Dhaka মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশে পেট্রল-ডিজেল-অকটেনের মজুত কত, জানাল জ্বালানি বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। তবে দেশে এই সংকট আগামী মাসেও হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। একই সঙ্গে তারা পেট্রোল, অকটেন ও জেট ফুয়েল কতটা মজুত আছে, তা জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশে বর্তমানে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন পেট্রোল, ডিজেল, অকেটেন ও জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে। দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন এবং পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন। এছাড়া জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন। সর্বমোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন।

একদিনের অভিযানেই ৮৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার

দেশে ডিজেল নিয়ে কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্চে জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। এপ্রিলেও কোনো সংকট হবে না। জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ডিজেল পাচার রোধে সীমান্তে কড়া নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, জ্বালানি বিক্রিতে একটি অ্যাপ তৈরি করছে সরকার। সপ্তাহখানেকের মধ্যে সেটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হবে।

ডিপো থেকে পাম্পে তেল কম সরবরাহ বা তেল দেয়া হচ্ছে না এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় নি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সোমবার (৩০ মার্চ) সারাদেশে অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে সরকার। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৯৬ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

মনির হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, দেশে এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ যে পরিমাণ সরবরাহ পাওয়ার কথা ছিলো, তা পাওয়া গেছে।

যুগ্মসচিব বলেন, এসব পরিসংখ্যান থেকে দেশে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি মজুতের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এদিন সারাদেশে মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯ লাখ ৩ হাজার ৫৭০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরায় দুই বছর, চাঁদপুরে এক বছর এবং অন্য এক স্থানে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

চলমান অভিযানের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মোট ৩৫৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে ১২৪৪টি মামলা দায়ের এবং ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চলমান অভিযানের আওতায় এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫ লিটার, অকটেন ২৮ হাজার ৯৩৮ লিটার এবং পেট্রোলের ৬০ হাজার ২ লিটার।

যুগ্মসচিব বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি তদারকিতে সরকার নতুন উদ্যোগ হিসেবে সারাদেশে ফিলিং স্টেশনভিত্তিক ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকা বিভাগে ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন এবং মহানগর এলাকায় ১১৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলায় ৩৩০ জন এবং মহানগরে ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেও একইভাবে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ট্যাগ অফিসারদের নিবিড় তদারকির ফলে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আরও বাড়বে।

রেশনিং ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালুর কাজ চলছে৷ পরীক্ষামূলকভাবে শিগগিরই কয়েকটি স্থানে এটি চালু করা হবে। পাশাপাশি কিছু জেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় দুইভাবে হিসাব করে—ব্যবহারযোগ্য মজুদ এবং ‘ডেড স্টক’সহ মোট মজুদ। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য মোট মজুদ হিসাবের ভিত্তিতে, আর তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য উপলব্ধ অংশ আলাদা করে উল্লেখ করা হয়। ফলে তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।

মজুদদারির বিষয়ে তিনি বলেন, কে কী উদ্দেশ্যে মজুদ করছে তা সংশ্লিষ্টরাই ভালো বলতে পারবে। তবে সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

আবহাওয়া

দেশে পেট্রল-ডিজেল-অকটেনের মজুত কত, জানাল জ্বালানি বিভাগ

প্রকাশের সময় : ০৩:২৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। তবে দেশে এই সংকট আগামী মাসেও হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। একই সঙ্গে তারা পেট্রোল, অকটেন ও জেট ফুয়েল কতটা মজুত আছে, তা জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশে বর্তমানে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন পেট্রোল, ডিজেল, অকেটেন ও জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে। দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন এবং পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন। এছাড়া জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন। সর্বমোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন।

একদিনের অভিযানেই ৮৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার

দেশে ডিজেল নিয়ে কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্চে জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। এপ্রিলেও কোনো সংকট হবে না। জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ডিজেল পাচার রোধে সীমান্তে কড়া নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, জ্বালানি বিক্রিতে একটি অ্যাপ তৈরি করছে সরকার। সপ্তাহখানেকের মধ্যে সেটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হবে।

ডিপো থেকে পাম্পে তেল কম সরবরাহ বা তেল দেয়া হচ্ছে না এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় নি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সোমবার (৩০ মার্চ) সারাদেশে অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে সরকার। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৯৬ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

মনির হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, দেশে এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ যে পরিমাণ সরবরাহ পাওয়ার কথা ছিলো, তা পাওয়া গেছে।

যুগ্মসচিব বলেন, এসব পরিসংখ্যান থেকে দেশে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি মজুতের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এদিন সারাদেশে মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯ লাখ ৩ হাজার ৫৭০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরায় দুই বছর, চাঁদপুরে এক বছর এবং অন্য এক স্থানে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

চলমান অভিযানের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মোট ৩৫৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে ১২৪৪টি মামলা দায়ের এবং ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চলমান অভিযানের আওতায় এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫ লিটার, অকটেন ২৮ হাজার ৯৩৮ লিটার এবং পেট্রোলের ৬০ হাজার ২ লিটার।

যুগ্মসচিব বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি তদারকিতে সরকার নতুন উদ্যোগ হিসেবে সারাদেশে ফিলিং স্টেশনভিত্তিক ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকা বিভাগে ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন এবং মহানগর এলাকায় ১১৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলায় ৩৩০ জন এবং মহানগরে ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেও একইভাবে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ট্যাগ অফিসারদের নিবিড় তদারকির ফলে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আরও বাড়বে।

রেশনিং ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালুর কাজ চলছে৷ পরীক্ষামূলকভাবে শিগগিরই কয়েকটি স্থানে এটি চালু করা হবে। পাশাপাশি কিছু জেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় দুইভাবে হিসাব করে—ব্যবহারযোগ্য মজুদ এবং ‘ডেড স্টক’সহ মোট মজুদ। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য মোট মজুদ হিসাবের ভিত্তিতে, আর তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য উপলব্ধ অংশ আলাদা করে উল্লেখ করা হয়। ফলে তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।

মজুদদারির বিষয়ে তিনি বলেন, কে কী উদ্দেশ্যে মজুদ করছে তা সংশ্লিষ্টরাই ভালো বলতে পারবে। তবে সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।