সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট চলছে। এই অবস্থায় সরকার জেলায় জেলায় বিশেষ করে মোটরসাইকেল বা বাইকারদের তেল দিতে ফুয়েল কার্ড সিস্টেম চালু করেছে। যা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু সেই কার্ড পেয়ে মহাখুশিতে এক বাইকার ফুয়েল কার্ড টিশার্টে প্রিন্ট করেছেন।
এমন অদ্ভূত ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায়। সেখানকার ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ জেলা প্রশাসনের সরবরাহ করা ফুয়েল কার্ড টিশার্টে প্রিন্ট করেছেন। যা এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) উপজেলার জামতৈল বাজারে মোটরসাইকেলে করে ওই গেঞ্জি পরে তাকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
তিনি উপজেলার বড়পাকুরিয়া এলাকার মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে এবং জামতৈল বাজারে তার ‘সোনালী টেলিকম অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এই যুবক জানান, গত ৫ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ শহরের কাজীপুর মোড়ে পার্ক লিলিং স্টেশনে তেল নিতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়, তার কাছে ফুয়েল কার্ড নেই। পরদিন তিনি ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করলেও নতুন সমস্যায় পড়েন। কার্ডটি আকারে বড় হওয়ায় সঙ্গে বহন করতে অসুবিধা হচ্ছিল।
পাম্পে গেলে বারবার কার্ড দেখাতে বলা হচ্ছিল, এমনকি মোবাইলে ছবি দেখিয়েও কাজ হচ্ছিল না। এরপরই তার মাথায় আসে অভিনব বুদ্ধি। কার্ডটাই গেঞ্জিতে প্রিন্ট করে নেওয়া। তিনি সাদা রঙের গেঞ্জির সামনে ফুয়েল কার্ডের প্রথম অংশ যেখানে তার নাম-পরিচয় ও ছবি সংযুক্ত করা এবং পেছন অংশে তেল নেওয়ার তারিখ ও নির্দেশনা প্রিন্ট করিয়ে নেন।
নূর মোহাম্মদ বলেন, কার্ড ছাড়া তেল দেয় না। যখন প্রয়োজনীয় তেলের জন্য যেতাম, তখন পাম্পে গেলে বলতো, তেল নেই। যখন ফুয়েল কার্ড আসল, তখন আমি কার্ড সংগ্রহ করলাম। কার্ড সংগ্রহ করার পর বড় কার্ড ক্যারি করতে পারি নাই ভুলবশত। তেলের জন্য গেলে বলে কার্ড দেন। কার্ড ছাড়া তেল নেই, ছবি দেখানো সত্ত্বেও বলে এভাবে হবে না, কার্ড লাগবে। তখন আমি চিন্তা করলাম, ফুয়েল কার্ডের ছবি গেঞ্জিতে প্রিন্ট করে নেই। এখন আর ভুলে যাওয়ার ভয় নেই। এই নিয়ম যতদিন থাকবে, ততদিন আমি এই গেঞ্জিই ব্যবহার করে পাম্পে তেল নিতে যাব।
রফিকুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, আইডিয়াটা হাস্যকর মনে হলেও কাজে দিচ্ছে। আমাদেরও অনেক সময় ঝামেলা হয় কার্ড নিয়ে।
আরেক চালক শামীম হোসেন বলেন, এই সিস্টেমটাই জটিল। কার্ড ছাড়া তেল না দিলে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। উনারটা প্রতিবাদের একটা উপায়। এটা দেখিয়ে দিচ্ছে, নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরো সহজ পদ্ধতি দরকার।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 
























