Dhaka সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী থাকায় নীতি সুদহার কমানোর ঝুঁকি না নিয়ে আগের মতোই সংকোচনমুখী ধারার মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে নীতি সুদ হিসেবে পরিচিত রেপো রেট ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে ব্যাংক ঋণের সুদও আগামী জুন পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা নেই।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হলেও ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিতে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা জমা রাখার সুদ ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা রেখে কম লাভ পাবে। ফলে তারা সেই টাকা ব্যবসা ও শিল্পখাতে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী হবে।

সুদের হার করিডরের অন্যান্য সূচকেও বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) ঊর্ধ্বসীমা আগের মতো ১১ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

আর স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) নিম্নসীমা ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। তবে সুদের হার না কমালেও বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

গভর্নর বলেন, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, কর আদায় না বাড়িয়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের ওপর আবারও বাড়বে ব্যাংক ঋণের বোঝা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এতে উসকে দিতে পারে মূল্যস্ফীতি।

গভর্নর বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার অভাবে প্রত্যাশার তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। সরকার বাজেটে কাটছাঁট করার পরও ব্যাংকখাত থেকে ঋণের হার বেড়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন প্রয়োজন। সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো বাংলাদেশ ব্যাংককেও চাপে থাকতে হয়, আশা করি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে আর্থিকখাত নিয়ে সংস্কারের বিষয়ে দলগুলো কথা রাখবেন।

চলতি অর্থবছরে বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, গত ১ বছরে ডলার কেনা হয়েছে, তবে কোনো ডলার রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয়নি। চার বছরে আইএমএফ যে ঋণ দেয়ার কথা তার থেকে বেশি ডলার রিজার্ভে কেনা হয়েছে। অন্যের মুখাপেক্ষী আমরা থাকতে চাই না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানুয়ারি-জুন সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণা করে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা ছাড়া বাকি সূচকগুলোতে মুদ্রানীতি সফল হয়েছে। আমরা খুব ভালো করেছি, শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা আশাবাদী, এটাও (মূল্যস্ফীতি) কমবে। অর্থনীতির বিশ্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী আমাদের অর্থনীতি সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো করবে, তাই মূল্যস্ফীতিও কমবে।’

কেবল একটি লক্ষ্য অর্জিত হয়নি মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, ‘একটা টার্গেট পূরন হয়নি দেখে গুলি ছোড়া ঠিক হবে না। আমরা তাই এই মূহুর্তে পলিসি রেট কমাব না। রিজার্ভ আমাদের ভালো অবস্থানে আছে। গত অগাস্ট থেকে আইএমএফ এর শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে আমাদের। আগে কখনোই যা হয়নি।’

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পেছালো

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

প্রকাশের সময় : ০১:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী থাকায় নীতি সুদহার কমানোর ঝুঁকি না নিয়ে আগের মতোই সংকোচনমুখী ধারার মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে নীতি সুদ হিসেবে পরিচিত রেপো রেট ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে ব্যাংক ঋণের সুদও আগামী জুন পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা নেই।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হলেও ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিতে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা জমা রাখার সুদ ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা রেখে কম লাভ পাবে। ফলে তারা সেই টাকা ব্যবসা ও শিল্পখাতে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী হবে।

সুদের হার করিডরের অন্যান্য সূচকেও বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) ঊর্ধ্বসীমা আগের মতো ১১ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

আর স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) নিম্নসীমা ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। তবে সুদের হার না কমালেও বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

গভর্নর বলেন, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, কর আদায় না বাড়িয়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের ওপর আবারও বাড়বে ব্যাংক ঋণের বোঝা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এতে উসকে দিতে পারে মূল্যস্ফীতি।

গভর্নর বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার অভাবে প্রত্যাশার তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। সরকার বাজেটে কাটছাঁট করার পরও ব্যাংকখাত থেকে ঋণের হার বেড়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন প্রয়োজন। সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো বাংলাদেশ ব্যাংককেও চাপে থাকতে হয়, আশা করি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে আর্থিকখাত নিয়ে সংস্কারের বিষয়ে দলগুলো কথা রাখবেন।

চলতি অর্থবছরে বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, গত ১ বছরে ডলার কেনা হয়েছে, তবে কোনো ডলার রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয়নি। চার বছরে আইএমএফ যে ঋণ দেয়ার কথা তার থেকে বেশি ডলার রিজার্ভে কেনা হয়েছে। অন্যের মুখাপেক্ষী আমরা থাকতে চাই না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানুয়ারি-জুন সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণা করে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা ছাড়া বাকি সূচকগুলোতে মুদ্রানীতি সফল হয়েছে। আমরা খুব ভালো করেছি, শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা আশাবাদী, এটাও (মূল্যস্ফীতি) কমবে। অর্থনীতির বিশ্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী আমাদের অর্থনীতি সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো করবে, তাই মূল্যস্ফীতিও কমবে।’

কেবল একটি লক্ষ্য অর্জিত হয়নি মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, ‘একটা টার্গেট পূরন হয়নি দেখে গুলি ছোড়া ঠিক হবে না। আমরা তাই এই মূহুর্তে পলিসি রেট কমাব না। রিজার্ভ আমাদের ভালো অবস্থানে আছে। গত অগাস্ট থেকে আইএমএফ এর শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে আমাদের। আগে কখনোই যা হয়নি।’