Dhaka মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে : ডা. জাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মব বা গণপিটুনির মতো ঘটনাকে ভীষণভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। যার ফলে সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ বলেন, কোনো অবস্থাতেই গণপিটুনি বা মব জাস্টিস মেনে নেওয়া হবে না। অপরাধী যত বড়ই হোক, শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি বলেন, অতীতে এসব কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ইচ্ছামতো শাস্তি দেওয়া যায়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। কেউ গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা বা পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই আইনসম্মত নয়।

প্রশাসনিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথাও কোথাও ব্যর্থতা থাকতে পারে, তবে তা দূর করতে সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকার পরিকল্পিত বা সংগঠিত সহিংসতা দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে, তবে তা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই। গণপিটুনি নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের আট বিভাগে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হবে। প্রকল্পটি সফল হলে আগামী অর্থবছর থেকে এর পরিধি বাড়ানো হবে এবং পর্যায়ক্রমে আরো বেশি কৃষককে এর আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকেরা বছরে দুই হাজার টাকা করে প্রণোদনা পাবেন। পাশাপাশি কৃষিঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এই কার্ড কার্যকর হবে। এ খাতে উন্নয়ন বাজেট থেকে এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য ১০ ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে; যার মধ্যে নগদ সহায়তা, বীজসহ কৃষি উপকরণ প্রদান উল্লেখযোগ্য। এটি একটি পাইলট প্রকল্প হওয়ায় সবাইকে তা বোঝা প্রয়োজন। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে কৃষক কার্ড পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন, তবে ধাপে ধাপে এটি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

ডা. জাহেদ বলেন, সরকারের দুর্যোগ মোকাবেলা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতে সহায়তা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করছে। ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, হ্যাজার্ড ম্যাপিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এসব খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণ এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহীত হয়েছে এবং বিষয়টিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, একই বাইক বারবার যাচ্ছে, তেল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপচে পড়ছে, এরকম নানান ঘটনা তো আসলে আছে। আমি আবারও সবার প্রতি আহ্বান জানাব, আমাদের সংকট আছে; কিন্তু আমরা যদি এ ধরনের ‘প্যানিক বায়িং’ করতে থাকি, তাহলে এটি সংকটে রূপ নেবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দাম আসলে বাড়বে কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে আপনারা খেয়াল করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। আবার আমরা দেখছি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান অবস্থা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো ব্লক করে দিচ্ছে। এটি যদি কার্যকর হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তবে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন আমাদের পক্ষে দীর্ঘ সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। আমরা এপ্রিল মাসে দাম বৃদ্ধি করব না বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছি। যদি পরিস্থিতি এমন থাকে, তবে দামের কিছু সমন্বয় (অ্যাডজাস্টমেন্ট) প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবারও বলছি, প্রয়োজন হতে পারে; মানে এটি হবেই, এমন নয়।

তিনি আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব একটা প্রেডিক্টেবল (পূর্বাভাসযোগ্য) নন। যদি তাদের মধ্যে আলোচনা হয়ে একটি চুক্তি হয়ে যায়, তবে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।

অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের একটি অংশের শিশু টিকার কাভারেজের আওতায় ছিল না। আমরা আবারও বলতে চাই, এটি পূর্বের একটি ব্যর্থতার ফল। তা সত্ত্বেও শিশুদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।

চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে আক্রান্তদের সাধ্যমতো সহায়তা দেওয়া যায়।

একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং যখন অনেকের একসঙ্গে আইসিইউ-র মতো সেবার প্রয়োজন হয়, তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান।

ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রত্যেকটি নেতিবাচক ঘটনা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখি। যেমন একটি বিমান বিধ্বস্ত হলে কারণ খোঁজা হয় পরবর্তী ফ্লাইট নিরাপদ করার জন্য, তেমনি এই বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার একটি মন্তব্য নিয়ে কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন। তবে আমি তার অনুভূতি বুঝতে পারি; এতগুলো শিশুর মৃত্যু তিনি সহ্য করতে পারেননি। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখছি কোথায় কোথায় সমস্যা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে বলতে পারি, কিছু রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং সেগুলোতে মানুষের মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের রোগে কেউ মারা গেলে তা মানা যায় না। কিছু রোগ হতে পারে যা আমরা জানি না, যেমন শরীরের ভেতরে ক্যানসার থাকতে পারে। কিন্তু এই রোগটি আমরা প্রতিরোধ করতে পেরেছিলাম, তাই এর ব্যর্থতা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। আমরা দায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করব।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে ‘প্রিভেন্টিভ মেডিসিন’ বা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা নিয়ে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। টিকা দিতে পারা এক ধরনের প্রতিরোধ। আমরা যেকোনো মূল্যে এটি নিশ্চিত করব। কারা কারা দায়ী তা বের করা হবে, কারণ ব্যর্থদের শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার নজির সামনে রাখতে হবে।

আবহাওয়া

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে : ডা. জাহেদ

প্রকাশের সময় : ০৮:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মব বা গণপিটুনির মতো ঘটনাকে ভীষণভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। যার ফলে সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ বলেন, কোনো অবস্থাতেই গণপিটুনি বা মব জাস্টিস মেনে নেওয়া হবে না। অপরাধী যত বড়ই হোক, শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি বলেন, অতীতে এসব কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ইচ্ছামতো শাস্তি দেওয়া যায়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। কেউ গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা বা পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই আইনসম্মত নয়।

প্রশাসনিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথাও কোথাও ব্যর্থতা থাকতে পারে, তবে তা দূর করতে সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকার পরিকল্পিত বা সংগঠিত সহিংসতা দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে, তবে তা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই। গণপিটুনি নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের আট বিভাগে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হবে। প্রকল্পটি সফল হলে আগামী অর্থবছর থেকে এর পরিধি বাড়ানো হবে এবং পর্যায়ক্রমে আরো বেশি কৃষককে এর আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকেরা বছরে দুই হাজার টাকা করে প্রণোদনা পাবেন। পাশাপাশি কৃষিঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এই কার্ড কার্যকর হবে। এ খাতে উন্নয়ন বাজেট থেকে এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য ১০ ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে; যার মধ্যে নগদ সহায়তা, বীজসহ কৃষি উপকরণ প্রদান উল্লেখযোগ্য। এটি একটি পাইলট প্রকল্প হওয়ায় সবাইকে তা বোঝা প্রয়োজন। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে কৃষক কার্ড পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন, তবে ধাপে ধাপে এটি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

ডা. জাহেদ বলেন, সরকারের দুর্যোগ মোকাবেলা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতে সহায়তা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করছে। ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, হ্যাজার্ড ম্যাপিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এসব খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণ এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহীত হয়েছে এবং বিষয়টিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, একই বাইক বারবার যাচ্ছে, তেল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপচে পড়ছে, এরকম নানান ঘটনা তো আসলে আছে। আমি আবারও সবার প্রতি আহ্বান জানাব, আমাদের সংকট আছে; কিন্তু আমরা যদি এ ধরনের ‘প্যানিক বায়িং’ করতে থাকি, তাহলে এটি সংকটে রূপ নেবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দাম আসলে বাড়বে কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে আপনারা খেয়াল করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। আবার আমরা দেখছি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান অবস্থা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো ব্লক করে দিচ্ছে। এটি যদি কার্যকর হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তবে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন আমাদের পক্ষে দীর্ঘ সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। আমরা এপ্রিল মাসে দাম বৃদ্ধি করব না বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছি। যদি পরিস্থিতি এমন থাকে, তবে দামের কিছু সমন্বয় (অ্যাডজাস্টমেন্ট) প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবারও বলছি, প্রয়োজন হতে পারে; মানে এটি হবেই, এমন নয়।

তিনি আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব একটা প্রেডিক্টেবল (পূর্বাভাসযোগ্য) নন। যদি তাদের মধ্যে আলোচনা হয়ে একটি চুক্তি হয়ে যায়, তবে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।

অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের একটি অংশের শিশু টিকার কাভারেজের আওতায় ছিল না। আমরা আবারও বলতে চাই, এটি পূর্বের একটি ব্যর্থতার ফল। তা সত্ত্বেও শিশুদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।

চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে আক্রান্তদের সাধ্যমতো সহায়তা দেওয়া যায়।

একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং যখন অনেকের একসঙ্গে আইসিইউ-র মতো সেবার প্রয়োজন হয়, তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান।

ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রত্যেকটি নেতিবাচক ঘটনা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখি। যেমন একটি বিমান বিধ্বস্ত হলে কারণ খোঁজা হয় পরবর্তী ফ্লাইট নিরাপদ করার জন্য, তেমনি এই বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার একটি মন্তব্য নিয়ে কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন। তবে আমি তার অনুভূতি বুঝতে পারি; এতগুলো শিশুর মৃত্যু তিনি সহ্য করতে পারেননি। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখছি কোথায় কোথায় সমস্যা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে বলতে পারি, কিছু রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং সেগুলোতে মানুষের মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের রোগে কেউ মারা গেলে তা মানা যায় না। কিছু রোগ হতে পারে যা আমরা জানি না, যেমন শরীরের ভেতরে ক্যানসার থাকতে পারে। কিন্তু এই রোগটি আমরা প্রতিরোধ করতে পেরেছিলাম, তাই এর ব্যর্থতা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। আমরা দায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করব।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে ‘প্রিভেন্টিভ মেডিসিন’ বা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা নিয়ে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। টিকা দিতে পারা এক ধরনের প্রতিরোধ। আমরা যেকোনো মূল্যে এটি নিশ্চিত করব। কারা কারা দায়ী তা বের করা হবে, কারণ ব্যর্থদের শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার নজির সামনে রাখতে হবে।