Dhaka সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ক্রীড়া কার্ড’ পেলেন আরো ১৭১ জন ক্রীড়াবিদ

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯৮ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিতকরণ এবং খেলাধুলাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী পেশা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ‘ক্রীড়া কার্ড’ কর্মসূচি জোরদার করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে ১৭১ জন ক্রীড়াবিদকে কার্ড ও মাসিক ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ এই বিশেষ সুবিধার আওতায় এলেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন অন্তর্ভুক্ত ১৭১ জন খেলোয়ারের হাতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এই কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ক্রীড়াবিদ মাসিক ১ লাখ টাকা করে ভাতা পাবেন। তবে এই সুবিধা স্থায়ী নয়; ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতি চার মাস পরপর তালিকা হালনাগাদ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, কার্ডধারী প্রত্যেক খেলোয়াড়কে বিশেষ বীমা সুবিধার আওতায় আনা হবে। এর ফলে মাঠের পারফরম্যান্স চলাকালীন বা ব্যক্তিগত জীবনে যেকোনো ধরনের ইনজুরিতে তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা পাবেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের ৩৬ জন সদস্য ছাড়াও প্রথমবারের মতো জাতীয় নারী হকি দলের সদস্যরা এই ভাতার আওতায় এসেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী তরুণ ব্যাডমিন্টন তারকা সিফাত উল্লাহ ও নাজমুল ইসলামকেও এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ক্রীড়াকে স্থায়ী পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। খেলোয়াড়দের মান ধরে রাখতে নিয়মিত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের আবশ্যিক বিষয় করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় দেশের অভিজ্ঞ সাবেক খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ক্রীড়া কার্ড পেয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন। ক্রীড়া কার্ড হাতে নিয়ে ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, দেশের জন্য সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার উৎসাহ অনুভব করছেন তিনি।

“আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়ামন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা তাদের এই শক্তিশালী উদ্যোগের জন্য, যা আমাদের দেশের অ্যাথলেটদের যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন করছে। এই উদ্যোগ আমাদের আরও সামনে এগিয়ে যেতে, কঠোর লড়াই করতে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে; দেশের জন্য আমাদের সেরাটা উজাড় করে দিতে উৎসাহিত করবে।”

জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। তবে এখানে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, কারণ চার মাস পর পর তালিকা পরিবর্তন হবে। আপনি পারফরম্যান্স ভালো না করতে পারলে বাদ পড়ে যাবেন। ফলে সবার মনোযোগের স্তর আরও বাড়বে। এই ৫০০ জনকে দেখে আরও এক হাজার খেলোয়াড় উজ্জীবিত হবে, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

আরেক অভিজ্ঞ ফুটবলার সোহেল রানার কণ্ঠেও ছিল একই সুর। তিনি বলেন, ‘এটি খেলোয়াড়দের জন্য দারুণ একটি অনুপ্রেরণা। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো পারফরম্যান্স। কেউ ভালো না করলে চার মাস পর এই কার্ডের আওতার বাইরে চলে যাবে। তাই এই স্বীকৃতি খেলোয়াড়দের ডিসিপ্লিন, লাইফস্টাইল এবং পারফরম্যান্সের দিকে আরও বেশি ফোকাসড হতে বাধ্য করবে।’

নারী দলের পক্ষে এই ভাতার প্রশংসা করার পাশাপাশি বাকি সতীর্থদের কথাও তুলে ধরেন জাতীয় দলের ফুটবলার আফঈদা-আলপি। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এত সুন্দর একটি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে আমাদের দলের আরও অনেক মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে খেলার মধ্যে রয়েছে, পর্যায়ক্রমে তাদেরও যেন ক্রীড়া ভাতা ও কার্ডের আওতায় আনা হয়, সেই বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

এবারের তালিকায় যারা আছেন

নতুন করে ১৮টি ভিন্ন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

ফুটবল: ৩৬ জন (পুরুষ ও নারী দল মিলিয়ে)

হকি: ৩৬ জন (জাতীয় নারী হকি দলকেও প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে)

ভলিবল: ১৪ জন

দাবা: ১১ জন (জিএম নিয়াজ মোর্শেদ থেকে শুরু করে ডব্লিউআইএম রানী হামিদ- সবাই রয়েছেন তালিকায়)

অন্যান্য: আর্চারি (১১), ভারোত্তোলন (১০), হ্যান্ডবল (১০), জিমন্যাস্টিকস (৯), সাঁতার (৬), টেবিল টেনিস (৫) এবং শ্যুটিং (৫)। এছাড়া সাইক্লিং, উশু, জুডো, কিকবক্সিং, বডি বিল্ডিং ও ট্রায়াথলন থেকেও খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরিকল্পনা ৫০০ জন অ্যাথলেটের থাকলেও বর্তমান অর্থবছরে মোট ৩০০ জনকে এই সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট ২০০ জন খেলোয়াড়কে আগামী অর্থবছরে পে-রোলে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

জাতীয় পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের ১৮ জন করে সদস্যকে এই তালিকায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। তবে হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, জায়ান আহমেদ বা ফাহামিদুল ইসলামের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের বর্তমান তালিকায় রাখা হয়নি। এর আগে নারী ফুটসাল দলের খেলোয়াড়দেরও এই স্কিমের আওতায় আনা হয়েছিল। শুধু জাতীয় দলই নয়, আন্তর্জাতিক সাফল্য নিয়ে আসা তরুণ প্রতিভাদেরও মূল্যায়ন করছে সরকার। সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান আঞ্চলিক জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বালক দ্বৈতে সোনাজয়ী সিফাত উল্লাহ ও নাজমুল ইসলামকে ক্রীড়া কার্ডের সঙ্গে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

পেশাদার খেলোয়াড়দের পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়া

নাইক্ষ্যংছড়িতে ২ অস্ত্রধারীকে ধরে পুলিশে দিল জনতা

‘ক্রীড়া কার্ড’ পেলেন আরো ১৭১ জন ক্রীড়াবিদ

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিতকরণ এবং খেলাধুলাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী পেশা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ‘ক্রীড়া কার্ড’ কর্মসূচি জোরদার করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে ১৭১ জন ক্রীড়াবিদকে কার্ড ও মাসিক ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ এই বিশেষ সুবিধার আওতায় এলেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন অন্তর্ভুক্ত ১৭১ জন খেলোয়ারের হাতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এই কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ক্রীড়াবিদ মাসিক ১ লাখ টাকা করে ভাতা পাবেন। তবে এই সুবিধা স্থায়ী নয়; ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতি চার মাস পরপর তালিকা হালনাগাদ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, কার্ডধারী প্রত্যেক খেলোয়াড়কে বিশেষ বীমা সুবিধার আওতায় আনা হবে। এর ফলে মাঠের পারফরম্যান্স চলাকালীন বা ব্যক্তিগত জীবনে যেকোনো ধরনের ইনজুরিতে তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা পাবেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের ৩৬ জন সদস্য ছাড়াও প্রথমবারের মতো জাতীয় নারী হকি দলের সদস্যরা এই ভাতার আওতায় এসেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী তরুণ ব্যাডমিন্টন তারকা সিফাত উল্লাহ ও নাজমুল ইসলামকেও এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ক্রীড়াকে স্থায়ী পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। খেলোয়াড়দের মান ধরে রাখতে নিয়মিত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের আবশ্যিক বিষয় করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় দেশের অভিজ্ঞ সাবেক খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ক্রীড়া কার্ড পেয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন। ক্রীড়া কার্ড হাতে নিয়ে ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, দেশের জন্য সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার উৎসাহ অনুভব করছেন তিনি।

“আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়ামন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা তাদের এই শক্তিশালী উদ্যোগের জন্য, যা আমাদের দেশের অ্যাথলেটদের যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন করছে। এই উদ্যোগ আমাদের আরও সামনে এগিয়ে যেতে, কঠোর লড়াই করতে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে; দেশের জন্য আমাদের সেরাটা উজাড় করে দিতে উৎসাহিত করবে।”

জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। তবে এখানে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, কারণ চার মাস পর পর তালিকা পরিবর্তন হবে। আপনি পারফরম্যান্স ভালো না করতে পারলে বাদ পড়ে যাবেন। ফলে সবার মনোযোগের স্তর আরও বাড়বে। এই ৫০০ জনকে দেখে আরও এক হাজার খেলোয়াড় উজ্জীবিত হবে, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

আরেক অভিজ্ঞ ফুটবলার সোহেল রানার কণ্ঠেও ছিল একই সুর। তিনি বলেন, ‘এটি খেলোয়াড়দের জন্য দারুণ একটি অনুপ্রেরণা। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো পারফরম্যান্স। কেউ ভালো না করলে চার মাস পর এই কার্ডের আওতার বাইরে চলে যাবে। তাই এই স্বীকৃতি খেলোয়াড়দের ডিসিপ্লিন, লাইফস্টাইল এবং পারফরম্যান্সের দিকে আরও বেশি ফোকাসড হতে বাধ্য করবে।’

নারী দলের পক্ষে এই ভাতার প্রশংসা করার পাশাপাশি বাকি সতীর্থদের কথাও তুলে ধরেন জাতীয় দলের ফুটবলার আফঈদা-আলপি। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এত সুন্দর একটি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে আমাদের দলের আরও অনেক মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে খেলার মধ্যে রয়েছে, পর্যায়ক্রমে তাদেরও যেন ক্রীড়া ভাতা ও কার্ডের আওতায় আনা হয়, সেই বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

এবারের তালিকায় যারা আছেন

নতুন করে ১৮টি ভিন্ন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

ফুটবল: ৩৬ জন (পুরুষ ও নারী দল মিলিয়ে)

হকি: ৩৬ জন (জাতীয় নারী হকি দলকেও প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে)

ভলিবল: ১৪ জন

দাবা: ১১ জন (জিএম নিয়াজ মোর্শেদ থেকে শুরু করে ডব্লিউআইএম রানী হামিদ- সবাই রয়েছেন তালিকায়)

অন্যান্য: আর্চারি (১১), ভারোত্তোলন (১০), হ্যান্ডবল (১০), জিমন্যাস্টিকস (৯), সাঁতার (৬), টেবিল টেনিস (৫) এবং শ্যুটিং (৫)। এছাড়া সাইক্লিং, উশু, জুডো, কিকবক্সিং, বডি বিল্ডিং ও ট্রায়াথলন থেকেও খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরিকল্পনা ৫০০ জন অ্যাথলেটের থাকলেও বর্তমান অর্থবছরে মোট ৩০০ জনকে এই সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট ২০০ জন খেলোয়াড়কে আগামী অর্থবছরে পে-রোলে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

জাতীয় পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের ১৮ জন করে সদস্যকে এই তালিকায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। তবে হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, জায়ান আহমেদ বা ফাহামিদুল ইসলামের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের বর্তমান তালিকায় রাখা হয়নি। এর আগে নারী ফুটসাল দলের খেলোয়াড়দেরও এই স্কিমের আওতায় আনা হয়েছিল। শুধু জাতীয় দলই নয়, আন্তর্জাতিক সাফল্য নিয়ে আসা তরুণ প্রতিভাদেরও মূল্যায়ন করছে সরকার। সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান আঞ্চলিক জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বালক দ্বৈতে সোনাজয়ী সিফাত উল্লাহ ও নাজমুল ইসলামকে ক্রীড়া কার্ডের সঙ্গে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

পেশাদার খেলোয়াড়দের পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।