Dhaka বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবরার ফাহাদের ভাইয়ের অভিযোগের জবাব দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৮ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি করেছেন ছাত্রলীগের হাতে নিহত আবরার ফাহাদের ভাই আবরার ফাইয়াজ। পরে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন নাসীরুদ্দীন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বুয়েটে তারাবির নামাজ পড়তে যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তার উপস্থিতিতে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আবরার ফাইয়াজসহ বুয়েট শিক্ষার্থীরা।

ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আবরার ফাহাদের ভাই বলেন, বুয়েটের আজকের এই ছাত্র-রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস দুইটা জীবনের বিনিময়ে পাওয়া, শত শত পোলাপানের নিজেদের ক্যারিয়ারের চিন্তা না করে দিন-রাত এক করে দেওয়া শ্রমের ফল। আমি জানি না নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ভাই জানতেন কি না যে বুয়েট এরিয়া কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের জায়গা না। উনার এখানে এসে লাভ কী হলো তাও জানি না।

আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও লিখেছেন, কিন্তু উনি এসে ঠিক কতটা ক্ষতি যে আমাদের করলেন, তা বুঝতে দীর্ঘ সময় লাগবে। অবশ্যই নামাজ পড়তে আসা সমস্যা না, কিন্তু নামাজের পরে স্লোগান বা মিছিল তো দেশের যেকোনো মসজিদেই ঘোষণা দিয়ে গেলে হবে।

আবরার ফাইয়াজসহ বুয়েট শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফেসবুকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, আজ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)–এর কয়েকজন ভাইয়ের আমন্ত্রণে সেখানে তারাবির নামাজ আদায় করতে যাই। নামাজে যাওয়ার পর একজন এসে জানান, অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের বক্তব্য দেয়া যাবে না। আমি সঙ্গে সঙ্গে তা মেনে নিয়ে বলি, তারাবির নামাজ আদায় করে চলে যাবো।

ঘটনার বর্ণনায় তিনি আরও লিখেছেন, নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় আবারও আমাকে কিছু না বলার জন্য স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় এবং মিডিয়া ব্রিফিং না করার অনুরোধ জানানো হয়। আমি সেটিও সম্মানের সাথে গ্রহণ করি। সেখানে আমি শুধু শহীদ আবরার ফাহাদ এবং শহীদ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করি। পরবর্তীতে পলাশীতে এসে প্রেস ব্রিফিং করি এবং সবার সঙ্গে কথা বলি। এ সময় কয়েকজন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিলে আমি নিজেই তাদের থামিয়ে দেই।’

পোস্টে নাসীরুদ্দীন আরও লিখেন, অরাজনৈতিক বুয়েটের সিদ্ধান্তকে আমি সর্বোচ্চ সম্মান করি এবং আমার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। শুনলাম আমার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল হবে, স্বাগতম। উপরে বর্ণিত কাজগুলো যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তবে আপনারা শাস্তি দিতে পারেন। আমার শির আপনাদের আদালতে নত। সবাই দোয়ায় রাখবেন। মা’আসসালাম।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আবরার ফাহাদের ভাইয়ের অভিযোগের জবাব দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

প্রকাশের সময় : ১২:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি করেছেন ছাত্রলীগের হাতে নিহত আবরার ফাহাদের ভাই আবরার ফাইয়াজ। পরে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন নাসীরুদ্দীন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বুয়েটে তারাবির নামাজ পড়তে যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তার উপস্থিতিতে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আবরার ফাইয়াজসহ বুয়েট শিক্ষার্থীরা।

ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আবরার ফাহাদের ভাই বলেন, বুয়েটের আজকের এই ছাত্র-রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস দুইটা জীবনের বিনিময়ে পাওয়া, শত শত পোলাপানের নিজেদের ক্যারিয়ারের চিন্তা না করে দিন-রাত এক করে দেওয়া শ্রমের ফল। আমি জানি না নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ভাই জানতেন কি না যে বুয়েট এরিয়া কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের জায়গা না। উনার এখানে এসে লাভ কী হলো তাও জানি না।

আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও লিখেছেন, কিন্তু উনি এসে ঠিক কতটা ক্ষতি যে আমাদের করলেন, তা বুঝতে দীর্ঘ সময় লাগবে। অবশ্যই নামাজ পড়তে আসা সমস্যা না, কিন্তু নামাজের পরে স্লোগান বা মিছিল তো দেশের যেকোনো মসজিদেই ঘোষণা দিয়ে গেলে হবে।

আবরার ফাইয়াজসহ বুয়েট শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফেসবুকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, আজ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)–এর কয়েকজন ভাইয়ের আমন্ত্রণে সেখানে তারাবির নামাজ আদায় করতে যাই। নামাজে যাওয়ার পর একজন এসে জানান, অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের বক্তব্য দেয়া যাবে না। আমি সঙ্গে সঙ্গে তা মেনে নিয়ে বলি, তারাবির নামাজ আদায় করে চলে যাবো।

ঘটনার বর্ণনায় তিনি আরও লিখেছেন, নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় আবারও আমাকে কিছু না বলার জন্য স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় এবং মিডিয়া ব্রিফিং না করার অনুরোধ জানানো হয়। আমি সেটিও সম্মানের সাথে গ্রহণ করি। সেখানে আমি শুধু শহীদ আবরার ফাহাদ এবং শহীদ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করি। পরবর্তীতে পলাশীতে এসে প্রেস ব্রিফিং করি এবং সবার সঙ্গে কথা বলি। এ সময় কয়েকজন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিলে আমি নিজেই তাদের থামিয়ে দেই।’

পোস্টে নাসীরুদ্দীন আরও লিখেন, অরাজনৈতিক বুয়েটের সিদ্ধান্তকে আমি সর্বোচ্চ সম্মান করি এবং আমার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। শুনলাম আমার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল হবে, স্বাগতম। উপরে বর্ণিত কাজগুলো যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তবে আপনারা শাস্তি দিতে পারেন। আমার শির আপনাদের আদালতে নত। সবাই দোয়ায় রাখবেন। মা’আসসালাম।