Dhaka রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রেনের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, চাহিদা সামাল দেওয়া চ্যালেঞ্জ : রেলমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সড়ক, রেল এবং নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, যাতায়াত নিশ্চিত করবার জন্য আমাদের যে ট্রেনের সংখ্যা সেটা পর্যাপ্ত নয়। আমরা ৩২ হাজার মানুষকে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন যাত্রার সুযোগ করে দিতে পারি। ঈদ উপলক্ষে আরো ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৪ হাজারের মতো যাত্রী যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারি। লাখ লাখ যাত্রীর ট্রেনে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তো সেইটা একটু চ্যালেঞ্জ।

রোববার (২৪ মে) ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, সকাল থেকে আমি যতটা জানি যে তিনটি ট্রেনের সম্ভবত একটু ডিলে হয়েছে। একটা আসতে দেরি করেছে। সেটার হুইল স্লিপ করেছিল।

তিনি বলেন, সেটাও একটা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ট্রেন লাইনের উপর প্রচুর খড়, ওটাকে বলা হয় ধানের অবশিষ্ট অংশ। খড় নেড়ে দেয় শুকানোর জন্য। তাতে স্লিপ করেছে ট্রেনের হুইল। পরে আমাদের রিলিফ ট্রেন দিয়ে সেটাকে নিয়ে আসা হয়েছে। ওই কারণে একটু দুইটা ট্রেন সম্ভবত ডিলে হয়েছে। দুটি বা তিনটি ট্রেন মনে হয়- ২০ মিনিট একটা, এক ঘণ্টা একটা, আরেকটা মনে হয় দুই ঘণ্টা হয়ে যাবে ডিলে। এছাড়া বাকিগুলো ঠিক আছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, যে হারে আমাদের চাহিদা সে হারে আমরা ট্রেনের সংখ্যা, ট্রেনের লাইনের সংখ্যা, লোকোমোটিভ, কোচ এগুলি আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি এটা সত্য। যেসব জায়গায় ঝুঁকি আছে, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, ডিরেল হয়ে যেতে পারে, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে এবার আমরা ঈদের আগে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। এটা চলমান আছে এবং সবসময় আমরা সতর্ক আছি। আশা করছি যে এখনকার ট্রেন লাইনের যে অবস্থা, তাতে বড় কোনো বিপর্যয় হবে না। এতটুকু আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। আমাদের ব্যবস্থাপনায় আমরা সর্বোচ্চ মনোযোগ রেখেছি।

ঈদযাত্রায় সার্বিকভাবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়ে রেলপথমন্ত্রী বলেন, সকাল থেকে মাত্র দুই থেকে তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরি করেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেনের চাকা স্লিপ করে। ট্রেন লাইনের ওপর খড় শুকানোর জন্য ছড়িয়ে রাখায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে রিলিফ ট্রেন পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। এ ঘটনার জেরে একটা ট্রেন ২০ মিনিট, একটা প্রায় এক ঘণ্টা এবং আরেকটা দুই ঘণ্টার মতো বিলম্ব হতে পারে। তবে বাকিগুলো ঠিকভাবে চলাচল করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান চাহিদার তুলনায় ট্রেন, রেললাইন, লোকোমোটিভ ও কোচের সংখ্যা এখনও পর্যাপ্ত নয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনে প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও প্রায় চার হাজার যাত্রীর যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষের ট্রেনে যাতায়াতের ইচ্ছা থাকে। সেই তুলনায় সক্ষমতা সীমিত, এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

রেলপথমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথগুলো চিহ্নিত করে ঈদের আগে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেললাইন যাতে ডিরেলমেন্ট বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে না পড়ে, সেজন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনে ঘরমুখী মানুষের বাড়তি চাপের মধ্যেও বড় ধরনের কোনো বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই বলে জানিয়ে তিনি বলেন, পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) নিয়েই সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ঈদযাত্রা পরিচালনা করা হচ্ছে। রেললাইনের ওপর খড় শুকাতে দেওয়ার কারণে একটি ট্রেনের চাকা পিছলে গিয়েছিল। এ কারণে সকালে তিনটি ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদযাত্রায় বিশেষ করে ট্রেনের যাত্রীদের প্রচুর চাহিদা থাকে। ঢাকার বাইরে যেতে চাওয়া মানুষের কাছে ট্রেনে যাত্রার আলাদা গুরুত্ব আছে। কিন্তু যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা ও সক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়। সাধারণ সময়ে আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিট ছেড়ে এখন প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

রেলমন্ত্রী বলেন, লাখ লাখ মানুষের ট্রেনে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে। সেই ব্যবস্থাপনা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ।

কমলাপুর স্টেশনে আকস্মিক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আমি অনির্ধারিতভাবে স্টেশনে এসেছি। কোন ট্রেনে উঠব বা কখন আসব, সেটা আগে নির্ধারিত ছিল না। দুটি ট্রেনে উঠেছি। যাত্রীদের সন্তুষ্টি ও পরিবেশ আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। সিটিং ক্যাপাসিটির মধ্যেই যাত্রা হচ্ছে। যদিও যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় আমাদের ক্যাপাসিটির বাইরেও ২৫ শতাংশ টিকিট দিতে হয়েছে।

সকালে কয়েকটি ট্রেন বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে চলেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেনের চাকা স্লিপ করেছে। রেললাইনের ওপর ধানের খড় শুকাতে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে ইঞ্জিন ও কর্মী পাঠিয়ে ট্রেন সচল করতে হয়েছে। এ কারণে দুই থেকে তিনটি ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে। একটি প্রায় ২০ মিনিট, একটি এক ঘণ্টা এবং আরেকটি প্রায় দুই ঘণ্টা দেরি হতে পারে।

এই ঘটনায় পরদিনের শিডিউলে প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করছি আজকের মধ্যেই পরিস্থিতি ম্যানেজ হয়ে যাবে। গতকাল যেটা হয়েছিল, সেটাও আমরা অনেকটা ঠিক করেছি। আজকের সমস্যার জন্য স্পেয়ার লোকোমোটিভ ও অতিরিক্ত সক্ষমতা সেখানে শিফট করা হয়েছে।

রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখনো ১৯৩০, ১৯৪০ ও ১৯৪৫ সালের পুরোনো রেললাইন আছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো লোকোমোটিভ ও কোচ দিয়েই চলতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন, রেললাইন, লোকোমোটিভ ও কোচ বাড়ানো সম্ভব হয়নি, এটা সত্য।’

রেলমন্ত্রী বলেন, যেসব জায়গায় দুর্ঘটনা বা লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ঈদের আগে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা সতর্ক আছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় হবে না বলে আশা করছি।

রেললাইনের ওপর খড় শুকানোর ঘটনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জায়গাজুড়ে খড় শুকাতে দেওয়া হয়। এগুলো সরাতে গেলে অনেক সময় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়। আবার সব স্টেশন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত বা সুরক্ষিত নয়। প্রবেশ নিয়ন্ত্রণও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবতার মধ্যেই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

রেলমন্ত্রী দাবি করেন, রেলের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। যাত্রীরাও বলেছেন, আগে জরাজীর্ণ অবস্থা ছিল। এখন সার্ভিস ভালো হয়েছে, পরিবেশ ভালো হয়েছে। অনলাইনে আগে যে টিকিট বুক করছেন, তাঁকেই টিকিট দিতে পেরেছি। কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম হয়নি।

ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন: দুই ঘণ্টার বেশি বিলম্বে বুড়িমারী এক্সপ্রেস, ভোগান্তিতে যাত্রীরাঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন: দুই ঘণ্টার বেশি বিলম্বে বুড়িমারী এক্সপ্রেস, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঈদ উপলক্ষে আগামীকাল থেকে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু হবে বলেও জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া কোরবানির পশু পরিবহনে তিনটি ক্যাটল ট্রেন চালানো হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের সময় নতুন করে ৫১টি কোচ যুক্ত করেছি। বর্তমানে ৮২ থেকে ৮৩টি লোকোমোটিভ সচল আছে। আরও এক-দুটি যুক্ত করতে পারলে ৮৫ থেকে ৮৬টি লোকোমোটিভ পরিচালনায় রাখা সম্ভব হবে। তাহলে যাত্রী পরিবহনে খুব বেশি সমস্যা হবে না, স্মুদলি যাত্রা করা যাবে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।

 

আবহাওয়া

কোরবানির চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় কন্ট্রোল রুম চালু করলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

ট্রেনের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, চাহিদা সামাল দেওয়া চ্যালেঞ্জ : রেলমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সড়ক, রেল এবং নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, যাতায়াত নিশ্চিত করবার জন্য আমাদের যে ট্রেনের সংখ্যা সেটা পর্যাপ্ত নয়। আমরা ৩২ হাজার মানুষকে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন যাত্রার সুযোগ করে দিতে পারি। ঈদ উপলক্ষে আরো ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৪ হাজারের মতো যাত্রী যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারি। লাখ লাখ যাত্রীর ট্রেনে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তো সেইটা একটু চ্যালেঞ্জ।

রোববার (২৪ মে) ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, সকাল থেকে আমি যতটা জানি যে তিনটি ট্রেনের সম্ভবত একটু ডিলে হয়েছে। একটা আসতে দেরি করেছে। সেটার হুইল স্লিপ করেছিল।

তিনি বলেন, সেটাও একটা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ট্রেন লাইনের উপর প্রচুর খড়, ওটাকে বলা হয় ধানের অবশিষ্ট অংশ। খড় নেড়ে দেয় শুকানোর জন্য। তাতে স্লিপ করেছে ট্রেনের হুইল। পরে আমাদের রিলিফ ট্রেন দিয়ে সেটাকে নিয়ে আসা হয়েছে। ওই কারণে একটু দুইটা ট্রেন সম্ভবত ডিলে হয়েছে। দুটি বা তিনটি ট্রেন মনে হয়- ২০ মিনিট একটা, এক ঘণ্টা একটা, আরেকটা মনে হয় দুই ঘণ্টা হয়ে যাবে ডিলে। এছাড়া বাকিগুলো ঠিক আছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, যে হারে আমাদের চাহিদা সে হারে আমরা ট্রেনের সংখ্যা, ট্রেনের লাইনের সংখ্যা, লোকোমোটিভ, কোচ এগুলি আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি এটা সত্য। যেসব জায়গায় ঝুঁকি আছে, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, ডিরেল হয়ে যেতে পারে, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে এবার আমরা ঈদের আগে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। এটা চলমান আছে এবং সবসময় আমরা সতর্ক আছি। আশা করছি যে এখনকার ট্রেন লাইনের যে অবস্থা, তাতে বড় কোনো বিপর্যয় হবে না। এতটুকু আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। আমাদের ব্যবস্থাপনায় আমরা সর্বোচ্চ মনোযোগ রেখেছি।

ঈদযাত্রায় সার্বিকভাবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়ে রেলপথমন্ত্রী বলেন, সকাল থেকে মাত্র দুই থেকে তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরি করেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেনের চাকা স্লিপ করে। ট্রেন লাইনের ওপর খড় শুকানোর জন্য ছড়িয়ে রাখায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে রিলিফ ট্রেন পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। এ ঘটনার জেরে একটা ট্রেন ২০ মিনিট, একটা প্রায় এক ঘণ্টা এবং আরেকটা দুই ঘণ্টার মতো বিলম্ব হতে পারে। তবে বাকিগুলো ঠিকভাবে চলাচল করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান চাহিদার তুলনায় ট্রেন, রেললাইন, লোকোমোটিভ ও কোচের সংখ্যা এখনও পর্যাপ্ত নয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনে প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও প্রায় চার হাজার যাত্রীর যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষের ট্রেনে যাতায়াতের ইচ্ছা থাকে। সেই তুলনায় সক্ষমতা সীমিত, এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

রেলপথমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথগুলো চিহ্নিত করে ঈদের আগে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেললাইন যাতে ডিরেলমেন্ট বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে না পড়ে, সেজন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনে ঘরমুখী মানুষের বাড়তি চাপের মধ্যেও বড় ধরনের কোনো বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই বলে জানিয়ে তিনি বলেন, পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) নিয়েই সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ঈদযাত্রা পরিচালনা করা হচ্ছে। রেললাইনের ওপর খড় শুকাতে দেওয়ার কারণে একটি ট্রেনের চাকা পিছলে গিয়েছিল। এ কারণে সকালে তিনটি ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদযাত্রায় বিশেষ করে ট্রেনের যাত্রীদের প্রচুর চাহিদা থাকে। ঢাকার বাইরে যেতে চাওয়া মানুষের কাছে ট্রেনে যাত্রার আলাদা গুরুত্ব আছে। কিন্তু যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা ও সক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়। সাধারণ সময়ে আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিট ছেড়ে এখন প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

রেলমন্ত্রী বলেন, লাখ লাখ মানুষের ট্রেনে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে। সেই ব্যবস্থাপনা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ।

কমলাপুর স্টেশনে আকস্মিক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আমি অনির্ধারিতভাবে স্টেশনে এসেছি। কোন ট্রেনে উঠব বা কখন আসব, সেটা আগে নির্ধারিত ছিল না। দুটি ট্রেনে উঠেছি। যাত্রীদের সন্তুষ্টি ও পরিবেশ আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। সিটিং ক্যাপাসিটির মধ্যেই যাত্রা হচ্ছে। যদিও যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় আমাদের ক্যাপাসিটির বাইরেও ২৫ শতাংশ টিকিট দিতে হয়েছে।

সকালে কয়েকটি ট্রেন বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে চলেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেনের চাকা স্লিপ করেছে। রেললাইনের ওপর ধানের খড় শুকাতে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে ইঞ্জিন ও কর্মী পাঠিয়ে ট্রেন সচল করতে হয়েছে। এ কারণে দুই থেকে তিনটি ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে। একটি প্রায় ২০ মিনিট, একটি এক ঘণ্টা এবং আরেকটি প্রায় দুই ঘণ্টা দেরি হতে পারে।

এই ঘটনায় পরদিনের শিডিউলে প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করছি আজকের মধ্যেই পরিস্থিতি ম্যানেজ হয়ে যাবে। গতকাল যেটা হয়েছিল, সেটাও আমরা অনেকটা ঠিক করেছি। আজকের সমস্যার জন্য স্পেয়ার লোকোমোটিভ ও অতিরিক্ত সক্ষমতা সেখানে শিফট করা হয়েছে।

রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখনো ১৯৩০, ১৯৪০ ও ১৯৪৫ সালের পুরোনো রেললাইন আছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো লোকোমোটিভ ও কোচ দিয়েই চলতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন, রেললাইন, লোকোমোটিভ ও কোচ বাড়ানো সম্ভব হয়নি, এটা সত্য।’

রেলমন্ত্রী বলেন, যেসব জায়গায় দুর্ঘটনা বা লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ঈদের আগে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা সতর্ক আছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় হবে না বলে আশা করছি।

রেললাইনের ওপর খড় শুকানোর ঘটনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জায়গাজুড়ে খড় শুকাতে দেওয়া হয়। এগুলো সরাতে গেলে অনেক সময় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়। আবার সব স্টেশন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত বা সুরক্ষিত নয়। প্রবেশ নিয়ন্ত্রণও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবতার মধ্যেই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

রেলমন্ত্রী দাবি করেন, রেলের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। যাত্রীরাও বলেছেন, আগে জরাজীর্ণ অবস্থা ছিল। এখন সার্ভিস ভালো হয়েছে, পরিবেশ ভালো হয়েছে। অনলাইনে আগে যে টিকিট বুক করছেন, তাঁকেই টিকিট দিতে পেরেছি। কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম হয়নি।

ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন: দুই ঘণ্টার বেশি বিলম্বে বুড়িমারী এক্সপ্রেস, ভোগান্তিতে যাত্রীরাঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন: দুই ঘণ্টার বেশি বিলম্বে বুড়িমারী এক্সপ্রেস, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঈদ উপলক্ষে আগামীকাল থেকে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু হবে বলেও জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া কোরবানির পশু পরিবহনে তিনটি ক্যাটল ট্রেন চালানো হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের সময় নতুন করে ৫১টি কোচ যুক্ত করেছি। বর্তমানে ৮২ থেকে ৮৩টি লোকোমোটিভ সচল আছে। আরও এক-দুটি যুক্ত করতে পারলে ৮৫ থেকে ৮৬টি লোকোমোটিভ পরিচালনায় রাখা সম্ভব হবে। তাহলে যাত্রী পরিবহনে খুব বেশি সমস্যা হবে না, স্মুদলি যাত্রা করা যাবে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।