Dhaka শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামীর টুকরো করা দেহ ফ্রিজে লুকাতে গিয়ে আটক স্ত্রী

শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি : 

শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে, কিছু অংশের হাড়-মাংস আলাদা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে এবং মাংস ফ্রিজে লুকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন এক গৃহবধূ।

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে শরীয়তপুর পৌর এলাকার পালং উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে আসমা আক্তার নামের ওই নারীকে আটক করে পালং মডেল থানা পুলিশ।

আটক হওয়া আসমা আক্তার শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার জিয়া সরদারের স্ত্রী।

তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। তার জের ধরে মঙ্গলবার রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী জিয়া সরদারকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন আসমা আক্তার। এরপর মরদেহটি লুকিয়ে রাখতে ছুরির সাহায্যে দেহটি ছয় টুকরো করে হাড়-মাংস আলাদা করেন তিনি। পরে ড্রামে ও ফ্রিজে ভরে রাখেন তিন দিন।

ওসি আরও বলেন, শুক্রবার রাতে অটোরিকশা ভাড়া করে ড্রাম থেকে মরদেহের একটি অংশ মুলফৎগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে সাদা প্লাস্টিকে মোড়ানো একটি ব্যাগ করে ফেলে দেন আসমা। এর পর বাকী অংশ বস্তায় ভরে ফেলে আসেন শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায়।

পরবর্তীতে তিনি দেহের মাংসগুলো শহরের উত্তর পালং এর শাবনুর মার্কেট এলাকায় পুরাতন ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে যান তিনি। তখন তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা।

পুলিশ আটকের পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আসমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করতো। ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে সে দরজার সাথে বাড়ি খেয়ে নিজে পড়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনি এতো জোরে আঘাত লাগবে। ঐদিন সারা রাত লাশ নিয়ে বসে থাকি। পরেরদিন ধারালো ছুরি দিয়ে মরদেহ টুকরো টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দেই। কিন্তু এই ঘটনা কীভাবে ঘটে গেলো বুঝতে পারিনি।

মোবাইলফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে আট বছর আগে মালেয়শিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন পিরোজপুরের আসমা। এটি তাদের দুজনের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

বিয়ের পর আসমাকে শরীয়তপুর শহরের উত্তর পালং সাবনুর মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় রাখেন জিয়া। গত বছর তিনি দেশে ফিরলে চন্দ্রপুর বাজারের গ্রামীণ ব্যাংকের পিছনের এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন দুজনে।

নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালীন ওই নারীকে বিয়ে করেন। ভাই দেশে আসার পর আলাদা একটি জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। আমার ভাইকে ওই নারী হত্যা করে ড্রামে ভরে মরদেহ ফেলে রেখেছে। পুলিশ ওই নারীকে আটক করেছে। আমি অপরাধীর শাস্তির দাবি জানাই।

সাবনুর মর্কেট এলাকার রানু বেগম বলেন, আসমা আক্তার পচা মাংস ফ্রিজে রাখতে আসলে গন্ধ ছড়ায়। এতে আমাদের সন্দেহ হয়। তখন আমরা ৯৯৯ কল করে পুলিশকে জানাই। পরে পুলিশ এসে তার স্বামীর মাংসসহ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

ওসি শাহ আলম বলেন, আমরা ড্রাম খুলে বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অকপটে সব কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করি।

এছাড়াও একই দিন রাতে নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীর থেকে নিহতের খণ্ডিত চার হাত-পা উদ্ধার করে নড়িয়া থানা পুলিশ।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আবহাওয়া

ফারাক্কা চুক্তিই বলে দেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে কি না : মির্জা ফখরুল

স্বামীর টুকরো করা দেহ ফ্রিজে লুকাতে গিয়ে আটক স্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি : 

শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে, কিছু অংশের হাড়-মাংস আলাদা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে এবং মাংস ফ্রিজে লুকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন এক গৃহবধূ।

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে শরীয়তপুর পৌর এলাকার পালং উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে আসমা আক্তার নামের ওই নারীকে আটক করে পালং মডেল থানা পুলিশ।

আটক হওয়া আসমা আক্তার শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার জিয়া সরদারের স্ত্রী।

তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। তার জের ধরে মঙ্গলবার রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী জিয়া সরদারকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন আসমা আক্তার। এরপর মরদেহটি লুকিয়ে রাখতে ছুরির সাহায্যে দেহটি ছয় টুকরো করে হাড়-মাংস আলাদা করেন তিনি। পরে ড্রামে ও ফ্রিজে ভরে রাখেন তিন দিন।

ওসি আরও বলেন, শুক্রবার রাতে অটোরিকশা ভাড়া করে ড্রাম থেকে মরদেহের একটি অংশ মুলফৎগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে সাদা প্লাস্টিকে মোড়ানো একটি ব্যাগ করে ফেলে দেন আসমা। এর পর বাকী অংশ বস্তায় ভরে ফেলে আসেন শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায়।

পরবর্তীতে তিনি দেহের মাংসগুলো শহরের উত্তর পালং এর শাবনুর মার্কেট এলাকায় পুরাতন ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে যান তিনি। তখন তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা।

পুলিশ আটকের পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আসমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করতো। ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে সে দরজার সাথে বাড়ি খেয়ে নিজে পড়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনি এতো জোরে আঘাত লাগবে। ঐদিন সারা রাত লাশ নিয়ে বসে থাকি। পরেরদিন ধারালো ছুরি দিয়ে মরদেহ টুকরো টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দেই। কিন্তু এই ঘটনা কীভাবে ঘটে গেলো বুঝতে পারিনি।

মোবাইলফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে আট বছর আগে মালেয়শিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন পিরোজপুরের আসমা। এটি তাদের দুজনের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

বিয়ের পর আসমাকে শরীয়তপুর শহরের উত্তর পালং সাবনুর মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় রাখেন জিয়া। গত বছর তিনি দেশে ফিরলে চন্দ্রপুর বাজারের গ্রামীণ ব্যাংকের পিছনের এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন দুজনে।

নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালীন ওই নারীকে বিয়ে করেন। ভাই দেশে আসার পর আলাদা একটি জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। আমার ভাইকে ওই নারী হত্যা করে ড্রামে ভরে মরদেহ ফেলে রেখেছে। পুলিশ ওই নারীকে আটক করেছে। আমি অপরাধীর শাস্তির দাবি জানাই।

সাবনুর মর্কেট এলাকার রানু বেগম বলেন, আসমা আক্তার পচা মাংস ফ্রিজে রাখতে আসলে গন্ধ ছড়ায়। এতে আমাদের সন্দেহ হয়। তখন আমরা ৯৯৯ কল করে পুলিশকে জানাই। পরে পুলিশ এসে তার স্বামীর মাংসসহ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

ওসি শাহ আলম বলেন, আমরা ড্রাম খুলে বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অকপটে সব কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করি।

এছাড়াও একই দিন রাতে নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীর থেকে নিহতের খণ্ডিত চার হাত-পা উদ্ধার করে নড়িয়া থানা পুলিশ।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।