Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা : ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা পৌনে একটার দিকে ৬ আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।আজকের রায় ঘোষণাটি সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

আজকের রায়ে মৃত্যুদণ্ড-প্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- সাবেক এএসআই (সশস্ত্র) মো. আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল আসামি সুজন চন্দ্র রায়। এরা দুই জন গ্রেফতার রয়েছেন।

অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড-প্রাপ্ত পলাতক তিন আসামি হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ (বেরবি) এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

আজকের রায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরবি’র সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ ও বেরোবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।

আজকের রায়ে ৫  বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরবি’র সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, বেরোবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, বেরবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরবি’র অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) রংপুরের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন, বেরবি’র সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম।

আজকের রায়ে ৩ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সহকারী রেজিষ্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, বেরবি’র সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বেরবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আখতার হোসেন, বেরবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, বেরোবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, বেরোবি ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বেরবি’র এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, বেরবি’র সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া ও বেরবি’র এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু।

এছাড়া প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের হাজতবাস সময়কেই কারাদ- হিসেবে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ও গাজী এমএইচ তামীমসহ অপর প্রসিকিউটররা।

অন্যদিকে, আসামি বেরোবি’র তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট আমিনুল গণি টিটো, আসামি এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও আনোয়ার পারভেজ আপেলের পক্ষের ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। আর পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাকে হত্যার ভিডিও সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন আর পুলিশ তার বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনকে বেগবান করে।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। এর পরদিন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষ হয় গত ২৭ জানুয়ারি। এরপর গত ৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় রায়ের জন্য ৯ এপ্রিল তারিখ ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আবহাওয়া

ফরিদপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা : স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আবু সাঈদ হত্যা মামলা : ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

প্রকাশের সময় : ০২:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা পৌনে একটার দিকে ৬ আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।আজকের রায় ঘোষণাটি সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

আজকের রায়ে মৃত্যুদণ্ড-প্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- সাবেক এএসআই (সশস্ত্র) মো. আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল আসামি সুজন চন্দ্র রায়। এরা দুই জন গ্রেফতার রয়েছেন।

অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড-প্রাপ্ত পলাতক তিন আসামি হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ (বেরবি) এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

আজকের রায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরবি’র সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ ও বেরোবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।

আজকের রায়ে ৫  বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরবি’র সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, বেরোবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, বেরবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরবি’র অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) রংপুরের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন, বেরবি’র সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম।

আজকের রায়ে ৩ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সহকারী রেজিষ্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, বেরবি’র সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বেরবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আখতার হোসেন, বেরবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, বেরোবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, বেরোবি ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বেরবি’র এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, বেরবি’র সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া ও বেরবি’র এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু।

এছাড়া প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের হাজতবাস সময়কেই কারাদ- হিসেবে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ও গাজী এমএইচ তামীমসহ অপর প্রসিকিউটররা।

অন্যদিকে, আসামি বেরোবি’র তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট আমিনুল গণি টিটো, আসামি এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও আনোয়ার পারভেজ আপেলের পক্ষের ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। আর পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাকে হত্যার ভিডিও সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন আর পুলিশ তার বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনকে বেগবান করে।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। এর পরদিন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষ হয় গত ২৭ জানুয়ারি। এরপর গত ৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় রায়ের জন্য ৯ এপ্রিল তারিখ ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।