স্পোর্টস ডেস্ক :
নানা অলিগলি পেরিয়ে টি-টোয়েন্টিতে আবারো নতুন শুরুর দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এসেছেন নতুন কোচ, বিপিএলে ভালো করে সুযোগ পেয়েছেন একঝাঁক নতুন মুখ। তাদের পরীক্ষা দিতে হয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে। তবে এতসব চ্যালেঞ্জ প্রথম ম্যাচেই টপকে গেল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে আজই প্রথমবার ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দ পেল সাকিব আল হাসানের দল। বল হাতে হাসান মাহমুদদের মিতব্যয়ী বোলিংয়ের পর শান্ত ও সাকিবের ব্যাটে ভর করে ৬ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে গেল লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।
চট্টগ্রামের সাগরিকা পাড়ে দর্শক ছিল না শেষ ওয়ানডেতে, তবে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের সাসনে সাকিবের দল প্রথমবার হারাল ইংল্যান্ডকে। মাঠজুড়ে শুধু একটাই চিৎকার, একটাই হুংকার ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) ইংল্যান্ডে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। ১৫৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১২ বল হাতে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
১৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে চার মারেন লিটন দাস। এরপর ওভারের চতুর্থ বলে চার মারেন দলে সুযোগ পাওয়া রনি তালুকদার। এই ওভার থেকে ১০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। এরপর ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে চার মারেন রনি। পঞ্চম বলে ফের চার মারেন রনি। এই ওভার থেকে ১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন জোফরা আর্চার। ওভারের চতুর্থ বলে চার মারেন লিটন। এরপর ওভারের শেষ বলে চার মারেন রনি। এই ওভার থেকে ১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে স্পিনার আলিদ রশিদকে বোলিংয়ে আনেন বাটলার। ওভারের দ্বিতীয় বলে রনিকে বোল্ড করেন রশিদ। দলীয় ৩৩ রানে ১৪ বলে ২১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান রনি। ক্রিজে এসে ওভারের শেষ বলে চার মারেন শান্ত।
এরপর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ফের বোলিংয়ে আসেন আর্চার। ওভারের পঞ্চম বলে লিটন দাসকে আউট করেন আর্চার। দলীয় ৪৩ রানে ১০ বলে ১২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান লিটন। তার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন অভিষিক্ত তৌহিদ হৃদয়।

হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করেন শান্ত। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ওকসের বলে টানা চারটি চার মারেন শান্ত। এই ওভার থেকে ১৭ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ইনিংসের অষ্টম এক চারের সাহায্যে ১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
ইনিংসের নবম ওভারে ফের বোলিংয়ে আসেন স্যাম কুরান। ওভারের চতুর্থ বলে চার মারেন শান্ত। এই ওভার থেকে ৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। এরপর ইনিংসের দশম ওভারে চতুর্থ বলে চার মারেন শান্ত। এই ওভার থেকে ৮ রান নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের ১১ তম ওভারের তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান হৃদয়। অন্যদিকে ২৭ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন শান্ত। তবে দলীয় ১০৮ রানে ১৭ বলে ২৪ রান করে আউট হন হৃদয়।
এরপরে দলীয় ১১২ রানে সাজঘরে ফিরে যান শান্ত। ৩০ বলে ৫১ রান করে আউট হন শান্ত। শান্তর বিদায়ের পর আফিফ হোসেন ও সাকিব মিলে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করেন। এই দুই ব্যাটারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের সুবাস পেতে থাকে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত আর কোন উইকেট না হারিয়ে ১২ বল হাতে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। সাকিব ২৪ বলে ৩৪ ও আফিফ ১৩ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ইংলিশদের হয়ে বল হাতে ১টি করে উইকেট নেন আদিল রশিদ, জোফরা আর্চার , মার্ক উড ও মঈন আলী। এই জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ।
সাগরিকায় এদিন টসে জিতে বোলিং করেত এসে প্রথম ওভারে স্পিন, পরের দুই ওভারে পেস এভাবে শুরু করেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তবে এমন পরিবর্তন করেও প্রতি ওভারেই এসেছে বাউন্ডারি। অপরদিকে টাইগারদের ভুলে বিনা উইকেটেই পাওয়ার প্লেতে ৫১ রান তোলে ইংলিশ ব্যাটাররা। কিন্তু যখন হাত খুলে ব্যাটিং করতে ছিল ইংলিশ দুই ওপেনার, ঠিক তখনি উইকেটের সহজ সুযোগ এসেছিল স্বাগতিক শিবিরে। তবে নাসুম আহমেদের ওভারে জোড়া ক্যাচ মিসে ইংল্যান্ড উড়ন্ত সূচনা পেয়ে যায়।

প্রথম বলে ফিল সল্ট দিয়েছিলেন ফিরতি ক্যাচ, একটু নিচু হয়ে হাত লাগালেও সেটি রাখতে পারেননি নাসুম নিজেই। সল্ট তখন ব্যাটিং করছিলেন ২০ রানে। অপরদিকে চতুর্থ বলে জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আকাশে তুলেছিলেন বাটলার। মিড অনে অনেকটা সময় নিয়ে বলের নিচে নিজেকে নিয়ে গিয়েও সহজ ক্যাচটি ধরতে পারেনি টাইগার অধিনায়ক।
এরপর দশম ওভার করেতে এসে প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। নাসুমের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ফিল সল্ট। ফলে দশম ওভারে ভাঙল ইংল্যান্ডের শুরুর এই জুটি। অপরদিকে উইকেটে এসে বেশিক্ষণ টিকলেন না ডেভিড ম্যালান। সাকিব আল হাসানকে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় লং অনে ধরা পড়লেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৭ বলে ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ইংলিশ ব্যাটার।
পরে দ্রুত এগোনো জুটি ভাঙলেন মুস্তাফিজুর রহমান। চমৎকার এক ডেলিভারিতে বেন ডাকেটকে সাজঘরে ফেরান তিনি। ফলে ভাঙে ২৫ বল ৪৭ রানের এ জুটি। ১৩ বলে তিন চারে ২০ রান করে আউট হন এই ইংলিশ ব্যাটার। এরপরে ক্রিজে জস বাটলারের সঙ্গী মইন আলি। তবে পরের ওভারে বেন ডাকেটের বিদায়ের পর জস বাটলারকেও হারাল ইংল্যান্ড। হাসান মাহমুদকে ছক্কায় ওড়াতে যেয়ে নাজমুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ইংলিশ অধিনায়ক। ৪২ বলে চারটি করে ছক্কা ও চারে ৬৭ রান করেন বাটলার।
এরপর মইন আলি ও স্যাম কুরান মিলে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ১৪৬ রানে কুরানকে আউট করেন হাসান মাহমুদ। ১১ বলে ৬ রান করে ফিরেন তিনি। এরপর ইনিংসের শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই ক্রিজে আসা ওকসকে বোল্ড করেন তাসকিন। ২ বলে ১ রান করে আউট হন ক্রিস ওকস। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে জস বাটলারের দল।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে দুটি উইকেট নেন হাসান মাহামুদ। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসান।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























