স্পোর্টস ডেস্ক :
গোলরক্ষক ওয়েভেরতন ছাড়া বেঞ্চে থাকা বাকি ১০ খেলোয়াড়ের সবাইকে বিরতির পর নামিয়ে দিলেন কার্লো আনচেলত্তি! এরপর যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল ব্রাজিল। ১০ মিনিটের মধ্যে তিনবার বল পাঠাল পানামার জালে। বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে নিজেদের শেষ ম্যাচে আশা জাগানিয়া জয় পেল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
রিও দে জেনিরোতে রোববার (৩১ মে) রাতের একপেশে ম্যাচে ৬-২ গোলে জিতেছে ব্রাজিল। স্বাগতিকদের হয়ে জালের দেখা পেয়েছেন ভিনিসিউস জুনিয়র, কাসেমিরো, লুকাস পাকেতা, হায়ান, ইগো চিয়াগো ও দানিলো সান্তোস।
পানামার প্রথম গোলটি মাথেউস কুইয়ার আত্মঘাতী। দ্বিতীয়টি করেছেন কার্লোস হার্ভে।
কানায় কানায় পূর্ণ ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। কাসেমিরোর কাছ থেকে বল পেয়ে ৩৫ গজ দূর থেকে গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন ভিনিসিউস।
ষষ্ঠ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগ পান রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। তবে এবার তার শট ফিরিয়ে দেন পানামা গোলরক্ষক অরলান্দো মসকেরা।
চতুর্দশ মিনিটে সৌভাগ্যের ছোঁয়া থাকা গোলে সমতা ফেরায় পানামা। আমির মুরিয়োর ফ্রি কিক ঠেকাতে ঠিক দিকেই যাচ্ছিলেন ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসন বেকার। মাঝপথে লাফিয়ে ওঠা কুইয়ার মাথায় লেগে দিক পাল্টে বল জড়ায় জালে! মরিয়া চেষ্টায়ও আর বলের নাগাল পাননি আলিসন।
২৪তম মিনিটে ভিনিসিউসের কাছ থেকে ডি বক্সে বল পেয়ে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাফিনিয়া। আট মিনিট পর ইসমায়েল দিয়াসের দূরপাল্লার শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক। ৩৯তম মিনিটে ফের ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন কাসেমিরো। ভিনিসিউসের চমৎকার ক্রসে দারুণ হেডে জাল খুঁজে নেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
চার মিনিট পর বিপজ্জনক জায়গা থেকে রাফিনিয়ার শট বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে। পরের মিনিটে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সেসিলিও ওয়েতারমানের ক্রসে বিপদ হতে পারত। তবে ঝাঁপিয়ে কোনমতে হাত ছুঁয়ে বলের দিক পাল্টে দেন আলিসন। ব্যবধান ধরে রেখে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
বিরতির পর ডিফেন্ডার লিও পেরেইরা ছাড়া বাকি ১০ জনকেই বদলে ফেলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে খেলা মার্কিনিয়োস, গাব্রিয়েলরা ছিলেন না এই ম্যাচের দলে। তারা থাকলে হয়তো ১১ পরিবর্তন আনতেন তিনি।
৫২তম মিনিটে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এন্দ্রিক। পরের মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় ব্রাজিল। ইগো চিয়াগোর কাছ থেকে বল পেয়ে জাল খুঁজে নেন হায়ান।
৬০তম মিনিটে স্কোর লাইন ৪-১ করেন লুকাস পাকেতা। ডি বক্সের মাথা থেকে এই মিডফিল্ডারের শট পানামার একজনের পায়ে লেগে দিক পাল্টে দূরের পোস্ট ঘেঁষে জড়ায় জালে। ঝাঁপ দিয়েও বলের নাগাল পাননি মসকেরা।৬৩তম মিনিটে সফল স্পট কিকে ব্রাজিলের পঞ্চম গোলটি করেন চিয়াগো। তাকেই পানামা গোলরক্ষক ফাউল করায় পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা।
৮১তম মিনিটে স্কোর লাইন ৬-১ করেন দানিলো সান্তোস। পাকেতার ক্রসে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, সঙ্গে থাকা ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি। দুই মিনিট পর এন্দ্রিকের শট লাফিয়ে কোনোমতে হাতবাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন মসকেরা। আরেকটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া হয় তরুণ ফরোয়ার্ডের।
৮৪তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে আলগা বল পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন কার্লোস হার্ভে। গোল করার আরও সুযোগ পায় দুই দল। তবে কেউই সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি।
আগামী রোববার নিজেদের শেষ প্রীতি ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ১৪ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ মরক্কোর বিপক্ষে খেলবে তারা।
বিশ্বকাপের আগে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে পানামা। আগামী ১৮ জুন ঘানার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
স্পোর্টস ডেস্ক 
















