নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের অন্যতম উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আকাশপথে সফল যাত্রার এক যুগ পার করেছে শুক্রবার (১৭ জুলাই)। এয়ারলাইন্সটি ১৩ বছরে পা দিয়েই আগামী চার বছরের মধ্যে ইউরোপ-আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার আকাশে ডানা মেলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-যশোর রুটে ফ্লাইট চালানোর মাধ্যমে আকাশপথে যাত্রা শুরু করেছিল এই এয়ারলাইন্স। এর দুই বছরের মধ্যেই ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট চালানোর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আকাশে ডানা মেলে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে বহরে ৩টি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০, ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০-সহ মোট ২৫টি এয়ারক্র্যাফট নিয়ে অভ্যন্তরীণ রুট ছাড়াও আন্তর্জাতিক ১৪ রুটে ফ্লাইট চালাচ্ছে এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানটি।
ইউএস-বাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী বছরের মধ্যেই বজরে বোয়িংয়ের আরও ২১টি এয়ারক্রাফট যুক্ত হচ্ছে। এরমধ্যে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ নেক্সট জেনারেশন এয়ারক্রাফট রয়েছে। এরপরই আগামী বছর থেকে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কলম্বো, মালয়েশিয়ার জহুরবারু, পেনাং ও হংকং রুটে ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে লন্ডন, রোমসহ ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্য এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক, টরেন্টো এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
যুগপূর্তি উপলক্ষ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা যেকোনো ধরনের প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। ইউএস-বাংলা যাত্রীদের আরামদায়ক সেবাকে নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করে চলেছে।’
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাধীনতার পর ইউএস-বাংলা প্রথম কোনো দেশীয় বিমান সংস্থা যা, চীনের কোনো গন্তব্যে, ভারতের চেন্নাই এবং মালদ্বীপের রাজধানী মালে সরাসরি ফ্লাইট চালাচ্ছে। আগামী হজ মৌসুম থেকে জনপ্রতি হজযাত্রী ট্যাক্সেস, চার্জেস ও এজেন্সি কমিশন ছাড়া মাত্র ৯৮ হাজার টাকায় হজ ফ্লাইট পরিচালনার ইচ্ছাও রয়েছে। এরই মধ্যে সরকারের কাছে আবেদনও করা হয়েছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র মো. কামরুল ইসলাম জানান, যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯০ ভাগের বেশি অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড অর্জন করেছেন তারা। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণের পর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারি দিচ্ছেন। যা এভিয়েশন খাতে উদাহরণের সৃষ্টি হয়েছে।’
‘ইউএস-বাংলা শুধু যাত্রীই পরিবহন করে না, সঙ্গে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্গোও পরিবহন করে থাকে’ যোগ করেন তিনি।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্সে ভূষিত হয়েছে ইউএস-বাংলা। এর আগের ৩ বছরও বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্স পুরষ্কারও রয়েছে ইউএস-বাংলার ঝুলিতে। যাত্রীসেবায় অনন্য নজির স্থাপন করা প্রতিষ্ঠানটি দেশ-বিদেশে অন্তত চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। নিয়মিত ট্যাক্স-সারচার্জ পরিশোধ করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে ইউএস-বাংলা দেশের অর্থনীতিকে আরও সুদৃঢ় করে চলেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















