ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথর নিক্ষেপে মোহাম্মদ আজাদ (৩০) নামে এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে এই ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২৮ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কলেজপাড়া এলাকায় এসে পৌঁছালে পাথর নিক্ষেপের ওই ঘটনা ঘটে।
একই এলাকায় অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের তৃতীয় ঘটনা হওয়ায় রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ট্রেনের যাত্রী আকিব জাবেদ জানান, মোহাম্মদ আজাদ সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পারাবত এক্সপ্রেসের ‘ঢ’ বগিতে যাত্রা করছিলেন। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের কাছাকাছি কলেজপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বাইরে থেকে ছোড়া একটি পাথর জানালার কাঁচ ভেদ করে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ট্রেনের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন। পরে সহযাত্রীরা তাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন। এ ঘটনায় ট্রেনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে আশপাশের এলাকায় তদন্ত চলছে।’

এসআই শাহ আলম জানান, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রতিরোধে র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরপরও দুষ্কৃতকারীরা এমন ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত শুরু করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
এর আগে গত ২৪ জুন বিকেলে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হন আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস। দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পরও তার ডান চোখটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি; চিকিৎসকদের সেটি অপসারণ করতে হয়।
এ ছাড়া গত ২১ জুন রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেসে পৈরতলা এলাকায় বাইরে থেকে ছোড়া পাথরের আঘাতে আহত হন নাইমুল হাসান নামে আরেক যাত্রী। গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দিতে হয়।
বারবার চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। যাত্রীরা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং রেলপথে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি 






















