় একই সাথে পরিবারের সকল সদস্য ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়।

May be an image of one or more people and text that says 'তোনাত 백시 মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, চয়ারম্যান, বাংলাজে মোঃ হসদ সদস্য ২৬৪ সদস্য, জাতী আয়োজনে: ශූ উপজে'

বরাদ্দ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেই বাজেট চলছে এটি তো বিএনপি সরকারের বাজেট না। এটি বিএনপি সরকারের আগে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল তাদের করে যাওয়া বাজেট এবং সেই বাজেটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের কোন টাকা দেওয়া ছিল না। সেই বাজেটের মধ্যে কৃষক কার্ডের জন্য কোন টাকা দেওয়া ছিল না। সেই জন্য ইনশাআল্লাহ এবার আপনাদের সরকারের বিএনপি সরকার বাজেট তৈরি করছে এবং সেই বাজেটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে, কৃষক কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে কৃষক ভাইদের জন্য।

কৃষক কার্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রতিবছর যাতে কৃষক ভাইদের যে সার, কীটনাশক, যেসব বীজ, ফসলের বীজ এগুলো কিনতে যেই টাকাটির প্রয়োজন তার একটি অংশ আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ভাইদের হাতে পৌঁছে দেব।

নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচিকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব এবং ইনশাআল্লাহ আমরা এই যে মেয়েদেরকে শিক্ষা ব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি আছে, এটাকে আমরা ডিগ্রি বা স্নাতক পর্যন্ত আমরা ইনশাআল্লাহ ফ্রি করব। শুধু তাই নয়, যে সকল মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করবে ইনশাআল্লাহ তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব।

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়তে চাই, তাহলে এই নারীদেরকে যদি আমরা স্বাবলম্বী না করি, শিক্ষিত না করি, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না করি তাহলে আমাদের এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না।

বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই আমাদের দেশের তরুণদেরকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং দিতে, যাতে করে তারা দেশে কোন একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে অথবা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য তৈরি করতে পারে। যাতে করে দরকার হলে তারা বিদেশেও যেতে পারে এবং বিদেশে যাতে ভালো চাকরির ব্যবস্থা করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এখন যে রকম অদক্ষ শ্রমিক যায়, আমরা চাই আমাদের শ্রমিকদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে যাতে বিদেশে গিয়ে তারা বেশি ইনকাম করতে পারে, যাতে করে তারা বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাতে পারে।

May be an image of clarinet and crowd

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, এই এলাকার সন্তান চাঁদপুরের সন্তানই হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী। আপনাদের সামনে শিক্ষামন্ত্রীকে আমি এখনই বলে যাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব সেই টেকনিক্যাল কলেজের ব্যাপারে যাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, এই খাল (খোর্দ্দ খাল) যদি খনন না করি, কৃষক ভাইয়েরা কি পানি পাবে? পাবে না। কাজেই খাল খনন করলে কৃষক ভাইয়েরা পানি পাবে। ঠিক একইভাবে আমরা যদি হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি একসঙ্গে কাজ করে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবো।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যেরকম নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ অতীতে সবসময় দেখা গিয়েছে বিএনপি যে সকল প্রতিশ্রুতি জনগণকে দেয়; বিএনপি দেশ পরিচালনা করার সময় আস্তে আস্তে সবগুলো প্রতিশ্রুতি তারা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। কাজেই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব। বিএনপির শক্তির উৎস কারা? বিএনপি শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ। সেজন্যই আমরা বলি, সেজন্যই আমরা যারা বিএনপি করি, সেজন্যই আমরা যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা দল করেছি, আমরা সকলে বলি— জনগণই হচ্ছে আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। আপনাদের শক্তি হচ্ছে আমাদের শক্তি। আপনাদের সমর্থন আপনারা যতক্ষণ আমাদের পাশে থাকবে, আপনাদের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে আমাদের দেশ করার কাজ ইনশল্লাহ চলতে থাকবে।

‘করব কাজ, সবার আগে’ স্লোগান তুলে উপস্থিত জনতাকে দেশ গড়ার শপথ নিতে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন স্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর খালের তীরে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন এবং খালের তীরে বৃক্ষরোপণ করেন।

এ সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোমিনুল হক, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সলিম উল্যা সেলিম, শাহরাস্তি উপজেলা সভাপতি আয়াত আলী ভূঁইয়া ও সহসভাপতি আবু ইউসুফ রুপম উপস্থিত ছিলেন।