Dhaka বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মামলা থেকে নাম সরাতে ‘এক কোটি’ টাকার প্রস্তাব পেয়েছেন সাকিব

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ২১১ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এমন দাবি করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয়েছে। বাদ নেই ক্রিকেটার ও দলটির সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও।

তবে সাকিবের দাবি একটি মহল থেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল— নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে তারা নিজেরাও জানে না যে মামলা হওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষ চাইলে নাম সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়।

সাক্ষাৎকারে এ ক্রিকেটার বলেন, ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।’

কারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল এমন প্রশ্নে সাকিব জানান, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যার নাম ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে দেন। তবে কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি।

প্রস্তাব পেয়ে কী জবাব দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘আচ্ছা, এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো। আমিও এই আশাই করি, যেন অনেক বেশি টাকা থাকে আমার কোনো সময় (হাসি)।’

সাঈদ জামানের জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘সিম্পলি সাঈদ’-এর পডকাস্ট ‘অফস্ক্রিন উইথ সাইদ জামান’-এ সাকিব আল হাসান তার সম্পদ, ব্যবসা ও চলমান সংকট নিয়ে স্পষ্ট কথা বলেছেন।

গুগলে সাকিবের নাম খুঁজলে একটি ওয়েবসাইটে তার সম্পদের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ দেখা যায়। এ নিয়ে প্রশ্ন করায় সাকিব সরাসরি জবাব দেন, ‘এটা আমি দেখতে চাই আসলে যে কই আছে এই সম্পদটা। এই সম্পদটা যদি আমি পেতাম, আমার এখন সবচেয়ে বেশি উপকার হতো। কারণ আমার তো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে আছে লাস্ট দেড়-দুই বছর অলমোস্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অ্যাকাউন্টগুলো আমার আসলে দেখার দরকার ছিল যে আসলে কই আছে এই টাকাগুলো।’ যে ওয়েবসাইট এই তথ্য ছড়িয়েছে, সাকিবের ভাষায় সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে এমন খবর তাকে সাময়িক আশা দিলেও বাস্তবে কোনো সত্যতা নেই বলে জানান তিনি।

সাকিব স্বীকার করেছেন, যেসব ব্যবসায় তার নাম জড়িয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তিনি নিজেই অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী। তদন্তকারী সংস্থাকে সব ধরনের তথ্য দিতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। ‘আমি সবসময় বলে আসছি যে আমি তাদের তদন্তে সহায়তা করতে রাজি, যেখানে আমি ভুক্তভোগী। তদন্তকারী যারা আছেন, তাদেরকে আমি হেল্প করব। আপনাদের যে ধরনের ইনফরমেশন লাগে, আমি দিতে রাজি আছি।’

তার মতে, নাম বড় হওয়ায় সব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনিই চলে আসেন। ‘যেহেতু আমার নামটাই বড়, সেহেতু সবসময় মনে হচ্ছে যেন এই কেসগুলোতে আমি শুধু আছি, আর কেউ নাই।’ এ কারণে তাকে আর্থিক ও সামাজিক দুই ধরনের চাপই সহ্য করতে হচ্ছে।’ তিনি একে ‘ডাবল সাফারিং’ বলে অভিহিত করেছেন।

সাকিব জানান, ক্রিকেট নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে ব্যবসার খুঁটিনাটি বিষয়ে তেমন মনোযোগ দিতে পারেননি। তিনি ভবিষ্যতে অংশীদার বাছাইয়ে আরও সতর্ক থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। মানুষের ধারণার চেয়ে তার ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা অনেক কম বলে দাবি করেন তিনি। উল্লেখযোগ্য ব্যবসার মধ্যে রয়েছে রেস্টুরেন্ট (যা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে), স্টক এক্সচেঞ্জ সংক্রান্ত উদ্যোগ আর কাঁকড়ার খামার।

কাঁকড়ার খামার নিয়ে সাকিব বলেন, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ না থাকলে এটি চালিয়ে ঋণ পরিশোধ করা কোনো বড় সমস্যা হতো না। ‘এই বিজনেসটা রান করতে পারলেই এটা খুবই প্রফিটেবল একটা বিজনেস। যারা ওই এলাকাতে করছে, তারা অনেক ভালো করছে।’
বরং তার দাবি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে আরো পরিপক্ব করেছে এবং রাজনীতিতে কাজ করার আগ্রহ আরো বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়লেও নিজের অবস্থানে এখনো অনড় এই সাবেক সংসদ সদস্য।

সাকিবকে প্রশ্ন করা হয়, গত দেড়-দুই বছরের অভিজ্ঞতার পর তার কি মনে হয় আরো ভেবেচিন্তে রাজনীতিতে আসা উচিত ছিল? জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘না, আমার মনে হয় ঠিক ছিল, ঠিক আছে, ঠিকই থাকবে। আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না; ১ বছর, ৫ বছর, ১০ বছর পরে মনে হয় যে সেটাই ঠিক ছিল।

মানুষ বারবার ভুলে যায় যে আমি একটা নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। আর ক্রিকেট যখন খেলেছি, সারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি। এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন দেখেই আমি জিতেছি। তারা যদি ভোট না দিতেন, আমি জিততাম না। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি। তাঁরা এই পার্থক্যটা করতে পারেন না।’

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে নিজের বর্তমান ভাবনা জানাতে গিয়ে সাকিব বলেন, দেশে এখনো রাজনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তবে তার মতে, রাজনীতি কোনো খারাপ বিষয় নয়; বরং মানুষের সেবা করার সবচেয়ে বড় জায়গাগুলোর একটি।

সাকিব বলেন, ‘আমার মনে হয়, আরো অনেক বেশি কিছু করার আছে এখানে, যেটা আমি চিন্তা করতাম, তার থেকেও বেশি কিছু। আগে ভাবতাম সিদ্ধান্ত নিলেই হয়তো সিস্টেমের অনেক কিছু বদলে ফেলা সম্ভব। এখন মনে হয় আরো বেশি কিছু করার দরকার আছে। রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলানোরও দরকার আছে। আমাদের দেশের অনেক মানুষ মনে করে, রাজনীতি খারাপ জিনিস। কিন্তু রাজনীতি ছাড়া তো কোনো কিছু বদলানো সম্ভব নয়। আমি বুঝি না যে রাজনীতিটা কীভাবে খারাপ জিনিস হলো? এখানে তো মানুষের সেবা করার সুযোগ আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যাদের নির্বাচিত করি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা সেবা করার চেয়ে সেবা নিতে পছন্দ করেন বেশি। নিজেদের লাভের জন্য রাজনীতিতে আসেন। যাঁরা সেবা করতে আসতে চান, তাঁদের আমরা আবার ঢুকতে দিই না। যে কেউ রাজনীতিতে আসতে পারেন, যে কেউ যেকোনো দল করতে পারেন। এটাতে রাইট-রংয়ের কোনো বিষয় নেই। যে খারাপ কাজ করবেন কিংবা করছেন তাকে শাস্তি দিতে হবে, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু এটাও নিশ্চিত করা উচিত কেউ যেন বিনা কারণে না ভোগে। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আপনি-আমি সবাই তো সেটাই চাই যে ভালো মানুষ ভালো থাকবে, খারাপ মানুষের শাস্তি হবে। আবার তাদের ভালো হওয়ার সুযোগও দিতে হবে।’

নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ আছে কি না এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘হ্যাঁ, তারাই যোগাযোগ করে, আছে। একটা যোগাযোগ তো থাকেই।’

রাজনীতির ও দলের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে ক্রিকেটার হিসেবে দেশে ফেরাটাকে নেতা-কর্মীরা কীভাবে দেখবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সেটা তো আসলে আমার পক্ষে বলা মুশকিল। ওনারাই ভালো জানবেন।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে এবার খোলামেলা কথা বলেছেন সাকিব আল হাসান। জাতীয় দলে ফেরা, বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

সাকিব জানান, তামিম সভাপতি হওয়ার পর একবারই তাদের যোগাযোগ হয়েছিল। সেটিও ছিল ক্যাপ্টেনস কার্ড ও ক্রিকেটার্স কার্ড নেওয়ার বিষয়ে।

কার্ড নেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ ছাড়া কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, ‘না, ওই সময়ই ফোন দিয়ে বলেছিল যে আমারও কার্ড আছে। ওইটা নেওয়ার জন্য। ক্যাপ্টেনস কার্ড, ক্রিকেটার্স কার্ড দুইটা কার্ডই পাব ইনশা আল্লাহ।

দেশে ফেরা ও মামলা-মোকদ্দমার প্রসঙ্গে তামিম সম্প্রতি সাকিব, নাঈমুর রহমান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার একই অবস্থায় থাকার কথা বলেছিলেন। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘(হাসি) আসলে আমি জানি না যে দুর্জয় ভাই (নাঈমুর) আর মাশরাফি ভাই আবার জাতীয় দলে খেলবেন, এ রকম চিন্তা করছেন কি না।

সেটা হলে হয়তো আমরা তিনজন একই পর্যায়ে আছি। সেটা না হলে একই পর্যায়ে অবশ্যই আমরা নেই। তিনজন তিনটা পর্যায়ে আছি। আমি এটা অবশ্যই সমর্থন করি যে যারা ভুক্তভোগী সবার নামই আলোচনায় আসা উচিত। কিন্তু যদি বলেন যে খেলার প্রশ্ন, তাহলে তো আমার মনে হয় বাংলাদেশ দল হয়তো একজন অফ স্পিনার আর একজন পেস বোলার খুঁজছে। আর আমি লেফট আর্ম স্পিনার। সেটা যদি না হয়, তাহলে এটা সম্পূর্ণ ভুল একটা কথা আমার মনে হয়। আমার ফেরার সঙ্গে খেলা জড়িত, এটা না বোঝার কিছু নেই।’

প্রশ্ন: তামিম ইকবালের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল আপনার। তো তিনি বোর্ডের দায়িত্ব নেওয়াতে আপনার জন্য সুবিধা হলো নাকি অসুবিধা হলো?
সাকিব: এখানে সুবিধা-অসুবিধা হওয়ার কিছু আছে বলে মনে করি না। তবে নির্বাচনের পরে একটা বোর্ড এলে তাদের যদি কোনো চিন্তা থাকে তো থাকল কিংবা যদি চিন্তা না থাকে, সেটাও আমি জানব।

প্রশ্ন: রাজনীতিতে তো ঢুকেছেন। তামিমের মতো ভবিষ্যতে ক্রিকেট প্রশাসনেও কি আসার ইচ্ছা আছে?

সাকিব: না। আমি মনে হয় আগেও বলছি যে আমার ও রকম ইচ্ছা নেই। খেলা ছাড়ার পর আমার স্পোর্টসের সঙ্গে থাকার কোনো ইচ্ছা নেই বললেই চলে। তবে কোচিং করানো বা মেন্টর ধরনের কিছু হলে হয়তো একটা সম্ভাবনা থাকবে। সেটা আমি উপভোগ করব। এ ছাড়া নয়।

একসময় তামিমের সঙ্গে দূরত্বের গুঞ্জন থাকলেও, বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি তার জন্য সুবিধা নাকি অসুবিধা—এ প্রশ্নেও সাকিব বলেন, ‘এখানে সুবিধা-অসুবিধা হওয়ার কিছু আছে বলে মনে করি না। তবে নির্বাচনের পরে একটা বোর্ড এলে তাদের যদি কোনো চিন্তা থাকে তো থাকল কিংবা যদি চিন্তা না থাকে, সেটাও আমি জানব।’

রাজনীতিতে যুক্ত হলেও ভবিষ্যতে তামিমের মতো ক্রিকেট প্রশাসনে আসার আগ্রহ নেই বলেও জানিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘না। আমি মনে হয় আগেও বলছি যে আমার ও রকম ইচ্ছা নেই। খেলা ছাড়ার পর আমার স্পোর্টসের সঙ্গে থাকার কোনো ইচ্ছা নেই বললেই চলে। তবে কোচিং করানো বা মেন্টর ধরনের কিছু হলে হয়তো একটা সম্ভাবনা থাকবে। সেটা আমি উপভোগ করব। এ ছাড়া নয়।’

ভবিষ্যতে কোচিং কোর্স করার ইচ্ছা কিনা এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘না, কোর্স করার কোনো ইচ্ছা নেই, কোর্স করে কোচ হব না।’

আবহাওয়া

পায়রা নদীতে পাওয়া গেল ২ কেজি ওজনের ইলিশ

মামলা থেকে নাম সরাতে ‘এক কোটি’ টাকার প্রস্তাব পেয়েছেন সাকিব

প্রকাশের সময় : ১২:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এমন দাবি করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয়েছে। বাদ নেই ক্রিকেটার ও দলটির সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও।

তবে সাকিবের দাবি একটি মহল থেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল— নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে তারা নিজেরাও জানে না যে মামলা হওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষ চাইলে নাম সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়।

সাক্ষাৎকারে এ ক্রিকেটার বলেন, ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।’

কারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল এমন প্রশ্নে সাকিব জানান, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যার নাম ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে দেন। তবে কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি।

প্রস্তাব পেয়ে কী জবাব দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘আচ্ছা, এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো। আমিও এই আশাই করি, যেন অনেক বেশি টাকা থাকে আমার কোনো সময় (হাসি)।’

সাঈদ জামানের জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘সিম্পলি সাঈদ’-এর পডকাস্ট ‘অফস্ক্রিন উইথ সাইদ জামান’-এ সাকিব আল হাসান তার সম্পদ, ব্যবসা ও চলমান সংকট নিয়ে স্পষ্ট কথা বলেছেন।

গুগলে সাকিবের নাম খুঁজলে একটি ওয়েবসাইটে তার সম্পদের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ দেখা যায়। এ নিয়ে প্রশ্ন করায় সাকিব সরাসরি জবাব দেন, ‘এটা আমি দেখতে চাই আসলে যে কই আছে এই সম্পদটা। এই সম্পদটা যদি আমি পেতাম, আমার এখন সবচেয়ে বেশি উপকার হতো। কারণ আমার তো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে আছে লাস্ট দেড়-দুই বছর অলমোস্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অ্যাকাউন্টগুলো আমার আসলে দেখার দরকার ছিল যে আসলে কই আছে এই টাকাগুলো।’ যে ওয়েবসাইট এই তথ্য ছড়িয়েছে, সাকিবের ভাষায় সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে এমন খবর তাকে সাময়িক আশা দিলেও বাস্তবে কোনো সত্যতা নেই বলে জানান তিনি।

সাকিব স্বীকার করেছেন, যেসব ব্যবসায় তার নাম জড়িয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তিনি নিজেই অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী। তদন্তকারী সংস্থাকে সব ধরনের তথ্য দিতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। ‘আমি সবসময় বলে আসছি যে আমি তাদের তদন্তে সহায়তা করতে রাজি, যেখানে আমি ভুক্তভোগী। তদন্তকারী যারা আছেন, তাদেরকে আমি হেল্প করব। আপনাদের যে ধরনের ইনফরমেশন লাগে, আমি দিতে রাজি আছি।’

তার মতে, নাম বড় হওয়ায় সব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনিই চলে আসেন। ‘যেহেতু আমার নামটাই বড়, সেহেতু সবসময় মনে হচ্ছে যেন এই কেসগুলোতে আমি শুধু আছি, আর কেউ নাই।’ এ কারণে তাকে আর্থিক ও সামাজিক দুই ধরনের চাপই সহ্য করতে হচ্ছে।’ তিনি একে ‘ডাবল সাফারিং’ বলে অভিহিত করেছেন।

সাকিব জানান, ক্রিকেট নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে ব্যবসার খুঁটিনাটি বিষয়ে তেমন মনোযোগ দিতে পারেননি। তিনি ভবিষ্যতে অংশীদার বাছাইয়ে আরও সতর্ক থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। মানুষের ধারণার চেয়ে তার ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা অনেক কম বলে দাবি করেন তিনি। উল্লেখযোগ্য ব্যবসার মধ্যে রয়েছে রেস্টুরেন্ট (যা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে), স্টক এক্সচেঞ্জ সংক্রান্ত উদ্যোগ আর কাঁকড়ার খামার।

কাঁকড়ার খামার নিয়ে সাকিব বলেন, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ না থাকলে এটি চালিয়ে ঋণ পরিশোধ করা কোনো বড় সমস্যা হতো না। ‘এই বিজনেসটা রান করতে পারলেই এটা খুবই প্রফিটেবল একটা বিজনেস। যারা ওই এলাকাতে করছে, তারা অনেক ভালো করছে।’
বরং তার দাবি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে আরো পরিপক্ব করেছে এবং রাজনীতিতে কাজ করার আগ্রহ আরো বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়লেও নিজের অবস্থানে এখনো অনড় এই সাবেক সংসদ সদস্য।

সাকিবকে প্রশ্ন করা হয়, গত দেড়-দুই বছরের অভিজ্ঞতার পর তার কি মনে হয় আরো ভেবেচিন্তে রাজনীতিতে আসা উচিত ছিল? জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘না, আমার মনে হয় ঠিক ছিল, ঠিক আছে, ঠিকই থাকবে। আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না; ১ বছর, ৫ বছর, ১০ বছর পরে মনে হয় যে সেটাই ঠিক ছিল।

মানুষ বারবার ভুলে যায় যে আমি একটা নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। আর ক্রিকেট যখন খেলেছি, সারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি। এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন দেখেই আমি জিতেছি। তারা যদি ভোট না দিতেন, আমি জিততাম না। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি। তাঁরা এই পার্থক্যটা করতে পারেন না।’

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে নিজের বর্তমান ভাবনা জানাতে গিয়ে সাকিব বলেন, দেশে এখনো রাজনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তবে তার মতে, রাজনীতি কোনো খারাপ বিষয় নয়; বরং মানুষের সেবা করার সবচেয়ে বড় জায়গাগুলোর একটি।

সাকিব বলেন, ‘আমার মনে হয়, আরো অনেক বেশি কিছু করার আছে এখানে, যেটা আমি চিন্তা করতাম, তার থেকেও বেশি কিছু। আগে ভাবতাম সিদ্ধান্ত নিলেই হয়তো সিস্টেমের অনেক কিছু বদলে ফেলা সম্ভব। এখন মনে হয় আরো বেশি কিছু করার দরকার আছে। রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলানোরও দরকার আছে। আমাদের দেশের অনেক মানুষ মনে করে, রাজনীতি খারাপ জিনিস। কিন্তু রাজনীতি ছাড়া তো কোনো কিছু বদলানো সম্ভব নয়। আমি বুঝি না যে রাজনীতিটা কীভাবে খারাপ জিনিস হলো? এখানে তো মানুষের সেবা করার সুযোগ আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যাদের নির্বাচিত করি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা সেবা করার চেয়ে সেবা নিতে পছন্দ করেন বেশি। নিজেদের লাভের জন্য রাজনীতিতে আসেন। যাঁরা সেবা করতে আসতে চান, তাঁদের আমরা আবার ঢুকতে দিই না। যে কেউ রাজনীতিতে আসতে পারেন, যে কেউ যেকোনো দল করতে পারেন। এটাতে রাইট-রংয়ের কোনো বিষয় নেই। যে খারাপ কাজ করবেন কিংবা করছেন তাকে শাস্তি দিতে হবে, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু এটাও নিশ্চিত করা উচিত কেউ যেন বিনা কারণে না ভোগে। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আপনি-আমি সবাই তো সেটাই চাই যে ভালো মানুষ ভালো থাকবে, খারাপ মানুষের শাস্তি হবে। আবার তাদের ভালো হওয়ার সুযোগও দিতে হবে।’

নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ আছে কি না এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘হ্যাঁ, তারাই যোগাযোগ করে, আছে। একটা যোগাযোগ তো থাকেই।’

রাজনীতির ও দলের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে ক্রিকেটার হিসেবে দেশে ফেরাটাকে নেতা-কর্মীরা কীভাবে দেখবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সেটা তো আসলে আমার পক্ষে বলা মুশকিল। ওনারাই ভালো জানবেন।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে এবার খোলামেলা কথা বলেছেন সাকিব আল হাসান। জাতীয় দলে ফেরা, বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

সাকিব জানান, তামিম সভাপতি হওয়ার পর একবারই তাদের যোগাযোগ হয়েছিল। সেটিও ছিল ক্যাপ্টেনস কার্ড ও ক্রিকেটার্স কার্ড নেওয়ার বিষয়ে।

কার্ড নেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ ছাড়া কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, ‘না, ওই সময়ই ফোন দিয়ে বলেছিল যে আমারও কার্ড আছে। ওইটা নেওয়ার জন্য। ক্যাপ্টেনস কার্ড, ক্রিকেটার্স কার্ড দুইটা কার্ডই পাব ইনশা আল্লাহ।

দেশে ফেরা ও মামলা-মোকদ্দমার প্রসঙ্গে তামিম সম্প্রতি সাকিব, নাঈমুর রহমান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার একই অবস্থায় থাকার কথা বলেছিলেন। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘(হাসি) আসলে আমি জানি না যে দুর্জয় ভাই (নাঈমুর) আর মাশরাফি ভাই আবার জাতীয় দলে খেলবেন, এ রকম চিন্তা করছেন কি না।

সেটা হলে হয়তো আমরা তিনজন একই পর্যায়ে আছি। সেটা না হলে একই পর্যায়ে অবশ্যই আমরা নেই। তিনজন তিনটা পর্যায়ে আছি। আমি এটা অবশ্যই সমর্থন করি যে যারা ভুক্তভোগী সবার নামই আলোচনায় আসা উচিত। কিন্তু যদি বলেন যে খেলার প্রশ্ন, তাহলে তো আমার মনে হয় বাংলাদেশ দল হয়তো একজন অফ স্পিনার আর একজন পেস বোলার খুঁজছে। আর আমি লেফট আর্ম স্পিনার। সেটা যদি না হয়, তাহলে এটা সম্পূর্ণ ভুল একটা কথা আমার মনে হয়। আমার ফেরার সঙ্গে খেলা জড়িত, এটা না বোঝার কিছু নেই।’

প্রশ্ন: তামিম ইকবালের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল আপনার। তো তিনি বোর্ডের দায়িত্ব নেওয়াতে আপনার জন্য সুবিধা হলো নাকি অসুবিধা হলো?
সাকিব: এখানে সুবিধা-অসুবিধা হওয়ার কিছু আছে বলে মনে করি না। তবে নির্বাচনের পরে একটা বোর্ড এলে তাদের যদি কোনো চিন্তা থাকে তো থাকল কিংবা যদি চিন্তা না থাকে, সেটাও আমি জানব।

প্রশ্ন: রাজনীতিতে তো ঢুকেছেন। তামিমের মতো ভবিষ্যতে ক্রিকেট প্রশাসনেও কি আসার ইচ্ছা আছে?

সাকিব: না। আমি মনে হয় আগেও বলছি যে আমার ও রকম ইচ্ছা নেই। খেলা ছাড়ার পর আমার স্পোর্টসের সঙ্গে থাকার কোনো ইচ্ছা নেই বললেই চলে। তবে কোচিং করানো বা মেন্টর ধরনের কিছু হলে হয়তো একটা সম্ভাবনা থাকবে। সেটা আমি উপভোগ করব। এ ছাড়া নয়।

একসময় তামিমের সঙ্গে দূরত্বের গুঞ্জন থাকলেও, বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি তার জন্য সুবিধা নাকি অসুবিধা—এ প্রশ্নেও সাকিব বলেন, ‘এখানে সুবিধা-অসুবিধা হওয়ার কিছু আছে বলে মনে করি না। তবে নির্বাচনের পরে একটা বোর্ড এলে তাদের যদি কোনো চিন্তা থাকে তো থাকল কিংবা যদি চিন্তা না থাকে, সেটাও আমি জানব।’

রাজনীতিতে যুক্ত হলেও ভবিষ্যতে তামিমের মতো ক্রিকেট প্রশাসনে আসার আগ্রহ নেই বলেও জানিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘না। আমি মনে হয় আগেও বলছি যে আমার ও রকম ইচ্ছা নেই। খেলা ছাড়ার পর আমার স্পোর্টসের সঙ্গে থাকার কোনো ইচ্ছা নেই বললেই চলে। তবে কোচিং করানো বা মেন্টর ধরনের কিছু হলে হয়তো একটা সম্ভাবনা থাকবে। সেটা আমি উপভোগ করব। এ ছাড়া নয়।’

ভবিষ্যতে কোচিং কোর্স করার ইচ্ছা কিনা এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘না, কোর্স করার কোনো ইচ্ছা নেই, কোর্স করে কোচ হব না।’