পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী বাইতুল মাল আকসা মসজিদ থেকে আব্দুল গফুর হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম বেহাল অবস্থায় পৌঁছেছে। এলাকাবাসীর কাছে এটি এখন ‘মারণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন থাকায় রাস্তার ইটের সলিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জলাবদ্ধতা ও কাদা জমে চলাচল সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ১.৪৫ কিলোমিটার এই সড়কটির উন্নয়নের জন্য প্রায় ২৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। নথিতে ইটের সলিং (এইচবিবি) কাজের কথা উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে রাস্তার অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই যে সেখানে কোনো মানসম্মত উন্নয়নকাজ হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার অধিকাংশ অংশ থেকে ইট সরে গিয়ে মাটি বেরিয়ে এসেছে। কোথাও কোথাও ইট ভেঙে গুঁড়া হয়ে গেছে। দীর্ঘ অবহেলায় রাস্তার মাঝখান উঁচু হয়ে দুই পাশ দেবে গেছে। এতে রিকশা, ভ্যান বা মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রোগী, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কৃষিপণ্য পরিবহনও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে চলাচল এখন আমাদের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া বা জরুরি সময়ে রোগী পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বহুবার জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসী দ্রুত রাস্তাটি কার্পেটিং বা পাকা করার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী চন্দন কুমার বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি টেকনিক্যাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে। আশা করছি, দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে ও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি 























