Dhaka মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এর মধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তরে লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপালের কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণসীমা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকায় উন্নিত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসাপ্রাপ্তির আগেই সার্টিফিকেট অব ইলিজিবেলিটির ভিত্তিতে এ ঋণ দেওয়া সহজ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে নরসিংদী-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বিকল্প নতুন শ্রম বাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে কর্মী পাঠাতে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের সুপারিশে প্রয়োজন অনুসারে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট/বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করা হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন—সার্বিয়া, গ্রীস, নর্থ মেডিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া ইত্যাদি দেশে বিকল্প শ্রমবাজার সম্পসারণে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডে শ্রম বাজার খোলার বিষয়ে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের জন্য কাজ চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফরের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের কাজ চলছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস সমূহকে শ্রমবাজার অনুসন্ধানপূর্বক বাংলাদেশি কর্মীর পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের জন্য কাজ চলছে। থ্যাইল্যান্ডে শ্রম বাজার খোলার বিষয়ে সে দেশে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ৫৩টি টিটিসিতে জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, জাপানে কর্মী প্রেরণের হার বৃদ্ধির জন্য জাপানিজ ভাষা ও স্কিল ট্রেনিং-এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি রাশিয়া, আরবি, জার্মান, ইতালিয়ান ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এমনকি এরই মধ্যে, বিভিন্ন ভাষার ৪১ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়াও হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮০ দিনের মধ্যে ৫টি জেলার (খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী) জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। এই ই-হেলথ কার্ড ইলেক্ট্রনিক প্যাশেন্ট রেফারেল সিস্টেম এবং ইলেক্ট্রনিক প্যাশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় খাল খনন/পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ হতে শুরু হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা হলো আগামী ০৫ বছরে সর্বমোট ২০,০০০ কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখনন করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সৃজনের জন্য ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে।

উৎপাদিত চারাসমূহ চলতি বছর আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে। বৃক্ষ রোপণ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য স্থানীয় সরকার এবং এনজিওদের সাথে সমন্বয় করা হবে।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লক্ষ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের দুই হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও আট ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ফ্রি ওয়াই ফাই’ চালু করা হবে, জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপালের কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, জানান প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনি ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ০৩ লক্ষ হতে ১০ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিং এর মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকার পাঁচ লক্ষ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তন্মধ্যে শুধুমাত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাসমূহে শূন্য পদের বিপরীতে ২৮৭৯ (দুই হাজার আটশত ঊনআশি) জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রাইমারির শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ

সাংসদ সদস্য হুমাস কাদের চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৩,৭৬,৪৮৯ জন এবং তন্মধ্যে চলমান ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’র আওতায় ইতোমধ্যে ১,৩০,০০০ জন শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আগামী ০১ জুলাই হতে ৫ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু হতে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অধিবেশনে প্রশ্ন ও উত্তর পর্বে সাংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখিতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, কলেবর বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণের উন্নয়নসহ আধুনিক, দক্ষ ও সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তর করার নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে এমন সক্ষমতায় উন্নীত করা, যাহাতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয় বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।

এই লক্ষ্যে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও আধুনিক প্রতিরক্ষানীতি প্রণয়ন, সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীর মাধ্যমে সমুদ্রপথ, সামুদ্রিক সম্পদ ও ব্লু ইকোনমি সুরক্ষা এবং বিমান বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা, নজরদারি ও দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, জানান প্রধানমন্ত্রী।

একইসঙ্গে লিখিত বক্তব্যে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারেও সশস্ত্র বাহিনীকে মডার্ন, কুইক, সেল্ফ-কনটেইন্ড, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমান বাহিনীতে ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় সরকার শুধু প্রচলিত অস্ত্র সংযোজনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষা এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের মতো নতুন ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে।

পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা, কল্যাণ, অবসরোত্তর মর্যাদা এবং ‘ওয়ান র‌্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন’-এর মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিমুখী ও জনআস্থাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

প্রধাসমন্ত্রী জানান, এর পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জন্য উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, আধুনিক যুদ্ধবিমান, নৌযান ও সাবমেরিন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

আবহাওয়া

৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এর মধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তরে লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপালের কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণসীমা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকায় উন্নিত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসাপ্রাপ্তির আগেই সার্টিফিকেট অব ইলিজিবেলিটির ভিত্তিতে এ ঋণ দেওয়া সহজ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে নরসিংদী-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বিকল্প নতুন শ্রম বাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে কর্মী পাঠাতে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের সুপারিশে প্রয়োজন অনুসারে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট/বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করা হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন—সার্বিয়া, গ্রীস, নর্থ মেডিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া ইত্যাদি দেশে বিকল্প শ্রমবাজার সম্পসারণে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডে শ্রম বাজার খোলার বিষয়ে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের জন্য কাজ চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফরের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের কাজ চলছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস সমূহকে শ্রমবাজার অনুসন্ধানপূর্বক বাংলাদেশি কর্মীর পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের জন্য কাজ চলছে। থ্যাইল্যান্ডে শ্রম বাজার খোলার বিষয়ে সে দেশে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ৫৩টি টিটিসিতে জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, জাপানে কর্মী প্রেরণের হার বৃদ্ধির জন্য জাপানিজ ভাষা ও স্কিল ট্রেনিং-এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি রাশিয়া, আরবি, জার্মান, ইতালিয়ান ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এমনকি এরই মধ্যে, বিভিন্ন ভাষার ৪১ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়াও হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮০ দিনের মধ্যে ৫টি জেলার (খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী) জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। এই ই-হেলথ কার্ড ইলেক্ট্রনিক প্যাশেন্ট রেফারেল সিস্টেম এবং ইলেক্ট্রনিক প্যাশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় খাল খনন/পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ হতে শুরু হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা হলো আগামী ০৫ বছরে সর্বমোট ২০,০০০ কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখনন করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সৃজনের জন্য ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে।

উৎপাদিত চারাসমূহ চলতি বছর আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে। বৃক্ষ রোপণ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য স্থানীয় সরকার এবং এনজিওদের সাথে সমন্বয় করা হবে।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লক্ষ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের দুই হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও আট ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ফ্রি ওয়াই ফাই’ চালু করা হবে, জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপালের কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, জানান প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনি ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ০৩ লক্ষ হতে ১০ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিং এর মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকার পাঁচ লক্ষ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তন্মধ্যে শুধুমাত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাসমূহে শূন্য পদের বিপরীতে ২৮৭৯ (দুই হাজার আটশত ঊনআশি) জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রাইমারির শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ

সাংসদ সদস্য হুমাস কাদের চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৩,৭৬,৪৮৯ জন এবং তন্মধ্যে চলমান ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’র আওতায় ইতোমধ্যে ১,৩০,০০০ জন শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আগামী ০১ জুলাই হতে ৫ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু হতে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অধিবেশনে প্রশ্ন ও উত্তর পর্বে সাংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখিতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, কলেবর বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণের উন্নয়নসহ আধুনিক, দক্ষ ও সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তর করার নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে এমন সক্ষমতায় উন্নীত করা, যাহাতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয় বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।

এই লক্ষ্যে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও আধুনিক প্রতিরক্ষানীতি প্রণয়ন, সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীর মাধ্যমে সমুদ্রপথ, সামুদ্রিক সম্পদ ও ব্লু ইকোনমি সুরক্ষা এবং বিমান বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা, নজরদারি ও দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, জানান প্রধানমন্ত্রী।

একইসঙ্গে লিখিত বক্তব্যে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারেও সশস্ত্র বাহিনীকে মডার্ন, কুইক, সেল্ফ-কনটেইন্ড, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমান বাহিনীতে ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় সরকার শুধু প্রচলিত অস্ত্র সংযোজনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষা এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের মতো নতুন ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে।

পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা, কল্যাণ, অবসরোত্তর মর্যাদা এবং ‘ওয়ান র‌্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন’-এর মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিমুখী ও জনআস্থাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

প্রধাসমন্ত্রী জানান, এর পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জন্য উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, আধুনিক যুদ্ধবিমান, নৌযান ও সাবমেরিন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।