Dhaka মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাইমের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত সাময়িকী টাইম-এর বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২০২৬ সালের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির ওই তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন এ সাময়িকী। এতে ‘লিডারস’ ক্যাটাগরিতে ১৬তম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) টাইমের ওয়েবসাইটে এ তালিকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে ‘লিডার’ ক্যাটাগরি স্থান পেয়েছেন তারেক রহমান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সক্রিয়তা তাকে এই তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটান। পরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে আসেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশের ক্ষমতার সমীকরণে বড় ধরনের রদবদল আসে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানকে বিরোধীদলীয় রাজনীতির একজন কর্মী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতা হিসেবে সামনে নিয়ে আসে।

প্রায় ১৭ বছর দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর তিনি রাজনৈতিকভাবে আরও সংগঠিতভাবে সক্রিয় হন এবং একটি বড় নির্বাচনী সাফল্যের মাধ্যমে তার অবস্থান শক্তিশালী করেন।

লেখায় তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেখানে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করছেন। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

প্রতিবেদনটিতে তার ব্যক্তিগত শোক ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। জানুয়ারিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের চাপের কথাও তুলে ধরা হয়। আঞ্চলিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথাও।

তবে প্রতিবেদনে এই শতাব্দীর শুরুর দিকের পুরনো কিছু আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও পরে সেগুলো আদালতে খারিজ হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সবশেষে বলা হয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাসিত জীবন শেষে তারেক রহমান এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি টাইম ম্যাগাজিনকে বলেছেন, রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ,পোপ চতুর্দশ লিও, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেনবাউম, নামিবিয়ায় প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নান্দি নাদাইতওয়া, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও ইউরোপী ইউনিয়নের প্রযুক্তি প্রধান হেনা ভিরকুনেন স্থান পেয়েছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ‘গভীর আনন্দ ও গৌরবের সঙ্গে অবহিত করছি যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা তারেক রহমান টাইম ১০০ মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল অব ২০২৬-এর বর্ণাঢ্য তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী টাইম এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তাঁর দুরদর্শী নেতৃত্ব, সীমাহীন সাহসিকতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে অসামান্য অবদানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি দিয়েছে।’

মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘একটি কঠিন সময়ে, যখন গণতন্ত্র ছিল অবরুদ্ধ, মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না, তখন তারেক রহমান দৃঢ়তা, সাহস এবং অটল বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন। তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আশা জাগিয়েছেন, মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তি দিয়েছেন, নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলেছেন।’

‘তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহু লড়াই সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আবারও গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা আজ বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃত। স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন, যেদিন ফিরেছেন সেদিনই তিনি বলেছিলেন “আই হ্যাভ এ প্লান।” একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভূক্তিমূলক, সমন্বিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচিত সরকারের বয়স দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে চমতকারভাবে অগ্রসর হয়েছে।’

মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘টাইম-এর এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াই,সংগ্রাম এবং দেশ পরিচালনার ক্যারিশম্যাটিক দক্ষতার এক শক্তিশালী স্বীকৃতি। তিনি প্রমাণ করেছেন ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই একজন নেতার প্রকৃত শক্তি, দেশ পরিচালনাকে তিনি ক্ষমতা হিসেবে নয়, দেখতে চান দায়িত্ব হিসেবে। দেশের স্বার্থে কোনো বিভাজন নয়, বরং ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ঐক্যই একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আজকে টাইম থেকে পাওয়া এই সম্মান আমাদের সকলের। এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের, যারা বিশ্বাস করে গণতন্ত্র অপরাজিত, জনতার শক্তি কখনো হার মানে। আজকের বৈশ্বিক স্বীকৃতি গণতন্ত্রের বিজয়, জনতার বিজয়, বাংলাদেশের বিজয়, আলহামদুলিল্লাহ।’

প্রসঙ্গত, লন্ডনে ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ভাইস চেয়ারম্যান থেকে তিনি হন বিএনপির চেয়ারম্যান।

এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের দুটি আসন থেকে (ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬) আসন থেকে অংশ নেন তারেক রহমান। দুটিতেই তিনি জয়ী হন, পাশাপাশি তার দল বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে।

নবগঠিত এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত প্রায় দুই মাস ধরে বেশ দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই সুযোগ্য সন্তান।

আবহাওয়া

টাইমের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ০৮:১৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত সাময়িকী টাইম-এর বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২০২৬ সালের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির ওই তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন এ সাময়িকী। এতে ‘লিডারস’ ক্যাটাগরিতে ১৬তম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) টাইমের ওয়েবসাইটে এ তালিকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে ‘লিডার’ ক্যাটাগরি স্থান পেয়েছেন তারেক রহমান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সক্রিয়তা তাকে এই তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটান। পরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে আসেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশের ক্ষমতার সমীকরণে বড় ধরনের রদবদল আসে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানকে বিরোধীদলীয় রাজনীতির একজন কর্মী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতা হিসেবে সামনে নিয়ে আসে।

প্রায় ১৭ বছর দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর তিনি রাজনৈতিকভাবে আরও সংগঠিতভাবে সক্রিয় হন এবং একটি বড় নির্বাচনী সাফল্যের মাধ্যমে তার অবস্থান শক্তিশালী করেন।

লেখায় তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেখানে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করছেন। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

প্রতিবেদনটিতে তার ব্যক্তিগত শোক ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। জানুয়ারিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের চাপের কথাও তুলে ধরা হয়। আঞ্চলিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথাও।

তবে প্রতিবেদনে এই শতাব্দীর শুরুর দিকের পুরনো কিছু আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও পরে সেগুলো আদালতে খারিজ হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সবশেষে বলা হয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাসিত জীবন শেষে তারেক রহমান এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি টাইম ম্যাগাজিনকে বলেছেন, রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ,পোপ চতুর্দশ লিও, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেনবাউম, নামিবিয়ায় প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নান্দি নাদাইতওয়া, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও ইউরোপী ইউনিয়নের প্রযুক্তি প্রধান হেনা ভিরকুনেন স্থান পেয়েছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ‘গভীর আনন্দ ও গৌরবের সঙ্গে অবহিত করছি যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা তারেক রহমান টাইম ১০০ মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল অব ২০২৬-এর বর্ণাঢ্য তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী টাইম এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তাঁর দুরদর্শী নেতৃত্ব, সীমাহীন সাহসিকতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে অসামান্য অবদানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি দিয়েছে।’

মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘একটি কঠিন সময়ে, যখন গণতন্ত্র ছিল অবরুদ্ধ, মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না, তখন তারেক রহমান দৃঢ়তা, সাহস এবং অটল বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন। তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আশা জাগিয়েছেন, মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তি দিয়েছেন, নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলেছেন।’

‘তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহু লড়াই সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আবারও গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা আজ বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃত। স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন, যেদিন ফিরেছেন সেদিনই তিনি বলেছিলেন “আই হ্যাভ এ প্লান।” একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভূক্তিমূলক, সমন্বিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচিত সরকারের বয়স দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে চমতকারভাবে অগ্রসর হয়েছে।’

মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘টাইম-এর এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াই,সংগ্রাম এবং দেশ পরিচালনার ক্যারিশম্যাটিক দক্ষতার এক শক্তিশালী স্বীকৃতি। তিনি প্রমাণ করেছেন ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই একজন নেতার প্রকৃত শক্তি, দেশ পরিচালনাকে তিনি ক্ষমতা হিসেবে নয়, দেখতে চান দায়িত্ব হিসেবে। দেশের স্বার্থে কোনো বিভাজন নয়, বরং ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ঐক্যই একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আজকে টাইম থেকে পাওয়া এই সম্মান আমাদের সকলের। এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের, যারা বিশ্বাস করে গণতন্ত্র অপরাজিত, জনতার শক্তি কখনো হার মানে। আজকের বৈশ্বিক স্বীকৃতি গণতন্ত্রের বিজয়, জনতার বিজয়, বাংলাদেশের বিজয়, আলহামদুলিল্লাহ।’

প্রসঙ্গত, লন্ডনে ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ভাইস চেয়ারম্যান থেকে তিনি হন বিএনপির চেয়ারম্যান।

এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের দুটি আসন থেকে (ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬) আসন থেকে অংশ নেন তারেক রহমান। দুটিতেই তিনি জয়ী হন, পাশাপাশি তার দল বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে।

নবগঠিত এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত প্রায় দুই মাস ধরে বেশ দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই সুযোগ্য সন্তান।