না ফেরার দেশে একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১১:৪২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ১৮৫ জন দেখেছেন

বিনোদন ডেস্ক : 

বাংলাদেশের পাপেট বা পুতুলনাচ শিল্পের প্রধান রূপকার, প্রখ্যাত চারুশিল্পী, নাট্যনির্দেশক ও শিল্প গবেষক মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কিংবদন্তি সব্যসাচী শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

তাঁর মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে তাঁর ভাগ্নি ও বিশিষ্ট অভিনেত্রী নিমা রহমান।

তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে মামার মরদেহ ধানমন্ডির বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে। পরবর্তীতে তাঁর দাফন ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মুস্তাফা মনোয়ারের বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।

মাঝখানে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁর ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নিয়েছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; রোববার পুনরায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে আবারও লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আজ সকালে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে তিনি দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

মুস্তাফা মনোয়ার জলরঙে ছবি আঁকতেন। কলকাতা আর্ট কলেজে পড়ার সময় ভীষণ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, তার আঁকা ছবি খুব অল্পতে কথা বলতে পারে।

একসময় কলকাতার বিভিন্ন নাটকের দলের সঙ্গেও কাজ করেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। ওস্তাদ ফাইয়াজ খাঁর ছাত্র সন্তোষ রায়ের কাছে আলাদা করে গানও শিখতে শুরু করেছিলেন। সে সময় শিল্পী নির্মলেন্দু চৌধুরীর দলে তিন বছর গান করেছেন। পরে মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় ওয়াহিদুল হক ও সন্জীদা খাতুনের উদ্যোগে যে সাংস্কৃতিক দল গড়ে উঠেছিল, সেখানে যোগ দিয়ে বিভিন্ন স্থানে দেশাত্মবোধক গানও গেয়েছেন। অনেক চর্চা করতে হয় বলে গানটা ছেড়ে দিলেন। বাঁধাধরা জিনিস তার ভালোও লাগতো না। বলতেন, ‘গানে তাল আছে, বড় ওস্তাদেরা টান দিয়ে তালে ফিরতে পারেন, আমি পারতাম না।’

তার ছেলেবেলায় রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সময়টা মুস্তাফা মনোয়ারের জীবনের অমূল্য স্মৃতি। সেই গল্পও একদিন বলেছেন। স্কুলে থাকতে বাবা কবি গোলাম মোস্তফার ক্যামেরা দিয়ে ফটোগ্রাফি করতেন। ১৯৫২ সালে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলে ক্লাস নাইনে পড়তেন। তখন ভাষা আন্দোলনের জন্য কার্টুন এঁকে এক মাসের জন্য জেলে গিয়েছিলেন। এসব ঘটনা তার মনে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করে। বাড়ি থেকে স্কুলে প্রথম হওয়ার চাপ ছিল না। বাবা কেবল বলতেন পড়তে, জানতে।

আর্ট কলেজে পড়া শেষে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের অনুরোধে মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৬০ সালে ঢাকায় এসে চারুকলায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেন। ১৯৬৫ সালে ডিআইটি ভবনে পাকিস্তান টেলিভিশনের (পিটিভি) ঢাকা কেন্দ্র চালু হলো। চারুকলার চাকরি ছেড়ে মুস্তাফা মনোয়ার সেখানে যোগ দিলেন। পাকিস্তানে তখন বাংলা সংস্কৃতির যাবতীয় শ্রেষ্ঠ জিনিসকে ‘ভিন্ন সংস্কৃতি’ বলা হতো। টেলিভিশনে যোগ দেওয়ার পেছনের কারণ ছিল এটাই। বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সুযোগটা তিনি নিতে চেয়েছিলেন।

সত্তরের নির্বাচন পেরিয়ে এল একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চ। ২৩ মার্চ ছিল পাকিস্তান দিবস। তখন টেলিভিশনে অনুষ্ঠান শেষ হলে পতাকা ওড়ানো দেখানো হতো। পাকিস্তান দিবসে পাকিস্তানের পতাকা টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেখানো হবে না— এ রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পিটিভি ঢাকা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন অন্যতম। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কথা রাত ১০টায়। কিন্তু সেদিন অনুষ্ঠান শেষ করা হলো রাত ১২টা পার হওয়ার পর। ততক্ষণে ২৪ মার্চ হয়ে গেছে, পতাকা দেখিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করা হলো।

অ্যানিমেশনের কাজে উৎসাহ ছিল মুস্তাফা মনোয়ারের। বাংলাদেশে পাপেট শো ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে বলা চলে তার একক অবদান! হুগলি, বাঁকুড়া, কলকাতায় পাপেট দেখে এ ব্যাপারে আগ্রহ জন্মে। তার অনবদ্য সৃষ্টি পাপেট চরিত্র ‘পারুল’। পারুলকে দেখেই ইউনিসেফের র‌্যাচেল কার্নেগি উৎসাহিত হন, তৈরি হয় ‘মীনা’ চরিত্রটি।

টেলিভিশনে করেছেন রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’ ও শেক্সপিয়ারের ‘টেমিং অব দ্য শ্রু’ অবলম্বনে মুনীর চৌধুরীর অনুবাদ করা ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’-এর মতো নাটক। যুক্তরাজ্যের গ্রানাডা টিভির ‘ওয়ার্ল্ড হিস্টি অব টিভি ড্রামা’র জন্য এই নাটক দুটি মনোনীত হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো অনুষ্ঠানেরও রূপকার তিনি।

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে। সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুরাগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, যুবক আহত

না ফেরার দেশে একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার

প্রকাশের সময় : ১১:৪২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক : 

বাংলাদেশের পাপেট বা পুতুলনাচ শিল্পের প্রধান রূপকার, প্রখ্যাত চারুশিল্পী, নাট্যনির্দেশক ও শিল্প গবেষক মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কিংবদন্তি সব্যসাচী শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

তাঁর মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে তাঁর ভাগ্নি ও বিশিষ্ট অভিনেত্রী নিমা রহমান।

তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে মামার মরদেহ ধানমন্ডির বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে। পরবর্তীতে তাঁর দাফন ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মুস্তাফা মনোয়ারের বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।

মাঝখানে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁর ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নিয়েছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; রোববার পুনরায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে আবারও লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আজ সকালে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে তিনি দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

মুস্তাফা মনোয়ার জলরঙে ছবি আঁকতেন। কলকাতা আর্ট কলেজে পড়ার সময় ভীষণ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, তার আঁকা ছবি খুব অল্পতে কথা বলতে পারে।

একসময় কলকাতার বিভিন্ন নাটকের দলের সঙ্গেও কাজ করেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। ওস্তাদ ফাইয়াজ খাঁর ছাত্র সন্তোষ রায়ের কাছে আলাদা করে গানও শিখতে শুরু করেছিলেন। সে সময় শিল্পী নির্মলেন্দু চৌধুরীর দলে তিন বছর গান করেছেন। পরে মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় ওয়াহিদুল হক ও সন্জীদা খাতুনের উদ্যোগে যে সাংস্কৃতিক দল গড়ে উঠেছিল, সেখানে যোগ দিয়ে বিভিন্ন স্থানে দেশাত্মবোধক গানও গেয়েছেন। অনেক চর্চা করতে হয় বলে গানটা ছেড়ে দিলেন। বাঁধাধরা জিনিস তার ভালোও লাগতো না। বলতেন, ‘গানে তাল আছে, বড় ওস্তাদেরা টান দিয়ে তালে ফিরতে পারেন, আমি পারতাম না।’

তার ছেলেবেলায় রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সময়টা মুস্তাফা মনোয়ারের জীবনের অমূল্য স্মৃতি। সেই গল্পও একদিন বলেছেন। স্কুলে থাকতে বাবা কবি গোলাম মোস্তফার ক্যামেরা দিয়ে ফটোগ্রাফি করতেন। ১৯৫২ সালে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলে ক্লাস নাইনে পড়তেন। তখন ভাষা আন্দোলনের জন্য কার্টুন এঁকে এক মাসের জন্য জেলে গিয়েছিলেন। এসব ঘটনা তার মনে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করে। বাড়ি থেকে স্কুলে প্রথম হওয়ার চাপ ছিল না। বাবা কেবল বলতেন পড়তে, জানতে।

আর্ট কলেজে পড়া শেষে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের অনুরোধে মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৬০ সালে ঢাকায় এসে চারুকলায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেন। ১৯৬৫ সালে ডিআইটি ভবনে পাকিস্তান টেলিভিশনের (পিটিভি) ঢাকা কেন্দ্র চালু হলো। চারুকলার চাকরি ছেড়ে মুস্তাফা মনোয়ার সেখানে যোগ দিলেন। পাকিস্তানে তখন বাংলা সংস্কৃতির যাবতীয় শ্রেষ্ঠ জিনিসকে ‘ভিন্ন সংস্কৃতি’ বলা হতো। টেলিভিশনে যোগ দেওয়ার পেছনের কারণ ছিল এটাই। বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সুযোগটা তিনি নিতে চেয়েছিলেন।

সত্তরের নির্বাচন পেরিয়ে এল একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চ। ২৩ মার্চ ছিল পাকিস্তান দিবস। তখন টেলিভিশনে অনুষ্ঠান শেষ হলে পতাকা ওড়ানো দেখানো হতো। পাকিস্তান দিবসে পাকিস্তানের পতাকা টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেখানো হবে না— এ রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পিটিভি ঢাকা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন অন্যতম। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কথা রাত ১০টায়। কিন্তু সেদিন অনুষ্ঠান শেষ করা হলো রাত ১২টা পার হওয়ার পর। ততক্ষণে ২৪ মার্চ হয়ে গেছে, পতাকা দেখিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করা হলো।

অ্যানিমেশনের কাজে উৎসাহ ছিল মুস্তাফা মনোয়ারের। বাংলাদেশে পাপেট শো ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে বলা চলে তার একক অবদান! হুগলি, বাঁকুড়া, কলকাতায় পাপেট দেখে এ ব্যাপারে আগ্রহ জন্মে। তার অনবদ্য সৃষ্টি পাপেট চরিত্র ‘পারুল’। পারুলকে দেখেই ইউনিসেফের র‌্যাচেল কার্নেগি উৎসাহিত হন, তৈরি হয় ‘মীনা’ চরিত্রটি।

টেলিভিশনে করেছেন রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’ ও শেক্সপিয়ারের ‘টেমিং অব দ্য শ্রু’ অবলম্বনে মুনীর চৌধুরীর অনুবাদ করা ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’-এর মতো নাটক। যুক্তরাজ্যের গ্রানাডা টিভির ‘ওয়ার্ল্ড হিস্টি অব টিভি ড্রামা’র জন্য এই নাটক দুটি মনোনীত হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো অনুষ্ঠানেরও রূপকার তিনি।

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে। সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুরাগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন।