Dhaka শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটার পর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। এবার দেশ গড়ার পালা-সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ বিএনপিকে বিপুল সমর্থন দিয়ে দায়িত্ব দিয়েছে। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে দল ও নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিজয় উদযাপনে শান্ত ও সংযত থাকার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভিন্নমত থাকতেই পারে, তবে জাতীয় স্বার্থে ঐক্য অটুট রাখতে হবে।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সরকার ইতিবাচক ও গঠনমূলক পদক্ষেপ নেবে।

তিনি বলেন, জনগণের রায় পেলে বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং সারা দেশের জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিল। ৩১ দফার আলোকে ঘোষণা করা হয়েছে দলীয় ইশতেহার। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছে। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমিকভাবে বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ।

কর্মস্থলে ফিরতে ফ্রি লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য  নুর

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে দেশের জনগণ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছেন। জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা দেখিয়েছেন, এবার জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে জনগণের এই বিশ্বাস এবং ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এবার আমি সারা দেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই—শত নির্যাতন-নিপীড়নের পরও আপনারা রাজপথ ছাড়েননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা তো সংগ্রামে অটুট ছিলেন, অনড় ছিলেন। এবার দেশ গড়ার পালা আমাদের। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় আপনি-আমি— আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে অবশ্যই।

তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে, শান্তির সাথে, দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদযাপন করেছি। নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এজন্য শত উস্কানির মুখেও আমি সারা বাংলাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য নির্বাচনোত্তর নিরঙ্কুশ জয়ের অর্জনের পরও আমি সারা দেশে বিএনপি এবং জোটভুক্ত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম। আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে বিজয় উৎসব পালন করেছি।

দেশ পরিচালনায় ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ মন্তব্য করে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্ন মত—প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে। নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নির্বাচনের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার রূপ না নেয়—সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য আমি আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে: তারেক রহমান

বিএনপি প্রধান বলেন, আসুন, যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম, একইভাবে এবার দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে আমরা ভূমিকা রাখি। একটি নিরাপদ, মানবিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্ন মতের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর করে দেওয়া সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের নোবেল শান্তিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়। সেই সরকারের যাত্রার দেড় বছর বাদে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও সংস্কার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হয় গণভোট।

বিএনপি প্রধান বলেন, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলো মূলত গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধী দল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে, অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

নির্বাচনের পর উসকানি দেওয়া হচ্ছে- এমন দাবি করে বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এ জন্য শত উসকানির মুখেও আমি সারাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে।

জনগণকে কনভিন্স করাই আমাদের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’: তারেক রহমান

কোনো রকমের বেআইনি কর্মকাণ্ড ‘বরদাশত করা হবে না’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দলমত ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যা-ই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের উপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না।’ দলের আন্তঃকোন্দলের বিষয়টিও ইঙ্গিত করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নির্বাচনের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানাই।

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নতুন সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক কূটনীতি, অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে  রহমান। এসময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী-এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের সামনে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও পুঁজির সংকট মোকাবিলা।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা, তারল্য সংকট দূর করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে অগ্রাধিকার। পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গত শাসনামলে দলীয়করণ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার কেবল তরুণদের নয়, সমাজের সব স্তরের মানুষের কথা শুনবে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও নারীদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থান নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।

আঞ্চলিক কূটনীতি ও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, যেহেতু এই জোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের হাত ধরে, তাই বিএনপি সরকার চাইবে সার্ক আবার সক্রিয় ও কার্যকর হোক।

তিনি আরও বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবে।

আইনকে আইনের মতো চলার ব্যবস্থা করব: তারেক রহমান

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে বিএনপির ভাবনা কী হবে- বিদেশি এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। তবে যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) যদি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক ও লাভজনক হয়, তবেই সরকার এ উদ্যোগে ইতিবাচকভাবে এগোবে।

বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়া ও স্থবির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বিএনপি সরকারের পরিকল্পনা কী থাকবে- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বিজয় চিহ্ন দেখান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে সাদা শার্ট পরে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তারেক রহমান হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে প্রবেশ করলে সেখানে আসা নেতারা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের দিকে হাত তুলে সালাম জানান তারেক রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটার পর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। এবার দেশ গড়ার পালা-সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ বিএনপিকে বিপুল সমর্থন দিয়ে দায়িত্ব দিয়েছে। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে দল ও নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিজয় উদযাপনে শান্ত ও সংযত থাকার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভিন্নমত থাকতেই পারে, তবে জাতীয় স্বার্থে ঐক্য অটুট রাখতে হবে।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সরকার ইতিবাচক ও গঠনমূলক পদক্ষেপ নেবে।

তিনি বলেন, জনগণের রায় পেলে বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং সারা দেশের জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিল। ৩১ দফার আলোকে ঘোষণা করা হয়েছে দলীয় ইশতেহার। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছে। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমিকভাবে বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ।

কর্মস্থলে ফিরতে ফ্রি লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য  নুর

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে দেশের জনগণ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছেন। জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা দেখিয়েছেন, এবার জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে জনগণের এই বিশ্বাস এবং ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এবার আমি সারা দেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই—শত নির্যাতন-নিপীড়নের পরও আপনারা রাজপথ ছাড়েননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা তো সংগ্রামে অটুট ছিলেন, অনড় ছিলেন। এবার দেশ গড়ার পালা আমাদের। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় আপনি-আমি— আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে অবশ্যই।

তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে, শান্তির সাথে, দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদযাপন করেছি। নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এজন্য শত উস্কানির মুখেও আমি সারা বাংলাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য নির্বাচনোত্তর নিরঙ্কুশ জয়ের অর্জনের পরও আমি সারা দেশে বিএনপি এবং জোটভুক্ত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম। আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে বিজয় উৎসব পালন করেছি।

দেশ পরিচালনায় ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ মন্তব্য করে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্ন মত—প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে। নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নির্বাচনের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার রূপ না নেয়—সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য আমি আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে: তারেক রহমান

বিএনপি প্রধান বলেন, আসুন, যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম, একইভাবে এবার দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে আমরা ভূমিকা রাখি। একটি নিরাপদ, মানবিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্ন মতের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর করে দেওয়া সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের নোবেল শান্তিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়। সেই সরকারের যাত্রার দেড় বছর বাদে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও সংস্কার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হয় গণভোট।

বিএনপি প্রধান বলেন, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলো মূলত গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধী দল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে, অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

নির্বাচনের পর উসকানি দেওয়া হচ্ছে- এমন দাবি করে বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এ জন্য শত উসকানির মুখেও আমি সারাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে।

জনগণকে কনভিন্স করাই আমাদের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’: তারেক রহমান

কোনো রকমের বেআইনি কর্মকাণ্ড ‘বরদাশত করা হবে না’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দলমত ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যা-ই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের উপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না।’ দলের আন্তঃকোন্দলের বিষয়টিও ইঙ্গিত করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নির্বাচনের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানাই।

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নতুন সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক কূটনীতি, অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে  রহমান। এসময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী-এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের সামনে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও পুঁজির সংকট মোকাবিলা।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা, তারল্য সংকট দূর করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে অগ্রাধিকার। পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গত শাসনামলে দলীয়করণ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার কেবল তরুণদের নয়, সমাজের সব স্তরের মানুষের কথা শুনবে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও নারীদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থান নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।

আঞ্চলিক কূটনীতি ও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, যেহেতু এই জোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের হাত ধরে, তাই বিএনপি সরকার চাইবে সার্ক আবার সক্রিয় ও কার্যকর হোক।

তিনি আরও বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবে।

আইনকে আইনের মতো চলার ব্যবস্থা করব: তারেক রহমান

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে বিএনপির ভাবনা কী হবে- বিদেশি এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। তবে যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) যদি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক ও লাভজনক হয়, তবেই সরকার এ উদ্যোগে ইতিবাচকভাবে এগোবে।

বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়া ও স্থবির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বিএনপি সরকারের পরিকল্পনা কী থাকবে- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বিজয় চিহ্ন দেখান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে সাদা শার্ট পরে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তারেক রহমান হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে প্রবেশ করলে সেখানে আসা নেতারা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের দিকে হাত তুলে সালাম জানান তারেক রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।