নিজস্ব প্রতিবেদক :
জুলাই সনদ নিয়ে জনগণকে ভুল বোঝানো হচ্ছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখন যে ভাষায় বিরোধীদলীয় নেতারা কথা বলছেন, ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেবো না। ঠিক এমনই কথা বলতেন শেখ হাসিনাও।
সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সেই পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় জুলাই সনদ প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে।
জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কখনোই সংস্কারবিরোধী নয়। বরং দলটি সবসময় প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি, জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করেনি।তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি অনাগ্রহী– এ ধরনের প্রচারণা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন—‘পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেবো না’ ঠিক একই ধরনের কথা একসময় শেখ হাসিনাও বলতেন। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগও বলেছিল, সরকারকে একটি মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেবে না। এখন বিরোধীদলীয় নেতাদের বক্তব্যেও সেই একই ভাষার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায় না এমন ধারণা তৈরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তার দাবি, ঐকমত্য কমিশন গণভোটের একটি প্রশ্ন চাপিয়ে দিয়েছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। বিএনপি যেসব বিষয়ে একমত নয়, সেগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। তবে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অংশ বাস্তবায়নে দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, রাজপথে আন্দোলন করা বিরোধীদলের সাংবিধানিক অধিকার। তবে সেই আন্দোলন যেন কোনোভাবেই সংঘাতের দিকে না যায়। সংস্কার কমিটি হবে নাকি সংশোধন পরিষদ—এ ধরনের বিষয় সংসদে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেটি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। সেখানে আলোচনা শেষে একমত না হলে বিরোধিতা করা যেতে পারে। কিন্তু এখন যেভাবে বিরোধী দলের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন, তাতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভাষার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব সরকারের সমালোচনা করা এবং ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা। তবে সেই সমালোচনা গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। রাস্তায় আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেটি যেন কোনোভাবেই সংঘাতের দিকে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে মিডিয়ার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। বিএনপির ভেতরে কোনো গ্রুপিং নেই বলেও দাবি করেন তিনি। বরং সাংবাদিকদের মধ্যেই বিভাজন তৈরি করে একে অন্যকে সরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সংস্কার নাকি সংশোধন এ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এসব বিষয়ে সংসদেই আলোচনা হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।
সরকারের মেয়াদ মাত্র পাঁচ মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত অল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় ও সহযোগিতা দিলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হবে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবার ও সন্তানদের রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখভালের বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দেবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















