রংপুর জেলা প্রতিনিধি :
রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের তিন উপজেলার সংযোগস্থলে করতোয়া নদীর ওপর জয়ন্তীপুর সেতু আট বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে আটকে রয়েছে সেতুর নির্মাণকাজ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ৮ লাখ মানুষ। বর্ষার আগে সেতুর কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের সঙ্গে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ, বিরামপুর ও হাকিমপুর উপজেলার যোগাযোগ সহজ করতে ২০১৫ সালে করতোয়া নদীর জয়ন্তীপুর ঘাটে সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। নানা জটিলতার পর ২০১৮ সালে পিপিএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। পরে ঠিকাদারের মৃত্যু হলে ২০২৩ সালে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে এলজিইডি। ২০২৪ সালের মে মাসে পটুয়াখালী জেলার একে-এসবি-এমএ (জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২২ কোটি ২৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৯৬ টাকায় কাজ পায়। সময় নির্ধারণ করা হয় ২০ মাস, অর্থাৎ ২০২৬ সালের মার্চে কাজ শেষ হওয়ার কথা।
বর্তমানে সেতুর প্রায় ৬০-৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজ এখনো শুরু হয়নি। মাত্র কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে গার্ডার ও স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজ চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করতোয়া নদী পার হচ্ছে মানুষ। শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় ডিঙি একমাত্র ভরসা। ভারী মালপত্র, অসুস্থ রোগী কিংবা জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে ঘুরতে হচ্ছে দীর্ঘ পথ। যেখানে সরাসরি দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার, সেখানে বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, শুষ্ক মৌসুমে মোটরসাইকেলে সহজেই দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে যাতায়াত করা যায়, কিন্তু বর্ষাকালে নৌকাই একমাত্র ভরসা। এ সময় জনপ্রতি ৪০ টাকা এবং শুকনো মৌসুমে ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। সাঁকো পারাপারে দিতে হয় ২০ টাকা।
স্থানীয় সোদপুর গ্রামের নুর ইসলাম বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করা জরুরি।
ব্যবসায়ী রহিদুল ইসলাম বলেন, বিকল্প পথ দিয়ে রংপুরে যাতায়াত করি। কাজের বিলম্বে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বাপ্পী বলেন, পীরগঞ্জ অংশের ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও নবাবগঞ্জ অংশে কিছু জটিলতা রয়েছে। মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
রংপুর জেলা প্রতিনিধি 





















