নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালেটসহ কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন থাকলেও নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের আশায় বিএনপি নীরব রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, পোস্টাল ব্যালেটসহ কয়েকটি বিষয়ে বিএনপির প্রশ্ন থাকলেও নীরব রয়েছে। কারণ বিএনপি চায় নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
পোস্টাল ব্যালটে থাকা ধানের শীষ প্রতীকের বিষয়ে তিনি বলেন, শুরুতে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি ও হাতপাখা দেওয়া হয়েছে। আর ধানের শীষ দিয়েছে মাঝে, যেখানে ব্যালট পেপার ভাঁজ করলে ভাঁজের মধ্যে পড়ে যায়। আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করলাম নির্বাচন কমিশনে। তারা বললো, এটা আমরা করি নাই। এখানে আমরা তো খেয়ালও করি নাই, এটা অফিসের লোকরা করেছে। এটা এভাবে হইছে এটা আমরা বুঝতে পারি নাই।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, উন্নয়নের পথে দেশটাকে এগিয়ে নিতে হবে। এদেশের সব দুর্যোগকালে জিয়া পরিবারকে আমরা দেখেছি, জিয়াউর রহমানকে আমরা দেখেছি এবং বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা দেখেছি। এখন আমরা তারেক রহমান সাহেবকে দেখছি। এদেশের মানুষ তাদের উপর নির্ভর করে আস্থা রেখে তাদের ইচ্ছা পূরণের চেষ্টা করেছে, সফল হয়েছে তারা। এবারও সেই চেষ্টা করতে হবে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশন কিছু তথাকথিত ক্রুটি খোঁজার চেষ্টা করছে। অথচ পোস্টাল ব্যালেট ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও সেই বিষয়ে তারা নীরব।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের লড়াইকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবে উপস্থাপন করে মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের বিভিন্ন নেতাকর্মীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরো বলেন, আল্লাহ কারো দম্ভ ও অহংকার পছন্দ করেন না। জামায়াতের নেতারা বলে ঢাকার একটি সিটও নাকি দেবে না, এই কথা বলা কি অহংকার না? আমি বলি, এগুলো ঠিক না। এগুলো তাদের কর্মীদের সাহস দেওয়ার জন্য বোধ হয় বলে। কিন্তু এমন কিছু বলা উচিত না, যেটা তাদের ঈমানকে পর্যন্ত পরীক্ষায় ফেলে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা-১৭ আসনে তাদের (জামায়াতের) প্রার্থী বলেছেন, ঢাকায় কোনো সিট দেবে না আরকি। আচ্ছা বলেন ভাই, সিট দেওয়ার মালিকটা কে? অবশ্যই আল্লাহ। কার ক্ষমতায় বলতেছে যে, ঢাকায় আর কোনো আসন কাউকে দেওয়া হবে না। আরে ভাই আমরা তো ৯১ সালে ঢাকায় সব আসন পাইছিলাম। আমরা তো বলতেছি না অন্য কেউ কোনো আসন পাবে না। পাইতেই পারে। অসম্ভব কি, নির্বাচন তো একটা আনসার্টেন ব্যাপার। আল্লাহ যাকে সাহায্য করবেন জনগণ সে অনুযায়ী সমর্থন করবে এবং নির্বাচিত হবে।
তিনি বলেন, আমরা বলি নাই কখনো যে আর কাউকে কোনো আসন দেওয়াই হবে না। আরে ভাই, জীবনেও কোনোদিন ঢাকায় মহানগর তো দূরের কথা, আশেপাশেও তো কোনোদিন কোন আসন পান নাই। এই কথা বলাটা কি একটা অহংকার না এটা? এটা একটা দম্ভ না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন নাকি দুর্বল আচরণ করেছে। আমাদের দেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, বাংলাদেশে জন্মসূত্রে কোনো নাগরিক যদি বিদেশের কোন অন্য কোনো দেশের নাগরিক থেকে থাকেন তিনি যদি সেই নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে তার কোনো বাধা নেই। কোথাও বলে নাই আপনি পরিত্যাগ করলেন সেটা ওই দেশে গ্রহণ হইলো কি হইলো না, এটা নিয়ে আপনাকে কোনো শর্ত আরোপ করা নাই। একইভাবে আমাদের আরপিও অনুযায়ী, হলফনামায় আপনি আপনি দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে কি করেন নাই সেটা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই আবেদন গৃহীত হয়েছে কি, হয়নি সেটা জানতে চাওয়া হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম খান ও সহ-সভাপতি ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















