লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি :
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে খাদিমুল ইসলাম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোর রাতে উপজেলার বনচৌকি বিওপির আমঝোল সীমান্তের ৯০৫/৬ এস নং পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খাদেমুল হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর আমঝোল গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সীমান্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে বনচৌকি বিওপি সংলগ্ন সীমান্ত এলাকার মেইন পিলার নম্বর ৯০৫/৬ এস-এর কাছাকাছি এই ঘটনা ঘটে। ওই সময় কয়েকজনের একটি দল ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫০ গজ ভেতরে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছালে ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত ছররা গুলি বর্ষণ করে।
বিএসএফের ছোড়া ওই ছররা গুলি খাদেমুলের মুখমণ্ডল, বুক ও মাথায় মারাত্মকভাবে বিদ্ধ হয়। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি কোনোক্রমে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিজ এলাকায় ফিরে আসতে সক্ষম হন। এরপর তার সহযোগী এবং স্থানীয় লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করেন। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলির কথা প্রাথমিকভাবে বিএসএফ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে। বৈঠকে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী ঘটনার বিষয়ে বলেন, আমরা মধ্যরাতেই সীমান্তে ফায়ারিংয়ের বিষয়টি শুনেছি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি যে, গুলিবিদ্ধ ওই যুবক রংপুরের কোনো একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
ওসি আরও বলেন, আমরা এরই মধ্যে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে পুলিশের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টির তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি 






















