নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় সংসদে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ও পর্দা চাওয়ার বিষয়টিকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই ওই সংসদ সদস্যকে একটি মাইক্রোওয়েভ কিনে দিতে প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
তিনি বলেন, অনেক কষ্টের পরে আমরা এ সংসদ পেয়েছি। এখানে স্বৈরাচারের দোসর বা ফ্যাসিস্টদের কেউ নেই। গত সংসদ শুধু সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে নাই, সংসদের স্ট্যান্ডার্ডকে সাংঘাতিকভাবে নষ্ট করেছে। আমরা দেখেছি এখানে মমতাজ থেকে শুরু করে.. গান হয়েছে, অন্য কিছু হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, সরাসরি ওইদিকে না গেলেও কিছু জায়গায় আমরা ওইদিকে চলে যাচ্ছি। আমরা কিন্তু সংসদ সদস্য ছাড়াও এ সংসদের অ্যাম্বাসেডর। আমরা বাইরে কোথাও গেলে সংসদকে প্রতিনিধিত্ব করি।
পার্থ বলেন, কালকে বা পরশু দিন সংসদ থেকে যাওয়ার পরে অনেক টেলিফোন পেয়েছিলাম, সেখানে আমি ডিফেন্ড করার চেষ্টা করি। গণমাধ্যম প্রতিবেদন লেখে- জামায়াত এমপি ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, পর্দা চেয়েছেন। এটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়। আমি মনে করি সংসদকে অনেক লজ্জা দেয়। সংসদ সদস্য এখানে দাঁড়িয়ে যেখানে জনগণের কথা বলবেন, যেখানে জনগণের বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরবেন। সেখানে একজন সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে ওয়াশিং মেশিন পেল, না ওভেন পেল, না পর্দা পেল তা নিয়ে কথা বলবে! সেখানে আবার বলা হয় আমরা গাড়ি নেবো না, আমরা প্লট নেবো না। আমার কাছে মনে হয় গাড়ি ও প্লট ওনারা যখন বাদ দিলো, ওনাদের বুকের ওপর কতবড় পাথর চাপা দিয়ে বাদ দিতে হলো! সেখানে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।
বিজেপির চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এমন একটা মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত। আমি মনে করবো, আমাদের মাননীয় যারা আছেন, বিশেষ করে বিরোধীদল…কালকে হয়তো আমাদেরও বলতে পারেন। আমি খুব সিরিয়াসলি বলছি, তারপরও যদি আমার ভাই, যেহেতু মন্তব্য করেছেন, উনি চান। আমি ওনাকে বিব্রত না করে, আগামীতে ওনার যদি পর্দা, ওভেন লাগে, তাহলে আমি আমার তরফ থেকে দিতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে চাই, উনি যদি ওয়াশিং মেশিন দেন (জামায়াত এমপিকে)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে বলতাম, উনি পর্দাটা কিনে দিয়েন। ওনার সংসারটা আমরা গুছিয়ে দিতে পারতাম, তারপরও আমাদের সংসদেকে উনি বিব্রত না করেন।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অর্ডারের মধ্যে পড়ে না। সংসদ সদস্য বাজেট সেশনের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন। বাজেট সেশন এমন একটি সেশন, সেখানে অনেক বিষয়ে বক্তব্য রাখা যায়। তাছাড়া একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি এটা সংসদে না বললেও হতো। কিন্তু এটা বলে এমন কোনো গর্হিত অপরাধও তিনি করেননি। আমাদের সংসদ কমিটি আছে, সেখানে আমরা সংসদ সদস্যদের আসবাবপত্র ইত্যাদি দিয়ে থাকি।
পার্থকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার বলেন, যেভাবে আপনি একজন সদস্যকে অফার করেছেন, তাকে দেবেন। এটাও তার জন্য অসম্মানজনক হতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















