৫ আগস্টের মধ্যেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন : সংস্কৃতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেন, জুলাই জাদুঘর এখনো উদ্বোধন হচ্ছে না কেন। ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার যে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, সেই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই এ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য, গভীরতা ও ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে আমরা জাদুঘর পরিচালনার জন্য নতুন আইন প্রণয়ন এবং পরিচালনা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। গেজেট প্রকাশ, পরিচালনা কমিটি গঠন এবং জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লেগেছে। ইতোমধ্যে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করা হবে।

তবে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করে মন্ত্রী বলেন, অতি দ্রুতই জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে। জাদুঘর নির্মাণে ১১৫ কোটি টাকা ব্যয় এবং সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করব। আমরা ক্ষমতায় এসেছি মাত্র কয়েক মাস। আমাদের সময়ে নতুন কোনো নিয়োগ বা অতিরিক্ত উন্নয়নকাজ হয়নি। যদি আগে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকে এবং সে বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের সরকারের লক্ষ্য শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দুঃশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। দীর্ঘ ১৮ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই আমরা এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান পেয়েছি। এই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা, ব্যাপকতা এবং এর মূল তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেই অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নিতাই রায় চৌধুরী দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রকল্পকে আরও নিখুঁত ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন ও আইনি পরিমার্জন আনা হয়েছে।

জাদুঘর উদ্বোধনে বিলম্ব এবং ব্যয় সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্টতার সঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, জাদুঘর পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালককে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর পরিচালনায় স্থায়ী জনবল কাঠামো ও সুনির্দিষ্ট অর্গানোগ্রাম প্রয়োজন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের আইনি অনুমতি ও বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় ব্যয় হয়েছে। নির্মাণ ও সংস্কার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পথে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

ডা. জাহেদ জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিশেষ কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও স্পিরিট মানুষের হৃদয়ে জাগিয়ে রাখতে এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ১৫ জুলাই থেকে আমাদের অধীনস্থ সকল প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।’

তিনি বলেন, ‘১৫ জুলাই আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। কারণ ১৪ জুলাই রাত ১২টার পর ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসে এবং ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ১৬ জুলাইয়ের মহান আত্মত্যাগের মিছিলকে তরান্বিত করে।’

এই ল্যান্ডমার্ক দিনগুলোর চেতনা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং অনুষ্ঠানমালার প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন ডা. জাহেদ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বগুড়ায় ৬৫ লাখ টাকার সড়ক সপ্তাহ টেকেনি, হাতের টানে উঠছে কার্পেটিং

৫ আগস্টের মধ্যেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন : সংস্কৃতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৩০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেন, জুলাই জাদুঘর এখনো উদ্বোধন হচ্ছে না কেন। ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার যে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, সেই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই এ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য, গভীরতা ও ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে আমরা জাদুঘর পরিচালনার জন্য নতুন আইন প্রণয়ন এবং পরিচালনা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। গেজেট প্রকাশ, পরিচালনা কমিটি গঠন এবং জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লেগেছে। ইতোমধ্যে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করা হবে।

তবে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করে মন্ত্রী বলেন, অতি দ্রুতই জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে। জাদুঘর নির্মাণে ১১৫ কোটি টাকা ব্যয় এবং সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করব। আমরা ক্ষমতায় এসেছি মাত্র কয়েক মাস। আমাদের সময়ে নতুন কোনো নিয়োগ বা অতিরিক্ত উন্নয়নকাজ হয়নি। যদি আগে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকে এবং সে বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের সরকারের লক্ষ্য শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দুঃশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। দীর্ঘ ১৮ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই আমরা এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান পেয়েছি। এই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা, ব্যাপকতা এবং এর মূল তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেই অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নিতাই রায় চৌধুরী দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রকল্পকে আরও নিখুঁত ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন ও আইনি পরিমার্জন আনা হয়েছে।

জাদুঘর উদ্বোধনে বিলম্ব এবং ব্যয় সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্টতার সঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, জাদুঘর পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালককে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর পরিচালনায় স্থায়ী জনবল কাঠামো ও সুনির্দিষ্ট অর্গানোগ্রাম প্রয়োজন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের আইনি অনুমতি ও বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় ব্যয় হয়েছে। নির্মাণ ও সংস্কার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পথে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

ডা. জাহেদ জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিশেষ কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও স্পিরিট মানুষের হৃদয়ে জাগিয়ে রাখতে এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ১৫ জুলাই থেকে আমাদের অধীনস্থ সকল প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।’

তিনি বলেন, ‘১৫ জুলাই আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। কারণ ১৪ জুলাই রাত ১২টার পর ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসে এবং ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ১৬ জুলাইয়ের মহান আত্মত্যাগের মিছিলকে তরান্বিত করে।’

এই ল্যান্ডমার্ক দিনগুলোর চেতনা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং অনুষ্ঠানমালার প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন ডা. জাহেদ।