নিজস্ব প্রতিবেদক :
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, বিশেষ অধিবেশন ডেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আগের রাষ্ট্রপতির মামলা নিয়ে এখনই মন্তব্য নয়। চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আহত ৮ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা যদি মিথ্যা হয়, তাহলে তা প্রত্যাহার করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে এক্সট্রা কিলিং শূন্যের কোটায়। এছাড়া যত বড় রাজনৈতিক নেতাই হোক না কেন, ধর্ষণের মামলা প্রত্যাহার করা হবে না।
কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময়ই বলে দেবে।
তিনি বলেন, সংবিধানের ১২৩ এর (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে পদত্যাগের মধ্যে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। গতকাল ছিল ২৪ জুলাই, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় আছে। সুতরাং বিশেষ অধিবেশন ডাকার মত কোনো পরিস্থিতি এখন তৈরি হয়নি। যেহেতু ১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা সাংবিধানিকভাবে; আশা করি, সেই অধিবেশনে এটা করা সম্ভব হবে।
আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে এক সাংবাদিক বলেন, তারা শনিবার জানতে পেরেছেন যে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে ঢাকার একটি আদালতে। উনি শুক্রবার বলেছিলেন যে আর্টিকেল ৫১ অনুযায়ী উনার বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। কিন্তু উনার অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য এই মামলাটি হয়েছে। এক্ষেত্রে এই মামলাটি কি বিচার্য হবে, ব্যাখ্যা কী?
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, যখন ব্যাখ্যার প্রয়োজন আসবে, তখন ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে।
তখন আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন রাখেন, পদত্যাগী মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন, তখন অনেকে মারা গেছেন, সেক্ষেত্রে উনাকে দায়ী করা যাবে কি না?
এ প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, না, রাষ্ট্রপতিকে এখানে প্রটেকশন দেওয়া আছে; এটাতে রাষ্ট্রপতি প্রটেক্টেড।
এক সাংবাদিক বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে যে অভিযোগগুলো আছে…
এ কথা শুনে আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব; সময় হলে দেখব।
তখন এক সাংবাদিক বলেন, এমনে হওয়ার সুযোগ আছে কি না?
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এইটা যারা (মামলা) করেছেন, কী উদ্দেশ্যে করেছেন; তাদের উদ্দেশ্য কি সৎ, নাকি অসৎ—এগুলো দেখি।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
মো. সাহাবুদ্দিনের প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকাল ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল সময়। তার মেয়াদকালেই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল শেষ হলে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সময়ের মধ্যে তিনি তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান, যা দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















