Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে রায় কার্যকরের জন্য পলাতক ফয়সাল করিমকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মহসীন এ রায় ঘোষণা করেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

গত রোববার (৫ এপ্রিল) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। মামলায় ফয়সাল করিম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ মামলার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আদালত ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। রায়ের কপি পেলে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা জানা যাবে।

আদাবের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে একজন মাদক কারবারী অবস্থান করছে, গোপনে এ সংবাদ পায় র‌্যাব-২। ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে র‌্যাব ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই মাদক কারবারী পালানোর চেষ্টা করলে আটক হয়। পরে সে নিজের নাম ফয়সাল করিম বলে জানায়। পালানোর চেষ্টার কারণ জানতে চাইলে র‌্যাবকে সে সদুত্তর দিতে পারেনি।

‎র‌্যাব জানতে পারে, সে আদাবর থানায় মারধরের প্রস্তুতি নিয়ে চুরির মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি। পরে র‌্যাব তার বাসায় তল্লাশী চালায়। ফয়সাল করিমের দেখানো মতে, চার রাউন্ড গুলিসহ বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করে। তাকে অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলে র‌্যাব। তবে সে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

‎‎এ ঘটনায় র‌্যাব-২ এর হাবিলদার মো. মশিউর রহমান পরদিন আদাবর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ফয়সাল করিম এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক কেনাবেচার হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। অপরাধ সংঘটনের জন্য অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন।

তদন্ত শেষে ফয়সাল করিমকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদ হাসান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফয়সাল করিম এ মামলায় জামিনে ছিলেন। এরপর ওসমান হাদি হত্যার ঘটনার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এর মধ্যে গত মাসে তিনি ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

আবহাওয়া

ফরিদপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা : স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০২:১৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে রায় কার্যকরের জন্য পলাতক ফয়সাল করিমকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মহসীন এ রায় ঘোষণা করেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

গত রোববার (৫ এপ্রিল) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। মামলায় ফয়সাল করিম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ মামলার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আদালত ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। রায়ের কপি পেলে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা জানা যাবে।

আদাবের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে একজন মাদক কারবারী অবস্থান করছে, গোপনে এ সংবাদ পায় র‌্যাব-২। ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে র‌্যাব ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই মাদক কারবারী পালানোর চেষ্টা করলে আটক হয়। পরে সে নিজের নাম ফয়সাল করিম বলে জানায়। পালানোর চেষ্টার কারণ জানতে চাইলে র‌্যাবকে সে সদুত্তর দিতে পারেনি।

‎র‌্যাব জানতে পারে, সে আদাবর থানায় মারধরের প্রস্তুতি নিয়ে চুরির মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি। পরে র‌্যাব তার বাসায় তল্লাশী চালায়। ফয়সাল করিমের দেখানো মতে, চার রাউন্ড গুলিসহ বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করে। তাকে অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলে র‌্যাব। তবে সে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

‎‎এ ঘটনায় র‌্যাব-২ এর হাবিলদার মো. মশিউর রহমান পরদিন আদাবর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ফয়সাল করিম এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক কেনাবেচার হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। অপরাধ সংঘটনের জন্য অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন।

তদন্ত শেষে ফয়সাল করিমকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদ হাসান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফয়সাল করিম এ মামলায় জামিনে ছিলেন। এরপর ওসমান হাদি হত্যার ঘটনার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এর মধ্যে গত মাসে তিনি ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।