দেশের এইচএসসির লেভেল সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমান : সংসদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ১৮৬ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন শোচনীয় দশা হয়েছে যে বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সঙ্গে তুলনা করা হয়।

রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এদিন সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।

একইসঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থায় সাংস্কৃতিক কারিকুলাম যুক্ত করার বিরোধিতাকারীদের মনোভাব নিয়ে সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রতিমন্ত্রী নতুন বাজেটকে জনগণবান্ধব এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই এই দূরদর্শী চিন্তা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ ও জাতির সামনে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিগত ২০ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, অতীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় যে চরম নৈরাজ্য চলেছে তা এখন স্পষ্ট। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়। এই শোচনীয় দশা থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের হাত দেওয়া হয়েছে।

সংসদে ও সংসদের বাইরে রাজনৈতিক বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার যখন সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা, স্পোর্টস এবং কালচার বা সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা শুরু করেছে, তখন বিরোধীদের কেউ কেউ এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। সেই একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের যে নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ দেখাচ্ছেন, সেখানে পৌঁছাতে হলে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও ক্রিয়েটিভ চেতনার জায়গা তৈরি করতে হবে। আর সেজন্যই সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে শিক্ষার বড় অংশ করা হয়েছে। বাজেটের অর্থনৈতিক দিক ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি একটি আশাবাদী ও জনবান্ধব বাজেট। এখানে জনগণের ওপর বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং পুরোনো ফ্যাক্টরিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে সাপ্লাই সাইড এক্সপ্যানশনের সুনির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে শিক্ষা খাতেই সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে কার্যকর বিনিয়োগ করা সম্ভব। সে কারণেই জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় করা হলেও বর্তমান বাজেটে তা বাড়িয়ে ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্ব দরবারে ঈর্ষণীয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন গঠনমূলক সমালোচনা করলেও দেশের এই মূল লক্ষ্য অর্জনে ও অগ্রযাত্রায় কোনো বাধা সৃষ্টি না করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দেয়া বাজেট ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের বাজেট। দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা খাতে ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির ভিত্তি নির্মাণ করে। শিক্ষার প্রাথমিক স্তর শক্তিশালী না হলে উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রম, শিক্ষকতার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। শুধু পাঠ্যবই ভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং শিল্পচর্চাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে খেলাধুলার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পারফর্মিং আর্টস, এক্সপ্রেসিভ আর্টস এবং ফাইন আর্টসের মতো সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি আধুনিক, মানবিক ও সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। এ বিষয়ে নেতিবাচক সমালোচনার পরিবর্তে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান বাজেটে জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতির সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, সৃজনশীল অর্থনীতি বিকাশ এবং শিল্প-কারখানার আধুনিকায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিশ্বাস, মানুষের ওপর বিনিয়োগই দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ এবং শিক্ষিত, দক্ষ ও সৃজনশীল জনগোষ্ঠীই দেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, গত দুই দশকে শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও দ্রুত ও টেকসই হতো। বর্তমান সরকার সেই ঘাটতি পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে আগামী দুই দশকে বাংলাদেশ একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সমালোচনা থাকতেই পারে, তবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে উন্নয়নের মূল লক্ষ্য অর্জনে একযোগে কাজ করতে হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দেশের এইচএসসির লেভেল সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমান : সংসদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৯:১৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন শোচনীয় দশা হয়েছে যে বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সঙ্গে তুলনা করা হয়।

রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এদিন সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।

একইসঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থায় সাংস্কৃতিক কারিকুলাম যুক্ত করার বিরোধিতাকারীদের মনোভাব নিয়ে সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রতিমন্ত্রী নতুন বাজেটকে জনগণবান্ধব এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই এই দূরদর্শী চিন্তা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ ও জাতির সামনে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিগত ২০ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, অতীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় যে চরম নৈরাজ্য চলেছে তা এখন স্পষ্ট। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়। এই শোচনীয় দশা থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের হাত দেওয়া হয়েছে।

সংসদে ও সংসদের বাইরে রাজনৈতিক বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার যখন সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা, স্পোর্টস এবং কালচার বা সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা শুরু করেছে, তখন বিরোধীদের কেউ কেউ এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। সেই একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের যে নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ দেখাচ্ছেন, সেখানে পৌঁছাতে হলে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও ক্রিয়েটিভ চেতনার জায়গা তৈরি করতে হবে। আর সেজন্যই সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে শিক্ষার বড় অংশ করা হয়েছে। বাজেটের অর্থনৈতিক দিক ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি একটি আশাবাদী ও জনবান্ধব বাজেট। এখানে জনগণের ওপর বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং পুরোনো ফ্যাক্টরিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে সাপ্লাই সাইড এক্সপ্যানশনের সুনির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে শিক্ষা খাতেই সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে কার্যকর বিনিয়োগ করা সম্ভব। সে কারণেই জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় করা হলেও বর্তমান বাজেটে তা বাড়িয়ে ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্ব দরবারে ঈর্ষণীয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন গঠনমূলক সমালোচনা করলেও দেশের এই মূল লক্ষ্য অর্জনে ও অগ্রযাত্রায় কোনো বাধা সৃষ্টি না করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দেয়া বাজেট ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের বাজেট। দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা খাতে ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির ভিত্তি নির্মাণ করে। শিক্ষার প্রাথমিক স্তর শক্তিশালী না হলে উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রম, শিক্ষকতার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। শুধু পাঠ্যবই ভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং শিল্পচর্চাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে খেলাধুলার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পারফর্মিং আর্টস, এক্সপ্রেসিভ আর্টস এবং ফাইন আর্টসের মতো সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি আধুনিক, মানবিক ও সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। এ বিষয়ে নেতিবাচক সমালোচনার পরিবর্তে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান বাজেটে জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতির সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, সৃজনশীল অর্থনীতি বিকাশ এবং শিল্প-কারখানার আধুনিকায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিশ্বাস, মানুষের ওপর বিনিয়োগই দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ এবং শিক্ষিত, দক্ষ ও সৃজনশীল জনগোষ্ঠীই দেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, গত দুই দশকে শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও দ্রুত ও টেকসই হতো। বর্তমান সরকার সেই ঘাটতি পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে আগামী দুই দশকে বাংলাদেশ একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সমালোচনা থাকতেই পারে, তবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে উন্নয়নের মূল লক্ষ্য অর্জনে একযোগে কাজ করতে হবে।