Dhaka শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের অশুভ পন্থা অবলম্বন না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পবিত্র রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের অশুভ পন্থা অবলম্বন না করতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর হেয়ার রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আলেম ওলামা ও এতিমদের সম্মানে ইফতার আয়োজনে এসব কথা বলেন তিনি।

শনিবার (৭ মার্চ) এতিম ও আলেম-ওলামার সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র রমজান ত্যাগ এবং সংযমের মাস। রহমত- বরকত-সংযমের মাস। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য, রমজান এলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। রমজান মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। পবিত্র রমজান মাসেও যারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন, আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান, অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।

তারেক রহমান বলেন, ইসলামি ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি অনুযায়ী অতীতের প্রতিটি রমজানের প্রায় প্রতিদিনই আমরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করে আসছিলাম। আলেম ওলামা মাশায়েখ এবং এতিমদের সম্মানে আমরা সাধারণত পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকি।

Tareq112

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার আমাদেরকে একটু দেরি করেই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিটির কারণে গ্যাস বিদ্যুৎ জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যায় সংকোচন এবং কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে আজ এবং গতকালের ইফতার মাহফিলসহ মোট দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি।

সরকারপ্রধান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল। আজকের এই ইফতার মাহফিলের অংশগ্রহণকারী ‘এতিম সন্তানেরাই’ আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেহমান। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে ‘এতিমের হক’ আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি ইসলামের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতিমের প্রতি ‘হক আদায়ে’র গুরুত্ব এবং এতিমদের নিয়ে আজকের এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, আজকের এই ইফতার মাহফিলে সঙ্গত কারণেই সকল এতিম সন্তানদেরকে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি। তবে এতিমদের ব্যাপারে রাষ্ট্র এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই ইফতার মাহফিলের অবশ্যই প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। এই ইফতার মাহফিল এতিমদের প্রতি বিত্তবানদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায় দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

প্রতিজন বিত্তবান যদি অসহায় এতিমদের প্রতি পবিত্র কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট থাকেন…তাহলে আমি বিশ্বাস করি… পিতৃহারা এতিম সন্তানেরা এক বুক বেদনা বুকে নিয়েও রাষ্ট্র এবং সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা খুঁজে পাবে।

আলেম-ওলামার উদ্দেশে তিনি বলেন, ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির আরেকটি হচ্ছে জাকাত। দেশে জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমি আমার একটি পরিকল্পনার কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান নিজ উদ্যোগেই জাকাত দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ সরকারের ‘জাকাত বোর্ডের’ মাধ্যমেও জাকাত পরিশোধ করে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে… প্রতি বছর বাংলাদেশে এই জাকাতের পরিমাণ ২০/২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে থাকে। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলেছেন। তবে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে জাকাত বণ্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির জাকাত আদায় হয়ে গেলেও জাকাতের অর্থ দারিদ্র বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি একটি বড় প্রশ্ন।

তারেক রহমান বলেন, যতদূর জানি, জাকাতদাতাদেরকে ইসলামি বিধান এমনভাবে জাকাত বণ্টনে উৎসাহিত করে, যাতে একজন জাকাত গ্রহীতা প্রথম বছর জাকাত গ্রহণের পর পরের বছর আর জাকাত গ্রহণ করতে না হয়। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, পরিকল্পিতভাবে জাকাত বণ্টন করা গেলে দারিদ্র বিমোচনে জাকাত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এমন বাস্তবতায় সরকার জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর এবং লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

tareq

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধনী দরিদ্র সবমিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কমবেশি চার কোটি। এসব পরিবারের মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হত দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে ৫ লক্ষ পরিবারকে এক লক্ষ করে টাকা যাকাত দেওয়া হয়, আমার বিশ্বাস এসব পরিবারের মধ্যে বেশির ভাগ পরিবারকে পরের বছর আর জাকাত নাও দিতে হতে পারে। লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে জাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

আলেমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দারিদ্র বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আপনাদের কাছে যৌক্তিক মনে হলে এ ব্যাপারে বিত্তবানদের সচেতন করার ক্ষেত্রে আপনারা আলেম ওলামা মাশায়েখগণ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারেন। জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন করার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান ‘জাকাত বোর্ড’কে পুনর্গঠন সম্ভব। জাকাতকে দারিদ্র বিমোচনে ব্যবহার করে ইসলামি বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলেও আমি মনে করি।

বক্তব্যের শেষে তিনি দেশের কল্যাণ ও জনগণের মঙ্গল কামনা করে দোয়া করেন।

ইফতার মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেএম জাহিদ হোসেন, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, মধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামিদ, জমিয়ত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মুফতি মনির কাসেমী, শায়খ আহমাদুল্লাহ, মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফসহ শীর্ষ আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আ.লীগকে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে পুনর্বাসন করা যাবে না : নাহিদ ইসলাম

রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের অশুভ পন্থা অবলম্বন না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ০৭:২৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পবিত্র রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের অশুভ পন্থা অবলম্বন না করতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর হেয়ার রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আলেম ওলামা ও এতিমদের সম্মানে ইফতার আয়োজনে এসব কথা বলেন তিনি।

শনিবার (৭ মার্চ) এতিম ও আলেম-ওলামার সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র রমজান ত্যাগ এবং সংযমের মাস। রহমত- বরকত-সংযমের মাস। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য, রমজান এলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। রমজান মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। পবিত্র রমজান মাসেও যারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন, আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান, অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।

তারেক রহমান বলেন, ইসলামি ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি অনুযায়ী অতীতের প্রতিটি রমজানের প্রায় প্রতিদিনই আমরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করে আসছিলাম। আলেম ওলামা মাশায়েখ এবং এতিমদের সম্মানে আমরা সাধারণত পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকি।

Tareq112

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার আমাদেরকে একটু দেরি করেই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিটির কারণে গ্যাস বিদ্যুৎ জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যায় সংকোচন এবং কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে আজ এবং গতকালের ইফতার মাহফিলসহ মোট দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি।

সরকারপ্রধান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল। আজকের এই ইফতার মাহফিলের অংশগ্রহণকারী ‘এতিম সন্তানেরাই’ আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেহমান। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে ‘এতিমের হক’ আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি ইসলামের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতিমের প্রতি ‘হক আদায়ে’র গুরুত্ব এবং এতিমদের নিয়ে আজকের এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, আজকের এই ইফতার মাহফিলে সঙ্গত কারণেই সকল এতিম সন্তানদেরকে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি। তবে এতিমদের ব্যাপারে রাষ্ট্র এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই ইফতার মাহফিলের অবশ্যই প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। এই ইফতার মাহফিল এতিমদের প্রতি বিত্তবানদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায় দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

প্রতিজন বিত্তবান যদি অসহায় এতিমদের প্রতি পবিত্র কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট থাকেন…তাহলে আমি বিশ্বাস করি… পিতৃহারা এতিম সন্তানেরা এক বুক বেদনা বুকে নিয়েও রাষ্ট্র এবং সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা খুঁজে পাবে।

আলেম-ওলামার উদ্দেশে তিনি বলেন, ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির আরেকটি হচ্ছে জাকাত। দেশে জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমি আমার একটি পরিকল্পনার কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান নিজ উদ্যোগেই জাকাত দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ সরকারের ‘জাকাত বোর্ডের’ মাধ্যমেও জাকাত পরিশোধ করে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে… প্রতি বছর বাংলাদেশে এই জাকাতের পরিমাণ ২০/২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে থাকে। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলেছেন। তবে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে জাকাত বণ্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির জাকাত আদায় হয়ে গেলেও জাকাতের অর্থ দারিদ্র বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি একটি বড় প্রশ্ন।

তারেক রহমান বলেন, যতদূর জানি, জাকাতদাতাদেরকে ইসলামি বিধান এমনভাবে জাকাত বণ্টনে উৎসাহিত করে, যাতে একজন জাকাত গ্রহীতা প্রথম বছর জাকাত গ্রহণের পর পরের বছর আর জাকাত গ্রহণ করতে না হয়। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, পরিকল্পিতভাবে জাকাত বণ্টন করা গেলে দারিদ্র বিমোচনে জাকাত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এমন বাস্তবতায় সরকার জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর এবং লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

tareq

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধনী দরিদ্র সবমিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কমবেশি চার কোটি। এসব পরিবারের মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হত দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে ৫ লক্ষ পরিবারকে এক লক্ষ করে টাকা যাকাত দেওয়া হয়, আমার বিশ্বাস এসব পরিবারের মধ্যে বেশির ভাগ পরিবারকে পরের বছর আর জাকাত নাও দিতে হতে পারে। লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে জাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

আলেমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দারিদ্র বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আপনাদের কাছে যৌক্তিক মনে হলে এ ব্যাপারে বিত্তবানদের সচেতন করার ক্ষেত্রে আপনারা আলেম ওলামা মাশায়েখগণ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারেন। জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন করার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান ‘জাকাত বোর্ড’কে পুনর্গঠন সম্ভব। জাকাতকে দারিদ্র বিমোচনে ব্যবহার করে ইসলামি বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলেও আমি মনে করি।

বক্তব্যের শেষে তিনি দেশের কল্যাণ ও জনগণের মঙ্গল কামনা করে দোয়া করেন।

ইফতার মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেএম জাহিদ হোসেন, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, মধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামিদ, জমিয়ত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মুফতি মনির কাসেমী, শায়খ আহমাদুল্লাহ, মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফসহ শীর্ষ আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।