নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার ঈদের পর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মহাখালী ব্রাক সেন্টার অডিটরিয়ামে ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন ।
তিনি বলেন, পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়া গেলে ঈদের পরই মামলার বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। আমরা এমনভাবে এই মামলাটির বিচার অগ্রাধিকারভিত্তিতে শুরু করতে চাই যাতে কোনো প্রশ্ন না থাকে।
আইনমন্ত্রী বলেন, একটা ডিএনএ রিপোর্ট আসতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। কখনো কয়েক মাস লেগে যায়। আমরা আপনাদের বলছি, রামিসার ডিএনএ আসতে ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না আশা করি, ইনশাআল্লাহ। আমাদের ‘টপ প্রায়োরিটির’ মধ্যে এটা আছে। ২৫ তারিখ থেকে সরকারি ছুটি। যদি ডিএনএ রিপোর্টটা তার আগে পেয়ে যাই, আমরা আশা করি, তদন্ত যে গতিতে আগাচ্ছে আমরা ঈদের আগে যদি ‘চার্জশিটটা’ দিতে পারি, ঈদের পরপরই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করতে যা যা কর্মসূচি আছে তা তা গ্রহণ করে এই বিচার কার্যক্রম তরান্বিত করতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যতটা ‘ডিউ ডেলিজেন্স’ দেখানো সম্ভব, সাধারণ জনগণ, দেশে-বিদেশে মানুষ এই বিচার শেষ করতে যতটা প্রত্যাশা করে, আমরা আশা করি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হব।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি বলেছিলেন।
অভিযোগপত্র কবে নাগাদ হতে পারে এবং বিচার শেষ হতে কতদিন লাগতে পারে, এ প্রশ্নে এদিন তিনি বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, একটা বিচার যত দ্রুত সম্ভব, আমরা তার মধ্যেই করব। আমাদের সামনে একটা উদাহরণ হিসেবে আছে মাগুরার আছিয়ার মামলা। এক মাসের মধ্যেই মনে হয় শেষ করা সম্ভব হয়েছিল। তিন মাস লেগেছিল। আমরা মনে করি, অতদিন লাগার কথা না। ওটা সম্ভবত এক মাস লেগেছিল। অর্থাৎ ‘চার্জশিট’ জমার পর বিচারকার্য শেষ হতে এক মাস লেগেছিল।
আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধে ডিএনএ প্রতিবেদনের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
আসাদুজ্জামান বলেন, ডিএনএ টেস্ট না করে যদি ‘চার্জশিট’ দেয় পুলিশ, যে কেউ বলতেই পারেন, ১৬৪ (স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি) হয়ে গেছে, এরপর ডিএনএ করে কী হবে। এ ধরনের মামলায় ডিএনএ ‘ইজ আ ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পিস অব এভিডেন্স’। আমার যেখানে ডিএনএ করার সুযোগ আছে, আমরা সেখানে কেন করব না?
মামলাটির বিচার কাজ দ্রুত শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদের ছুটির পরপরই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে।
উচ্চ আদালতে এ ধরনের মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য যখন হাইকোর্টে আসে, তখন পেপার বুক (মামলার বৃত্তান্ত) তৈরিতে অনেক সময় লেগে যায়। এর ফলে চূড়ান্ত রায় পেতে বিলম্ব হয়। এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে আরও দ্রুত ও সহজ করা যায়, তা নিয়ে সরকার বর্তমানে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারি আইনগত সহায়তা কেন্দ্রকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আইন নিয়ে কোনো বৈষম্য থাকলে সেটাকে আমরা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করব। আমরা সমান্তরালভাবে কাজ করতে চাই।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- আইন সচিব খাদেম উল কায়েস, লিগ্যাল এইডের উপ-পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিন, সহকারী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব প্রমুখ। মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন সালিশ কেন্দ্র, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















