নিজস্ব প্রতিবেদক :
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার (২৮ জুন) সকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। লিখিত প্রশ্নোত্তর টেবিল উত্থাপিত হয়। সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করছেন।
গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেছ প্রশ্ন রেখে বলেন, বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক/শিক্ষিকাবৃন্দ অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘদিন যাবত অবসরকালীন ভাতাদি না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতেছেন। অবসর প্রাপ্তির ৩ মাস হইতে ৬ মাসের মধ্যে অবসরকালীন ভাতাদি পাওয়ার ব্যবস্থা নেবেন কি না?
জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ সুবিধা দ্রুত প্রদানের বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। একজন শিক্ষক/কর্মচারী গড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা অবসর ভাতা পেয়ে থাকেন। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৮,৭১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে অবসর তহবিলে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। ফলে প্রায় ৭,৪১০ কোটি টাকার অর্থ ঘাটতি বিদ্যমান।
তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে আগস্ট ২০২৩ হতে ২১ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার এককালীন বরাদ্দ প্রয়োজন।
সরকার ইতোমধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এছাড়া আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর জন্য সফটওয়্যার পুনরায় চালুকরণ, জনবল বৃদ্ধি, অনলাইন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং iBAS++ এর মাধ্যমে সরাসরি, শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে অবসর সুবিধা বোর্ডের বর্তমান অনিষ্পন্ন আবেদনসমূহ ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে অবসর গ্রহণের ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই তাদের প্রাপ্য অবসর ও কল্যাণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর এক প্রশ্নের জানতে চান, মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে কি না। হলে তা কী ধরনের হবে।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়াকে আনন্দময় করতে এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভার স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, আত্মপ্রকাশের সক্ষমতা এবং বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রম আরও আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক হবে। পাশাপাশি তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















