Dhaka বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুই দশকের জন্য পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে কৌশলগত রূপরেখা রয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আগামী দুই দশকের জন্য দেশের পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের একটি সমন্বিত উদ্যোগ ও কৌশলগত রূপরেখা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতের অগ্রগতির লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ৫টি (পাঁচ) প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

সেগুলো হলো- পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পর্যটনবান্ধব নীতি প্রণয়ন, ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন, রন্ধনশৈলী পর্যটনের প্রসার ঘটানো, কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশ এবং ইকো-ট্যুরিজমের বিকাশ এবং গ্রাম পর্যটন উন্নয়ন।

তিনি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট আইন, নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রণয়ন, পর্যটন ক্লাস্টার তৈরি, স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও উপকূলীয় এলাকাভিত্তিক পর্যটনের বিকাশ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার রূপরেখা রয়েছে। সার্বিকভাবে মহাপরিকল্পনায় আগামী দুই দশকের জন্য দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের একটি সমন্বিত উদ্যোগ ও কৌশলগত রূপরেখা রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে ৩০টির অধিক জেলায় স্বীকৃত ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য রয়েছে। সব অঞ্চলে পর্যটনের সুবিধা সম্প্রসারণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রত্যেকটি জেলার পর্যটন উপযোগিতা বিবেচনা করে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ, ২০২৬ তারিখে দেশের ১০টি জেলা এবং ৩টি সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামীতে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) নির্বাচনী এলাকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকার দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলাগুলোতে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্ন ছিল, নওগাঁ-৪ আসনের মান্দা উপজেলাধীন ‘মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ’সহ দেশের সব উপজেলা সদরের একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে তা কতদিনে বাস্তবায়ন করা হবে?

প্রশ্নের জন্য ইকরামুল বারী টিপুকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজসহ দেশের অন্যান্য উপজেলার উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারীকরণের বিষয়টি বিদ্যমান নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে। এছাড়া দেড় হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক করতে স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইসিটি খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কর্তৃক আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন ইউজিং ফ্লাটার, পাইথন প্রোগ্রামিং এবং এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সে আলোকে শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

নারী শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আবহাওয়া

দুই দশকের জন্য পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে কৌশলগত রূপরেখা রয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৭:৩১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আগামী দুই দশকের জন্য দেশের পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের একটি সমন্বিত উদ্যোগ ও কৌশলগত রূপরেখা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতের অগ্রগতির লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ৫টি (পাঁচ) প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

সেগুলো হলো- পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পর্যটনবান্ধব নীতি প্রণয়ন, ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন, রন্ধনশৈলী পর্যটনের প্রসার ঘটানো, কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশ এবং ইকো-ট্যুরিজমের বিকাশ এবং গ্রাম পর্যটন উন্নয়ন।

তিনি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট আইন, নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রণয়ন, পর্যটন ক্লাস্টার তৈরি, স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও উপকূলীয় এলাকাভিত্তিক পর্যটনের বিকাশ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার রূপরেখা রয়েছে। সার্বিকভাবে মহাপরিকল্পনায় আগামী দুই দশকের জন্য দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের একটি সমন্বিত উদ্যোগ ও কৌশলগত রূপরেখা রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে ৩০টির অধিক জেলায় স্বীকৃত ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য রয়েছে। সব অঞ্চলে পর্যটনের সুবিধা সম্প্রসারণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রত্যেকটি জেলার পর্যটন উপযোগিতা বিবেচনা করে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ, ২০২৬ তারিখে দেশের ১০টি জেলা এবং ৩টি সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামীতে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) নির্বাচনী এলাকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকার দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলাগুলোতে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্ন ছিল, নওগাঁ-৪ আসনের মান্দা উপজেলাধীন ‘মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ’সহ দেশের সব উপজেলা সদরের একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে তা কতদিনে বাস্তবায়ন করা হবে?

প্রশ্নের জন্য ইকরামুল বারী টিপুকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজসহ দেশের অন্যান্য উপজেলার উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারীকরণের বিষয়টি বিদ্যমান নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে। এছাড়া দেড় হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক করতে স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইসিটি খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কর্তৃক আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন ইউজিং ফ্লাটার, পাইথন প্রোগ্রামিং এবং এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সে আলোকে শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

নারী শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।