নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইং থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে OHCHR-এর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক নোট ভারবাল (Note Verbale) প্রেরণ করেছে। উক্ত নোটে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
জেনেভাস্থ বাংলাদেশ মিশন থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়েছে, OHCHR থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া মাত্রই তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণয়কে অবহিত করা হবে।
প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকার পুনর্ব্যক্ত করছে যে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ওসমান হাদি। তফসিলের পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর ওই রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে প্রধান আসামি ফয়সাল করিমসহ মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় ক্ষোভ দেখা দেয় ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী ও পরিবারেরা সদস্যদের মধ্যে। তারা এই হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সেই দাবি অনুযায়ী সরকার জাতিসংঘের দ্বারস্থ হলো।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















