Dhaka মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদ ফের ৬ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় আরও ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরদিন তাকে দেলোয়ার হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল আদালত।

ওই রিমান্ড শেষে এদিন শেখ মামুন খালেদকে আদালতে হাজির করে ফের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন।

আবেদনে বলা হয়, এ আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্ত কাজে সহায়ক হবে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এমতাবস্থায় আসামির দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মামুন খালেদকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামির পক্ষে মোরশেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে ৬ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

শুনানি চলাকালে মামুন খালেদ বলেন, ২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর অবসর গ্রহণ করি। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ১ বছর ৩ মাস দায়িত্ব পালন করেছি। আপনি আমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডি করেছেন। আমি কমিউনিকেশন অফিসার। আমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডি করে দেখেন। আমার তিনটা পিএইচডি, পাঁচটি মাস্টার্স রয়েছে। আমি ২২ বছর একাডেমিক কাজে ছিলাম। ৪০ বছর চাকরি করেছি, এখন সম্মান ধূলিতে মিশিয়ে দিয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে ১২০ ঘণ্টার বেশি আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে। আর কী প্রশ্ন থাকতে পারে। আমি ছাত্রদের পড়ায়, কিভাবে ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে পারি। আমাকে শুধু হয়রানির উদ্দেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

দেলোয়ার হত্যা মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ৫০০ থেকে ৭০০ নেতাকর্মী। এসময় শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।

তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগসহ এক-এগারোর সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

সিগন্যালস কোরের কর্মকর্তা হিসেবে শেখ মামুন ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ডিজিএফআইতে পরিচালক (এফএসআইবি) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০০৮ সালের জুনে তিনি ব্রিগেডিয়ার চৌধুরী ফজলুল বারির স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিচালকের (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর-সিআইবি) দায়িত্ব পালন করেন।

পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবরের উত্তরসূরি হিসেবে শেখ মামুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডিজিএফআইতে ফিরে আসেন।

প্রায় দেড় বছর এই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন মেজর জেনারেল আকবর হোসেন।

সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় শেখ মামুন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপাচার্য ছিলেন। পরে অবসরে যাওয়ার আগে তিন তারকা জেনারেল হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লায় কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের মে মাসে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রীসহ শেখ মামুন খালেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আদালত। তখন দুদক তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদসংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।

আবহাওয়া

ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদ ফের ৬ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশের সময় : ০৪:২০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় আরও ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরদিন তাকে দেলোয়ার হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল আদালত।

ওই রিমান্ড শেষে এদিন শেখ মামুন খালেদকে আদালতে হাজির করে ফের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন।

আবেদনে বলা হয়, এ আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্ত কাজে সহায়ক হবে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এমতাবস্থায় আসামির দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মামুন খালেদকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামির পক্ষে মোরশেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে ৬ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

শুনানি চলাকালে মামুন খালেদ বলেন, ২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর অবসর গ্রহণ করি। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ১ বছর ৩ মাস দায়িত্ব পালন করেছি। আপনি আমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডি করেছেন। আমি কমিউনিকেশন অফিসার। আমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডি করে দেখেন। আমার তিনটা পিএইচডি, পাঁচটি মাস্টার্স রয়েছে। আমি ২২ বছর একাডেমিক কাজে ছিলাম। ৪০ বছর চাকরি করেছি, এখন সম্মান ধূলিতে মিশিয়ে দিয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে ১২০ ঘণ্টার বেশি আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে। আর কী প্রশ্ন থাকতে পারে। আমি ছাত্রদের পড়ায়, কিভাবে ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে পারি। আমাকে শুধু হয়রানির উদ্দেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

দেলোয়ার হত্যা মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ৫০০ থেকে ৭০০ নেতাকর্মী। এসময় শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।

তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগসহ এক-এগারোর সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

সিগন্যালস কোরের কর্মকর্তা হিসেবে শেখ মামুন ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ডিজিএফআইতে পরিচালক (এফএসআইবি) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০০৮ সালের জুনে তিনি ব্রিগেডিয়ার চৌধুরী ফজলুল বারির স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিচালকের (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর-সিআইবি) দায়িত্ব পালন করেন।

পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবরের উত্তরসূরি হিসেবে শেখ মামুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডিজিএফআইতে ফিরে আসেন।

প্রায় দেড় বছর এই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন মেজর জেনারেল আকবর হোসেন।

সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় শেখ মামুন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপাচার্য ছিলেন। পরে অবসরে যাওয়ার আগে তিন তারকা জেনারেল হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লায় কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের মে মাসে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রীসহ শেখ মামুন খালেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আদালত। তখন দুদক তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদসংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।