নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সোমবার (৪ মে) জেলা প্রশাসক সম্মেলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক সেশন শেষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকা বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় স্থানে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের বিমান বহরকে আধুনিক করতে ইতোমধ্যে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি অব্যবহৃত ৮-৯টি বিমানবন্দর সংস্কার করে অভ্যন্তরীণ রুটে চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বগুড়ায় বিমান বন্দরের পাশাপাশি একটি ফ্লাইং একাডেমি করার কথা শুনেছিলাম, সেটি কবে নাগাদ হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা একাডেমির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ৭ তারিখে যাচ্ছি। সেখানে একাডেমিটা খুব তাড়াতাড়ি হবে। কারণ ৭ তারিখেই যাচ্ছি আমরা দেখব সেখানে এবং শুধু এখানেই নয়, নীলফামারীতেও একটা একাডেমি আছে, ছোট একাডেমি। সেখানেও আমরা চেষ্টা করবো।
তিনি বলেন, বিমানের যে পাইলট আছে, একটা পাইলট বানাতে অনেক টাকা লাগে। এই পাইলটগুলো বাংলাদেশের খুব বেশি কাজ করে না, তারা বিদেশে চলে যায় এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোতে চাকরি করে। আগে পাইলটের একটা অংশ ছিল শুধু পাইলটের ছেলে বা পাইলটের আত্মীয়-স্বজন ছাড়া বা যারা পাইলট ছিল। এখন আমরা চাচ্ছি যে সাধারণভাবে সবাই যাতে এই এভিয়েশন সেক্টরে আসতে পারে, পাইলট হতে পারে। তারা শুধু বিমানে নয়, বিদেশেও গিয়ে চাকরি করতে পারে এই এয়ারলাইন্সগুলোতে এবং এই এয়ারলাইন্সগুলোতে চাকরি করলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে অনেক বেশি। সেজন্য আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে আমরা একাডেমি দুইটা করছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের পর্যটন সম্পর্কে অনেক কথা হয়েছে, বিশেষ করে কক্সবাজার, কুয়াকাটা এবং বড় বড় স্থাপনাগুলো যেগুলো আছে পর্যটনের, কীভাবে আমরা কাজ করতে পারি সম্মিলিতভাবে। এটা অল অ্যাবাউট আপনার আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এর ব্যাপারে আর কি। আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা যেভাবে কাজ করবেন সেই নির্দেশনাগুলি তাদের দিয়েছি এবং তারা যাতে খুব নিজেরা একটু মানে উৎসাহিত হয় সে ব্যাপারে আমরা তাদের বলেছি যে, আপনারা আগের মতো কাজ না করে এই সরকারের আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশকে দেখতে চান, আপনাদের নিয়ে আমরা, আপনারা সবাই মিলে একসঙ্গে একযোগে মিলে এই দেশকে একটা কার্যকরী দেশ হিসেবে পরিণত করবো।
প্রতিটি জেলায় প্রায় পর্যটনের স্থান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই স্থানগুলোকে একটু বিন্যাস করে প্রয়োজনে সেগুলোর উন্নত করার জন্য বিদেশি সহায়তা নিয়ে অথবা পিপিপি মডেলে কিছু করার জন্য তাদের আমরা আশ্বস্ত করেছি এবং তারাও উৎসাহিত হয়েছে।
মনপুরা নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কী বলেছেন-জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মনপুরা নিয়ে একজন ডিসি বলেছেন যে মনপুরাটা ভালো একটা পর্যটন স্থান হতে পারে। সে ব্যাপারে যদি মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে ডিসি সাহায্য করবেন আমাদের। সে ব্যাপারে আমরা কাজ করবো, মন্ত্রণালয়ে কাজ করব।
তিনি বলেন, বিমানে তো আমাদের পাইলট সংখ্যা কম। আবার বিমানে আমরা এরই মধ্যে আমরা ১৪টি বোয়িং-এর জন্য সাইন করেছি। আমাদের বিমান বহরটি একদম আন্তর্জাতিক মানের হলেও আন্তর্জাতিক মানের নয়।
সেই মান সম্পন্ন করার জন্য আমরা এরই মধ্যে ১৪টা বোয়িং ক্রয়ের সই করেছি এবং আরও কিছু বিমান আমরা লিজ করবো। সেগুলোকে নিয়ে আমরা এই বিমান বন্দরগুলো যেগুলো আছে আরও ব্যবহৃত হচ্ছে না প্রায় ৮/৯টি বিমান বন্দর সেগুলোকে আমরা নতুন করে রিপেয়ার করে চালু করবো অভ্যন্তরীণ রুট হিসেবে।
কবে নাগাদ চালু করা হতে পারে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো আমরা প্রথম দিকে প্রায়োরিটি ভিত্তিক রেখেছি বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, সৈয়দপুর। আমরা অতিসত্বর কক্সবাজারকে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছি, সেটা আমরা শুরু করবো হয়তো ৩-৪ মাসের মধ্যেই। আবার থার্ড টার্মিনাল শুরু করবো ১৬ ডিসেম্বর, আমরা আশা করছি করতে পারব।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















