বিগত বছরে গুম নির্যাতনের শিকার পরিবারকে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

গত ১৮ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারকে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের সংকট সমাধানে সরকারকে সময় দিতে হবে। সরকার এক মুহূর্তের জন্যও বসে নেই। দেশ পুনর্গঠন ও সংস্কারের কাজ চলছে। দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে এবং ধৈর্য ধরতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, নির্যাতিতদের পরিবারগুলোর জন্য সরকার কিছু করতে চায়। গত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারকে মূল্যায়নের জন্য নতুন করে একটি অধিদপ্তর করা হবে এবং তাদের গেজেটভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা গ্যাজেটভুক্ত হওয়ার কথা…অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় তড়িঘড়ি করে সেটা ক্লোজ করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা বঞ্চিতদের মূল্যায়ন করতে সেটা আবার ওপেন করেছি। মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বিএনপির অনেক লোককে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি যাদের বঞ্চিত করেছে, আমরা তাদেরকে মূল্যায়ন করব।

আহমেদ আজম খান বলেন, খালেদা জিয়া জীবিতকালে যেমন ইতিহাস ছিলেন, মৃত্যুর পরও ইতিহাস হয়ে আছেন। দেড় কোটির বেশি মানুষ তার জানাযায় উপস্থিত হয়েছেন। ১০ কোটির বেশি মানুষ টিভিতে জানাজা দেখেছেন। আর ১৫ কোটি মানুষ ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলেছেন। এমন জনপ্রিয়তা পৃথিবীর ইতিহাসে একটা বিরল ঘটনা। যতবার নির্বাচনে এসেছেন, তিনি ততবারই মানুষের ভালোবাসা পেয়ে নির্বাচিত হলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে আহমেদ আযম খান বলেন, অনেক প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা আন্দোলনে অংশ নিয়েও গেজেটভুক্ত হননি। তাদের গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া আবারও উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃত জুলাই যোদ্ধারা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের গেজেটভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া গত ১৮ বছরে হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার বিএনপির নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের মূল্যায়নের জন্য নতুন একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান গ্যাস, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটকে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ বিরোধী দল এই পাঁচ মাসেই বলছেন আমরা ব্যর্থ। অথচ ১৮ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করা তো ১৮ মাসেও সম্ভব নয়। আজকের বিদুৎ, গ্যাস ও অর্থনৈতিক সংকট এগুলো কি আমাদের তৈরি? এগুলো ফ্যাসিবাদী সরকারের তৈরি।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদ্ধপরিকর যে, এ দেশকে বিনির্মাণ করবেন। কিন্তু যারা নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে তাদের বলব, আপনারা আওয়ামী রেজিমে যাবেন না।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর এই দেশ বিনির্মাণে নেতৃত্বে আসা একজন ব্যক্তির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল, তবে তিনিও যেমন নিন্দিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন, তার কন্যাও তেমন নিন্দিত, ফ্যাসিবাদী হয়ে বিদায় নিয়েছেন। অপরদিকে আরেকটি পরিবার জিয়াউর রহমান নিজের জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আরাম করে জীবন উপভোগ করেননি, লড়াই করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি ভগ্ন বাহিনীকে নতুন করে গঠন করেছেন। যার প্রতি মানুষের আশা থাকবার কথা ছিল না, তার জীবনের কর্ম দিয়ে মানুষের মনে আশা জাগিয়েছেন।

দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, লবিং, গ্রুপিং ও দলাদলি ভুলে যেতে হবে। মতভেদ হলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।

সভায় সংগঠনের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলনসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সবার সহায়তায় বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট দূর হবে : চিফ হুইপ

বিগত বছরে গুম নির্যাতনের শিকার পরিবারকে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

গত ১৮ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারকে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের সংকট সমাধানে সরকারকে সময় দিতে হবে। সরকার এক মুহূর্তের জন্যও বসে নেই। দেশ পুনর্গঠন ও সংস্কারের কাজ চলছে। দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে এবং ধৈর্য ধরতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, নির্যাতিতদের পরিবারগুলোর জন্য সরকার কিছু করতে চায়। গত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারকে মূল্যায়নের জন্য নতুন করে একটি অধিদপ্তর করা হবে এবং তাদের গেজেটভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা গ্যাজেটভুক্ত হওয়ার কথা…অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় তড়িঘড়ি করে সেটা ক্লোজ করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা বঞ্চিতদের মূল্যায়ন করতে সেটা আবার ওপেন করেছি। মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বিএনপির অনেক লোককে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি যাদের বঞ্চিত করেছে, আমরা তাদেরকে মূল্যায়ন করব।

আহমেদ আজম খান বলেন, খালেদা জিয়া জীবিতকালে যেমন ইতিহাস ছিলেন, মৃত্যুর পরও ইতিহাস হয়ে আছেন। দেড় কোটির বেশি মানুষ তার জানাযায় উপস্থিত হয়েছেন। ১০ কোটির বেশি মানুষ টিভিতে জানাজা দেখেছেন। আর ১৫ কোটি মানুষ ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলেছেন। এমন জনপ্রিয়তা পৃথিবীর ইতিহাসে একটা বিরল ঘটনা। যতবার নির্বাচনে এসেছেন, তিনি ততবারই মানুষের ভালোবাসা পেয়ে নির্বাচিত হলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে আহমেদ আযম খান বলেন, অনেক প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা আন্দোলনে অংশ নিয়েও গেজেটভুক্ত হননি। তাদের গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া আবারও উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃত জুলাই যোদ্ধারা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের গেজেটভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া গত ১৮ বছরে হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার বিএনপির নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের মূল্যায়নের জন্য নতুন একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান গ্যাস, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটকে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ বিরোধী দল এই পাঁচ মাসেই বলছেন আমরা ব্যর্থ। অথচ ১৮ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করা তো ১৮ মাসেও সম্ভব নয়। আজকের বিদুৎ, গ্যাস ও অর্থনৈতিক সংকট এগুলো কি আমাদের তৈরি? এগুলো ফ্যাসিবাদী সরকারের তৈরি।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদ্ধপরিকর যে, এ দেশকে বিনির্মাণ করবেন। কিন্তু যারা নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে তাদের বলব, আপনারা আওয়ামী রেজিমে যাবেন না।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর এই দেশ বিনির্মাণে নেতৃত্বে আসা একজন ব্যক্তির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল, তবে তিনিও যেমন নিন্দিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন, তার কন্যাও তেমন নিন্দিত, ফ্যাসিবাদী হয়ে বিদায় নিয়েছেন। অপরদিকে আরেকটি পরিবার জিয়াউর রহমান নিজের জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আরাম করে জীবন উপভোগ করেননি, লড়াই করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি ভগ্ন বাহিনীকে নতুন করে গঠন করেছেন। যার প্রতি মানুষের আশা থাকবার কথা ছিল না, তার জীবনের কর্ম দিয়ে মানুষের মনে আশা জাগিয়েছেন।

দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, লবিং, গ্রুপিং ও দলাদলি ভুলে যেতে হবে। মতভেদ হলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।

সভায় সংগঠনের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলনসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।