শেখ হাসিনা ফিরলে তাকে স্বাগত জানাবো : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনাকে ফেরা নিয়ে সরকার বিষয়টাকে কিভাবে দেখচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, উনার আসার ব্যাপারে আমরা যেহেতু চেষ্টা করছি উনি যদি আসেন আমরা তাকে স্বাগত জানাব। আমরা কিন্তু শুরু থেকে একটা কথা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি বলে অনেকে একবার ফটো কাট করে বলবেন আমরা ওনাকে খুব স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা জাস্টিস আবার ওই কথাটা আগে একদিন বলেছিলাম তার জন্য জাস্টিস নিশ্চিত করতে চাই। তার মৃত্যুদন্ড হয়েছে তিনি আসবেন তিনি আসলে তাকে আমরা যদি প্রত্যারণ করে আনতে পারি আমরা তো সেই চেষ্টাই করছি।

তিনি বলেন, উনি আসলে তো আমাদের সাথে দুই পক্ষে যোগাযোগ হয়ে যদি আসে ফাইন। উনি মামলা ফেস করবেন, মামলার জন্য আইসিটিতে এখন বিদেশী লয়ার আনারও স্কোপ আছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম লয়ার তিনি আনুন। তিনি তাকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করুন। ওখানে অবজার্ভার রাখা যায় ওখানে ভিডিও ক্যামেরা রাখা যায় এতটাই আধুনিক করা হয়েছে ইন্টারিমের সময় এই আইসিটি আইনকে একেবারে স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে সব প্রসেস চলবে। এই দেশের জনগণ যেটা চায় তিনি যে অপরাধ করেছেন যে মৃত্যুদণ্ড আছে সেটা যেন বহাল থাকে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে সেটাও জনগণ দেখতে চায়।
তিনি বলেন, আবার বলছি আমরা তো আদালতে গেছি। আদালতে তিনি যদি প্রমাণ করতে পারেন তিনি অপরাধী নন। আদালত যদি শেষ পর্যন্ত তাকে অন্য কোন শাস্তি দেয় অথবা তাকে খালাস দেয়। সেটাও হবে। সো জাস্টিস এভাবেই হতে হয়। সেজন্য আসছে। সেজন্যই বলছি এটা। আমরা এই কারণে ওয়েলকাম করি। কারণ আমরা জাস্টিস নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের সবচেয়ে বড় যে আমাদের এই রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে ফেলেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি তাকেও আমরা জাস্টিস দিতে চাই।

জাহেদ উর বলেন, আর জিওপলিটিক্যালি এটা কোন ইস্যু বলে আমি মনে করি না। আসলে ওই যে এইযে দেখুন আমরা এতক্ষণ আলোচনা করছি একেবারে অপ্রাসঙ্গিক একজন মানুষ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। এইযে উনি প্রাসঙ্গিক হলেন এই যে কথাবার্তা বিভিন্ন জায়গায় হলো উনার কোন না কোন ভাবে। কারণ উনার কোন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে আছে বলে আমি শুধু আমার কথা বলছি না। আমি ইভেন যারা আওয়ামী লীগের প্রতিও কিছু সিম্প্যাথাইজার।

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের চারপাশে পরিচিত মানুষ আছে তো তারাও মনে করেন না যে উনার কোন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আছে। সুতরাং এটাকে আমি কোন চাপ বা কোন প্রবলেমের কিছু বলে মনে করি না। উনি যদি আসেন আমরা তো চাপের প্রশ্ন কেন আমরা তো চাইছি উনি আসুন আমরা তো উনাকে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি প্রত্যারণ করার চেষ্টা করছি। যদি এমন হতো যেন আমরা চাইছি উনি ওখানেই থাকুন উনি এখন আসবেন বলে আমরা চাপে পড়ে গেছি ব্যাপারটা তার এইরকম এবং শুধু ইন্টারিম না এই সরকার গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কনফার্ম করেছেন এই সরকারও ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যাপন চেয়েছে সুতরাং যে সেটা বলায় আসলে চাপের কিছু নেই।

তিনি বলেন, উনি আসলে কিভাবে আসবেন প্রসেসটা ঠিক হয়ে যাবে। আমি জানিনা উনি কিভাবে কি করবেন। উনি ওখানে কিভাবে আছেন এগুলো ওই রাষ্ট্র জানেন, উনি যদি আসতে চান ওই রাষ্ট্র আমাদের রাষ্ট্রের সাথে কথাবার্তা বলে ব্যবস্থা করবেন। ওটা প্রসেস প্রসিটিউরাল ব্যাপার আটকে থাকবে না। সরকারের নীতিগত অবস্থাতে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। সরকার তার আসার ব্যাপারে তাকে আমরা জাস্টিসের অধীন করতে চাই। সুতরাং উনি যদি আসতে চান সরকার স্বাভাবিক যুক্তিতেই তাকে সাহায্য করার কথা।

জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার নিয়ে অনেকেই সরকারের অবস্থান জানতে চাইছেন। কিন্তু বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদালতের আদেশ। নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, এটি সরকার দেয়নি, আদালত দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাহলে আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। আদালত যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, তাহলে সেটি আর বহাল থাকবে না।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাস্তবতায় বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে আদালতের নির্দেশনা অমান্য না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সম্মান দেখানোই সবার দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিচার বিভাগের সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বিচারক ও আদালতের সংখ্যা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম। উচ্চ আদালতের কার্যক্রম ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়াসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের মধ্যে মূলত শব্দগত পার্থক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সংশোধনীর মাধ্যমেই রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে কতটুকু পরিবর্তন হবে এবং কোন কোন বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হবে, সেটিই মূল প্রশ্ন।

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন এবং এতে বিরোধী দলের সদস্যের নাম না থাকার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিরোধী দলের উচিত কমিটির আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং তাদের প্রস্তাব সংসদের ভেতরে তুলে ধরা।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার—এটি মূলত শব্দের বিষয়। আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কতটুকু পরিবর্তন করতে চাই। সংশোধনীর মাধ্যমেই সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

অতীতের বিভিন্ন সংশোধনীর উদাহরণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের বহু অংশে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়। পরে আদালতের রায়ে ওই সংশোধনীর কয়েকটি অংশ বাতিল হয়েছে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। দেশ সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় গেছে এবং পরে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে। ফলে সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

গণভোট প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে গণভোটের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়েও সাংবিধানিক বিতর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সংশোধনের মাধ্যমে অনেক কিছু পরিবর্তন করা যায়। প্রয়োজন হলে গণভোটের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে কিছু বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া হয়েছে—এমন যুক্তিও দেওয়া হচ্ছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিতর্ক এবং এ নিয়ে আলোচনা চলতে পারে।

জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে তারা জুলাই সনদের ভিত্তিতে কাজ করবে। তবে সনদের কিছু প্রস্তাবে দলটির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত ছিল এবং সেই অবস্থান তারা আগেই জনগণের কাছে তুলে ধরেছে।

উচ্চকক্ষ গঠনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সংসদে একটি উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সাধারণভাবে ঐকমত্য থাকলেও এটি কীভাবে গঠিত হবে, সে বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপিরও এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তারা আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের প্রস্তাব সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। সংসদে জনগণের সামনে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে তাদের প্রস্তাব গৃহীত না হলেও জনগণ তাদের বক্তব্য জানতে পারবে। জনগণ যদি সেই দাবিকে সমর্থন করে, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে। নির্বাচনি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এভাবেই কাজ করে।

বন্য পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ পর্যন্ত সাতটি জেলার ৫৯টি উপজেলা বন্যাকবলিত। বন্যায় ১ লাখ ৫৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৪ জন মানুষ বন্যায় মারা গেছেন।

প্রতিদিন ঢাকা শহরের প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আমিনবাজার ও দক্ষিণ সিটির মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করেছেন। রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বলা হয় চীনের সিএমইসি গ্রুপ আমিনবাজারে একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে।

তিনি বলেন, নগরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ক্লিন কেয়ার নামে একটি ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম মঙ্গলবার নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অ্যাপের উদ্বোধন করেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবে।

অন্যদিকে আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশ দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তার নির্দেশে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই এলাকায় বর্জ্য অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্নকরণ এবং মহাসড়কের দুই পাশে নিমগাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বগুড়ায় ৬৫ লাখ টাকার সড়ক সপ্তাহ টেকেনি, হাতের টানে উঠছে কার্পেটিং

শেখ হাসিনা ফিরলে তাকে স্বাগত জানাবো : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০১:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনাকে ফেরা নিয়ে সরকার বিষয়টাকে কিভাবে দেখচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, উনার আসার ব্যাপারে আমরা যেহেতু চেষ্টা করছি উনি যদি আসেন আমরা তাকে স্বাগত জানাব। আমরা কিন্তু শুরু থেকে একটা কথা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি বলে অনেকে একবার ফটো কাট করে বলবেন আমরা ওনাকে খুব স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা জাস্টিস আবার ওই কথাটা আগে একদিন বলেছিলাম তার জন্য জাস্টিস নিশ্চিত করতে চাই। তার মৃত্যুদন্ড হয়েছে তিনি আসবেন তিনি আসলে তাকে আমরা যদি প্রত্যারণ করে আনতে পারি আমরা তো সেই চেষ্টাই করছি।

তিনি বলেন, উনি আসলে তো আমাদের সাথে দুই পক্ষে যোগাযোগ হয়ে যদি আসে ফাইন। উনি মামলা ফেস করবেন, মামলার জন্য আইসিটিতে এখন বিদেশী লয়ার আনারও স্কোপ আছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম লয়ার তিনি আনুন। তিনি তাকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করুন। ওখানে অবজার্ভার রাখা যায় ওখানে ভিডিও ক্যামেরা রাখা যায় এতটাই আধুনিক করা হয়েছে ইন্টারিমের সময় এই আইসিটি আইনকে একেবারে স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে সব প্রসেস চলবে। এই দেশের জনগণ যেটা চায় তিনি যে অপরাধ করেছেন যে মৃত্যুদণ্ড আছে সেটা যেন বহাল থাকে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে সেটাও জনগণ দেখতে চায়।
তিনি বলেন, আবার বলছি আমরা তো আদালতে গেছি। আদালতে তিনি যদি প্রমাণ করতে পারেন তিনি অপরাধী নন। আদালত যদি শেষ পর্যন্ত তাকে অন্য কোন শাস্তি দেয় অথবা তাকে খালাস দেয়। সেটাও হবে। সো জাস্টিস এভাবেই হতে হয়। সেজন্য আসছে। সেজন্যই বলছি এটা। আমরা এই কারণে ওয়েলকাম করি। কারণ আমরা জাস্টিস নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের সবচেয়ে বড় যে আমাদের এই রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে ফেলেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি তাকেও আমরা জাস্টিস দিতে চাই।

জাহেদ উর বলেন, আর জিওপলিটিক্যালি এটা কোন ইস্যু বলে আমি মনে করি না। আসলে ওই যে এইযে দেখুন আমরা এতক্ষণ আলোচনা করছি একেবারে অপ্রাসঙ্গিক একজন মানুষ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। এইযে উনি প্রাসঙ্গিক হলেন এই যে কথাবার্তা বিভিন্ন জায়গায় হলো উনার কোন না কোন ভাবে। কারণ উনার কোন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে আছে বলে আমি শুধু আমার কথা বলছি না। আমি ইভেন যারা আওয়ামী লীগের প্রতিও কিছু সিম্প্যাথাইজার।

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের চারপাশে পরিচিত মানুষ আছে তো তারাও মনে করেন না যে উনার কোন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আছে। সুতরাং এটাকে আমি কোন চাপ বা কোন প্রবলেমের কিছু বলে মনে করি না। উনি যদি আসেন আমরা তো চাপের প্রশ্ন কেন আমরা তো চাইছি উনি আসুন আমরা তো উনাকে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি প্রত্যারণ করার চেষ্টা করছি। যদি এমন হতো যেন আমরা চাইছি উনি ওখানেই থাকুন উনি এখন আসবেন বলে আমরা চাপে পড়ে গেছি ব্যাপারটা তার এইরকম এবং শুধু ইন্টারিম না এই সরকার গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কনফার্ম করেছেন এই সরকারও ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যাপন চেয়েছে সুতরাং যে সেটা বলায় আসলে চাপের কিছু নেই।

তিনি বলেন, উনি আসলে কিভাবে আসবেন প্রসেসটা ঠিক হয়ে যাবে। আমি জানিনা উনি কিভাবে কি করবেন। উনি ওখানে কিভাবে আছেন এগুলো ওই রাষ্ট্র জানেন, উনি যদি আসতে চান ওই রাষ্ট্র আমাদের রাষ্ট্রের সাথে কথাবার্তা বলে ব্যবস্থা করবেন। ওটা প্রসেস প্রসিটিউরাল ব্যাপার আটকে থাকবে না। সরকারের নীতিগত অবস্থাতে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। সরকার তার আসার ব্যাপারে তাকে আমরা জাস্টিসের অধীন করতে চাই। সুতরাং উনি যদি আসতে চান সরকার স্বাভাবিক যুক্তিতেই তাকে সাহায্য করার কথা।

জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার নিয়ে অনেকেই সরকারের অবস্থান জানতে চাইছেন। কিন্তু বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদালতের আদেশ। নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, এটি সরকার দেয়নি, আদালত দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাহলে আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। আদালত যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, তাহলে সেটি আর বহাল থাকবে না।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাস্তবতায় বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে আদালতের নির্দেশনা অমান্য না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সম্মান দেখানোই সবার দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিচার বিভাগের সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বিচারক ও আদালতের সংখ্যা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম। উচ্চ আদালতের কার্যক্রম ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়াসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের মধ্যে মূলত শব্দগত পার্থক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সংশোধনীর মাধ্যমেই রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে কতটুকু পরিবর্তন হবে এবং কোন কোন বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হবে, সেটিই মূল প্রশ্ন।

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন এবং এতে বিরোধী দলের সদস্যের নাম না থাকার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিরোধী দলের উচিত কমিটির আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং তাদের প্রস্তাব সংসদের ভেতরে তুলে ধরা।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার—এটি মূলত শব্দের বিষয়। আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কতটুকু পরিবর্তন করতে চাই। সংশোধনীর মাধ্যমেই সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

অতীতের বিভিন্ন সংশোধনীর উদাহরণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের বহু অংশে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়। পরে আদালতের রায়ে ওই সংশোধনীর কয়েকটি অংশ বাতিল হয়েছে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। দেশ সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় গেছে এবং পরে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে। ফলে সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

গণভোট প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে গণভোটের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়েও সাংবিধানিক বিতর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সংশোধনের মাধ্যমে অনেক কিছু পরিবর্তন করা যায়। প্রয়োজন হলে গণভোটের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে কিছু বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া হয়েছে—এমন যুক্তিও দেওয়া হচ্ছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিতর্ক এবং এ নিয়ে আলোচনা চলতে পারে।

জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে তারা জুলাই সনদের ভিত্তিতে কাজ করবে। তবে সনদের কিছু প্রস্তাবে দলটির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত ছিল এবং সেই অবস্থান তারা আগেই জনগণের কাছে তুলে ধরেছে।

উচ্চকক্ষ গঠনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সংসদে একটি উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সাধারণভাবে ঐকমত্য থাকলেও এটি কীভাবে গঠিত হবে, সে বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপিরও এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তারা আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের প্রস্তাব সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। সংসদে জনগণের সামনে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে তাদের প্রস্তাব গৃহীত না হলেও জনগণ তাদের বক্তব্য জানতে পারবে। জনগণ যদি সেই দাবিকে সমর্থন করে, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে। নির্বাচনি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এভাবেই কাজ করে।

বন্য পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ পর্যন্ত সাতটি জেলার ৫৯টি উপজেলা বন্যাকবলিত। বন্যায় ১ লাখ ৫৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৪ জন মানুষ বন্যায় মারা গেছেন।

প্রতিদিন ঢাকা শহরের প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আমিনবাজার ও দক্ষিণ সিটির মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করেছেন। রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বলা হয় চীনের সিএমইসি গ্রুপ আমিনবাজারে একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে।

তিনি বলেন, নগরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ক্লিন কেয়ার নামে একটি ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম মঙ্গলবার নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অ্যাপের উদ্বোধন করেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবে।

অন্যদিকে আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশ দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তার নির্দেশে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই এলাকায় বর্জ্য অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্নকরণ এবং মহাসড়কের দুই পাশে নিমগাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।