Dhaka সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতার সঙ্গে মারামারি : সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : 

রাজশাহীর দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্থানীয় বিএনপি নেতার জুতাপেটার শিকার আলোচিত শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চল।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মাদ আছাদুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঘটনার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে (আলেয়া খাতুন হীরা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত আলেয়া খাতুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার একজন শিক্ষক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্গাপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন আজ রবিবারের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন এবং অধ্যক্ষ ও প্রদর্শক আলেয়া খাতুনের জমা দেওয়ার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নারী শিক্ষক আলিয়া খাতুনকে জুতাপেটা করা মৎস্যচাষি ও বিএনপি কর্মী শাহাদাত আলীকে খুঁজছে পুলিশ। তাঁর নামে আদালতের একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। গত বৃহস্পতিবার এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়েই তিনি কলেজে ঢুকে ওই শিক্ষককে পা থেকে জুতা খুলে পিটিয়েছেন।

কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক কলেজে আসেননি। হামলার শিকার প্রদর্শক আলিয়া খাতুনও কলেজে আসেননি। বেলা দুইটা থেকে কলেজের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আছে। কলেজে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও কম।

কথা বলার জন্য কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করা যায়নি। ঘটনার দিন তাঁর মুঠোফোন ভেঙে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঘটনার দিনই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

তবে বিকল্প একটি মাধ্যমে প্রদর্শক আলিয়া খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে তিনি একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। কলেজে যাওয়ার মতো শারীরিক অবস্থার এখনো উন্নতি হয়নি। এ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুস্থ হওয়ার পরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তাঁরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেই আছেন।

জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। পুলিশ তাঁকে খুঁজছে। তাঁকে পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে। আর দাওকান্দি সরকারি কলেজের আহত অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলিয়া খাতুন এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।

এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী নগরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক এবং প্রদর্শক আলিয়া খাতুনের অপসারণ দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা। এ জন্য তাঁরা ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন। এ ছাড়া একই দাবিতে তাঁরা গতকাল বিকেলে এলাকায় মানববন্ধন করেছেন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কলেজে গিয়েছিলেন একটি তাফসির মাহফিলের আয়োজকেরা। তাঁরা বিএনপির নেতা-কর্মী। কলেজে আলিয়া খাতুনের সঙ্গে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে আলিয়া খাতুন তাঁদের দুজনকে থাপ্পড় দেন, একজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী শাহাদাত আলী কলেজে গিয়ে আলিয়ার সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। আলিয়ার দাবি, তাঁকে আপত্তিকর একটি বাজে কথা বললে তিনি তাঁকে চড় মেরেছেন। পাল্টা শাহাদাত আলী তাঁকে পা থেকে জুতা খুলে পিটিয়েছেন। খবর পেয়ে শাহাদাত আলীর ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহবুব এসে দ্বিতীয় দফা তাঁদের মারধর করেছেন। এরপর কলেজে পরীক্ষা শুরু হলে ৪০-৫০ জন বিএনপি নেতা-কর্মী এসে তৃতীয় দফা কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর এবং অধ্যক্ষসহ আলিয়া খাতুনকে মারধর করেছেন।

আবহাওয়া

তিনশো ফিটে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই শিক্ষার্থী নিহত

বিএনপি নেতার সঙ্গে মারামারি : সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত

প্রকাশের সময় : ০৯:০০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : 

রাজশাহীর দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্থানীয় বিএনপি নেতার জুতাপেটার শিকার আলোচিত শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চল।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মাদ আছাদুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঘটনার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে (আলেয়া খাতুন হীরা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত আলেয়া খাতুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার একজন শিক্ষক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্গাপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন আজ রবিবারের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন এবং অধ্যক্ষ ও প্রদর্শক আলেয়া খাতুনের জমা দেওয়ার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নারী শিক্ষক আলিয়া খাতুনকে জুতাপেটা করা মৎস্যচাষি ও বিএনপি কর্মী শাহাদাত আলীকে খুঁজছে পুলিশ। তাঁর নামে আদালতের একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। গত বৃহস্পতিবার এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়েই তিনি কলেজে ঢুকে ওই শিক্ষককে পা থেকে জুতা খুলে পিটিয়েছেন।

কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক কলেজে আসেননি। হামলার শিকার প্রদর্শক আলিয়া খাতুনও কলেজে আসেননি। বেলা দুইটা থেকে কলেজের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আছে। কলেজে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও কম।

কথা বলার জন্য কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করা যায়নি। ঘটনার দিন তাঁর মুঠোফোন ভেঙে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঘটনার দিনই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

তবে বিকল্প একটি মাধ্যমে প্রদর্শক আলিয়া খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে তিনি একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। কলেজে যাওয়ার মতো শারীরিক অবস্থার এখনো উন্নতি হয়নি। এ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুস্থ হওয়ার পরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তাঁরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেই আছেন।

জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। পুলিশ তাঁকে খুঁজছে। তাঁকে পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে। আর দাওকান্দি সরকারি কলেজের আহত অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলিয়া খাতুন এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।

এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী নগরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক এবং প্রদর্শক আলিয়া খাতুনের অপসারণ দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা। এ জন্য তাঁরা ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন। এ ছাড়া একই দাবিতে তাঁরা গতকাল বিকেলে এলাকায় মানববন্ধন করেছেন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কলেজে গিয়েছিলেন একটি তাফসির মাহফিলের আয়োজকেরা। তাঁরা বিএনপির নেতা-কর্মী। কলেজে আলিয়া খাতুনের সঙ্গে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে আলিয়া খাতুন তাঁদের দুজনকে থাপ্পড় দেন, একজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী শাহাদাত আলী কলেজে গিয়ে আলিয়ার সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। আলিয়ার দাবি, তাঁকে আপত্তিকর একটি বাজে কথা বললে তিনি তাঁকে চড় মেরেছেন। পাল্টা শাহাদাত আলী তাঁকে পা থেকে জুতা খুলে পিটিয়েছেন। খবর পেয়ে শাহাদাত আলীর ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহবুব এসে দ্বিতীয় দফা তাঁদের মারধর করেছেন। এরপর কলেজে পরীক্ষা শুরু হলে ৪০-৫০ জন বিএনপি নেতা-কর্মী এসে তৃতীয় দফা কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর এবং অধ্যক্ষসহ আলিয়া খাতুনকে মারধর করেছেন।