তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কাছে স্রেফ উড়ে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে এসে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে সফরকারি জিম্বাবুয়ে। ফলে অস্ট্রেলিয়াকে এই প্রথম তাদের মাটিতেও হারানোর রেকর্ড গড়ে জিম্বাবুয়ে। এ নিয়ে তিনবার অজিদের হারালো রোডেশিয়ানরা। প্রথম দেখাতেই প্রথমবার ১৯৮৩ সালে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে, দ্বিতীয় জয় এসেছিল ২০১৪ সালে হারারেতে নিজেদের মাঠে।
১৪ বারের চেষ্টায় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের প্রথম জয়। আর দুই দলের ৩৯ বছরের লড়াইয়ের ইতিহাসে ৩৩ ওয়ানডেতে এটি তৃতীয় জয় জিম্বাবুয়ের, যার সর্বশেষটি ছিল ২০১৪ সালে হারারেতে। যেকোনো সংস্করণ মিলিয়ে আট বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয় পেল জিম্বাবুয়ে।
অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পথে বাংলাদেশের ত্রাস রায়ান বার্ল আরও একবার জ্বলে উঠলেন। ব্যাট হাতে সুবিধা করতে না পারলেও বল হাতে ঠিকই সাফল্যা পেয়েছেন। তার ঘূর্ণিতেই নাকানি চুবানি খেয়েছে অজিরা। এ স্পিনিং অলরাউন্ডার একাই তুলে নিয়েছেন ৫ অস্ট্রেলিয়ানকে। এ পাঁচ উইকেট পেতে তাকে বল করতে হয়েছে মাত্র ৩ ওভার।
অজিদের মাঠে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। অধিনায়কের এ সিদ্ধান্তকে মাঠে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন রোডেশিয়ান বোলাররা। দলীয় ৯ রানে অধিনায়ক ফিঞ্চকে হারায় স্বাগতিকরা। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ক্যাঙ্গারুরা। দলীয় শতরানের আগেই তারা পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান আসে ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে। তিনি সেঞ্চুরি থেকে ৬ রান দূরে থাকতেই রায়ান বার্লের শিকার হন। তার আগে অবশ্য ৯৬ বলে ২ ছয় ও ১৪ চারে ৯৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। কিন্তু অন্য কেউ তাকে যোগ্য সহায়তা দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত দেড়শো রানের আগে আটকে যায় অজিরা।
অজিদের দেয়া টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে কাতিয়ানো ও মারুমানির ব্যাটে ৩৮ রান সংগ্রহ করেন। কাতিয়ানো ১৯ রান করে ফেরার পর দ্রুতই ফিরে যান ওয়েসলে মাধভেরে। তবে ৩৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন আরেক ওপেনার মারুমানি। এরপর দ্রুতই ছন্দপতন হয় জিম্বাবুয়ের।
তবে অধিনায়ক রেজিস চাকাভার দৃঢ় ব্যাটিং ও বার্লের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে জয়ের দিকে ছুটতে থাকে জিম্বাবুয়ে। জয় থেকে ৫ রান দূরে থাকতে ১১ রান করে বার্ল ফিরলেও চাকাভার অপরাজিত ৩৭ রানের ইনিংসে ৩ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় রোডেশিয়ানরা।
প্রতিনিধির নাম 
























