কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
উন্নয়নে বিএনপি সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রাজপথে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাদের বিষয়েও সর্তক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পৌঁছে পাকুন্দিয়ায় প্রথম কর্মসূচিতে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশে এই আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। এই সমর্থন দিয়ে আপনারা আস্থা রেখেছিলেন বিএনপির ওপরে। পরিষ্কারভাবে আমি বলে দিতে চাই, ইনশাআল্লাহ আপনারা আস্থা ধরে রাখুন… বিএনপি আপনাদের সাথে ছিল, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের সাথে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের জন্যই কাজ করবে, যতদিন বিএনপি টিকে থাকবে ইনশাআল্লাহ। দেশ এবং জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না।
বিশৃঙ্খলাকারীদের বিষয়ে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন,কিছু সংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায় রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের চাকরি বাকরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের জীবনযাপত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু উপকৃত হয় সেই সকল বিশৃঙ্খলাকারী।
তিনি বলেন, আজকে শপথ গ্রহণ করি, সকলে প্রতিজ্ঞা করি যে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, তাদেরকে জনগণ জনগণের সকল শক্তি নিয়ে তাদেরকে প্রতিরোধ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন দেশের মানুষ শান্তি চায়, দেশের মানুষ এখন আইনের শাসন চায়,কর্মসংস্থান চায়, সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়,পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চায়… এই কাজগুলো যদি করতে হয় আমাদেরকে তাহলে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সাথে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে তাদের ব্যাপারে।আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি ওয়েলফেয়ার স্টেট গঠন করা, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা এবং সে কারণে আমরা কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা শুরু করেছি। যা আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরেছি। এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন যে এই পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। তাই তো নাকি? ঠিক। আপনাদেরকে বলতে চাই, আপনারা যে সমর্থন দিয়েছিলেন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে, সেই সমর্থনের উপরে আপনারা আস্থা ধরে রাখুন।
যেকোনো সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যারা দেশের মানুষের বিরুদ্ধে কথা বলবে, জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপে বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, এখন সময় রাষ্ট্র মেরামতের, দেশ পুনর্গঠনের। আপনারা নির্বাচনের সময় যে সমর্থন দিয়েছেন, সেই আস্থার ওপর ভরসা রাখুন। আপনাদের নির্বাচিত দল বিএনপি অতীত ও বর্তমানে জনগণের স্বার্থে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না।
দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার সরকার দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সব ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে পালিয়েছে। তাদের অপরিকল্পিত মেগা প্ল্যানের কারণেই আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই চরম সংকট। তবে আগামী ২৭ তারিখে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ১০ বছরে কীভাবে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা হবে, তার একটি মাস্টারপ্ল্যান জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করতে দেশের ৪ কোটি পরিবারের প্রধান নারীর হাতে পর্যায়ক্রমিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। আজ এই জেলা থেকেই ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকদের বছরে আর্থিক সহযোগিতা এবং সহজে সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে।
আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় গুরুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাজের আলেম সমাজ, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দর নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নারীদের নিয়ে সরকার প্রধান বলেন, নারী সমাজকে পেছনে ফেলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেওয়া হবে। এর সব খরচ সরকার বহন করবে। ভালো ফল অর্জনকারী ছাত্রীদের সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় পুরস্কৃত করা হবে।
পাশাপাশি গ্রামের দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নতুন বইয়ের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে বছরে অন্তত একবার নতুন স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে তারা খাল খননের কর্মসূচি শুরুর কথা বলেছিলেন। সরকার গঠনের পর আল্লাহর রহমতে সারা দেশে খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। পাশাপাশি খালের আশপাশের এলাকার মানুষও পানির সুবিধা পাচ্ছেন।
তারেক রহমান বলেন, শুধু খাল খনন করলেই হবে না, খালের পানি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। কৃষিতে সেচ সুবিধার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বাড়াতেও এসব জলাশয় কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, আজ ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন নদী ও বড় বড় খালে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে মাছ আহরণের মাধ্যমে দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণে সহায়তা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। পাকুন্দিয়ার কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন কটিয়াদি কার্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শনে।
পাকুন্দিয়ার কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদি কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন যান। সেখান থেকে দুপুরে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে গিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি জাতীয় মৎস্যপদক বিতরণ করবেন তিনি।
এদিন সরকারপ্রধানের আরও দুটি কর্মসূচি রয়েছে: শোলাকিয়া মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 


















