নিজস্ব প্রতিবেদক :
সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০৪-এর যাত্রীদের লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার (৩ জুন) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২ জুন জেদ্দা থেকে ৪৯১ জন হজযাত্রী নিয়ে বিজি-৩১০৪ ফ্লাইট ঢাকায় পৌঁছায়। পরে ‘মোখছা কামাল পলাশ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দাবি করা হয়, ফ্লাইটে আসা প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে বিভিন্ন মালামাল চুরি করা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং টিম তদন্ত পরিচালনা করে।
তদন্তে দেখা যায়, ফ্লাইটটি রাত ২টা ৫২ মিনিটে অবতরণের পর রাত ৩টা ৫ মিনিটে প্রথম ব্যাগ এবং রাত ৩টা ৫১ মিনিটের মধ্যে মোট ৮৩৬টি ব্যাগ ডেলিভারি বেল্টে সরবরাহ করা হয়। উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো থেকে শুরু করে বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিভাগ (এভসেক) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল। এছাড়া বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বিমান জানায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের লগবুক, শিফট রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে কোনো সংঘবদ্ধ চুরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ৮৩৬টি ব্যাগের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী তাদের ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়ার কথা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, যাত্রীদের অভিযোগ করা লাগেজে মূলত জমজমের পানি, খেজুর, পোশাক ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী ছিল। কোনো যাত্রী মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যাওয়ার অভিযোগ করেননি। একজন যাত্রী ব্যাগে রাখা একটি মানিব্যাগ হারানোর কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেননি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক ও সৌদি আরবের বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি বা যথাযথভাবে সিল না করা তরল পদার্থ বহন করা যায় না। স্ক্যানিংয়ের সময় এমন বস্তু শনাক্ত হলে নিরাপত্তার স্বার্থে লাগেজ খুলে পরীক্ষা করা হতে পারে। একইভাবে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী নগদ অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী চেক-ইন লাগেজে বহন করাও নিরুৎসাহিত।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ, বডি ক্যামেরার রেকর্ড, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) এবং সৌদি জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের (জিএসিএ) বিধিমালা পর্যালোচনা করে তদন্তে বিজি-৩১০৪ ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ থেকে মালামাল চুরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















