Dhaka বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত করতে যা দরকার সবই করব : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার বিচার দ্রুত করতে যা যা প্রয়োজন তার সবই করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিশুটার জন্য সবার মন খারাপ। বিচারটা যেন ঝুলে না থাকে, সেটাই এখন সরকারের মাথাব্যথা। ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশার জবাব হবে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি আলোচিত আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় কার্যকর না হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকেরা জানতে চান, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নতুন অপরাধকে উৎসাহিত করছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আছিয়ার বাবার হতাশা তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে এসেছে। তবে সরকার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘আছিয়ার ঘটনায় সাত দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল, এক মাসের মধ্যে বিচারও শেষ হয়েছিল। এর চেয়ে দ্রুত বিচার করতে গেলে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের আগে ডেথ রেফারেন্স সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হয়। হাইকোর্ট বিভাগে পেপার বুক প্রস্তুতের একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা রয়েছে, যা অনেক সময় বিলম্বের কারণ হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ব্যতিক্রম করার নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেজর সিনহা হত্যা মামলা ও আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি নিয়ে দ্রুত পেপার বুক করা হয়েছিল। রামিসা ও আছিয়ার মামলাতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আজ অফিসে এসে প্রথমেই পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছি। বলেছি, এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। সুতরাং রামিসার বাবার জবাব, উনি যেটা হতাশা ব্যক্ত করেছেন সেটার একমাত্র উত্তর হবে, যদি আমরা এই পোস্ট বিচার প্রক্রিয়াটাকে প্রত্যাশিতভাবে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে পারি, সেটাই হবে আমাদের জবাব। এর বাইরে এই বিষয়ে আমাদের কোনো রিয়াকশন দেয়ার কিছু নাই। আমরা যদি না করতে পারি তখন উনার কথাটা সত্য প্রমাণিত হবে, ইজ আওয়ার আনসার।

রামিসার বাবা আদালতের ওপর ভরসা হারাচ্ছেন এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাবার রাগ-অভিমান ফেলে দেওয়া যায় না। তার জায়গায় আমি থাকলেও একই কথা বলতাম। বিচারব্যবস্থার গতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ আছে, মানি। ওই জটটা খুলতেই হবে।

সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আছিয়া মামলাটা আমাদের কাছে একটা এক্সাম্পল। ওটা এক মাসের মধ্যে শেষ করেছিলাম। ওই এক্সাম্পল ধরে যেন আমরা এগিয়ে যেতে পারি, চিন্তা করব।

কতদিনের মধ্যে কার্যকর হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্যকরের বিষয়টা আমাদের হাতে না। কার্যকরেরটা এটা সুপ্রিম কোর্টের হাতে। এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচার প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই কোন কোর্টের এই বিচার প্রক্রিয়ায় আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এখানে যেহেতু পেপার বুক করার একটা এম্বারগো আছে। আর ট্রায়াল কোর্টে পেপার বুক করা এম্বারগো না। আমি আমার পাবলিক প্রসিকিউটরকে বলতে পারি যে এইটা ফাস্টট্র্যাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য, জজ সাহেব বাকিটা দেখবেন।

তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারে, তবে আদালতের বিচারিক কাজে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেই মামলাটির বিচার হবে বলে জানান তিনি।

দেশে বিচারজটের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন। এত বিপুল মামলা রাতারাতি নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। তবে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকার যে কমিটি করেছে, সে কমিটির আজকে প্রথম মিটিং ছিল। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সেখানে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনো রেপ কেস (ধর্ষণ মামলা) বিবেচনায় আসবে না। কোনো ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের বিবেচনার বিষয়টি তালিকাতেই আসবে না। এটা আমাদের আজকের সিদ্ধান্ত।

আবহাওয়া

রামিসা হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দ্রুত দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত করতে যা দরকার সবই করব : আইনমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার বিচার দ্রুত করতে যা যা প্রয়োজন তার সবই করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিশুটার জন্য সবার মন খারাপ। বিচারটা যেন ঝুলে না থাকে, সেটাই এখন সরকারের মাথাব্যথা। ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশার জবাব হবে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি আলোচিত আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় কার্যকর না হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকেরা জানতে চান, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নতুন অপরাধকে উৎসাহিত করছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আছিয়ার বাবার হতাশা তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে এসেছে। তবে সরকার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘আছিয়ার ঘটনায় সাত দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল, এক মাসের মধ্যে বিচারও শেষ হয়েছিল। এর চেয়ে দ্রুত বিচার করতে গেলে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের আগে ডেথ রেফারেন্স সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হয়। হাইকোর্ট বিভাগে পেপার বুক প্রস্তুতের একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা রয়েছে, যা অনেক সময় বিলম্বের কারণ হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ব্যতিক্রম করার নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেজর সিনহা হত্যা মামলা ও আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি নিয়ে দ্রুত পেপার বুক করা হয়েছিল। রামিসা ও আছিয়ার মামলাতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আজ অফিসে এসে প্রথমেই পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছি। বলেছি, এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। সুতরাং রামিসার বাবার জবাব, উনি যেটা হতাশা ব্যক্ত করেছেন সেটার একমাত্র উত্তর হবে, যদি আমরা এই পোস্ট বিচার প্রক্রিয়াটাকে প্রত্যাশিতভাবে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে পারি, সেটাই হবে আমাদের জবাব। এর বাইরে এই বিষয়ে আমাদের কোনো রিয়াকশন দেয়ার কিছু নাই। আমরা যদি না করতে পারি তখন উনার কথাটা সত্য প্রমাণিত হবে, ইজ আওয়ার আনসার।

রামিসার বাবা আদালতের ওপর ভরসা হারাচ্ছেন এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাবার রাগ-অভিমান ফেলে দেওয়া যায় না। তার জায়গায় আমি থাকলেও একই কথা বলতাম। বিচারব্যবস্থার গতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ আছে, মানি। ওই জটটা খুলতেই হবে।

সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আছিয়া মামলাটা আমাদের কাছে একটা এক্সাম্পল। ওটা এক মাসের মধ্যে শেষ করেছিলাম। ওই এক্সাম্পল ধরে যেন আমরা এগিয়ে যেতে পারি, চিন্তা করব।

কতদিনের মধ্যে কার্যকর হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্যকরের বিষয়টা আমাদের হাতে না। কার্যকরেরটা এটা সুপ্রিম কোর্টের হাতে। এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচার প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই কোন কোর্টের এই বিচার প্রক্রিয়ায় আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এখানে যেহেতু পেপার বুক করার একটা এম্বারগো আছে। আর ট্রায়াল কোর্টে পেপার বুক করা এম্বারগো না। আমি আমার পাবলিক প্রসিকিউটরকে বলতে পারি যে এইটা ফাস্টট্র্যাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য, জজ সাহেব বাকিটা দেখবেন।

তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারে, তবে আদালতের বিচারিক কাজে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেই মামলাটির বিচার হবে বলে জানান তিনি।

দেশে বিচারজটের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন। এত বিপুল মামলা রাতারাতি নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। তবে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকার যে কমিটি করেছে, সে কমিটির আজকে প্রথম মিটিং ছিল। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সেখানে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনো রেপ কেস (ধর্ষণ মামলা) বিবেচনায় আসবে না। কোনো ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের বিবেচনার বিষয়টি তালিকাতেই আসবে না। এটা আমাদের আজকের সিদ্ধান্ত।