Dhaka শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাঁস কোলে নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা।

‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি এক লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭টি ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪টি ভোট।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাড়িতে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় হাঁস কোলে নিয়ে তিনি তার এ প্রতীক বেছে নেওয়ার কারণ জানান এবং তার বেড়ে ওঠার গল্পও শোনান।

ভোটের মার্কা হিসেবে হাঁস বেছে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার অনেক হাঁস ছিল, মোরগ ছিল, কবুতর ছিল। আম্মুর বড় চাকরির সুবাদে আমরা বড় বড় বাসায় থাকতাম। এরপর তো আমরা ছোট অ্যাপার্টমেন্টে চলে গেলাম। তখন এই হাঁস-টাস পালা হলো না…। কিন্তু এখানে (ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে) আমার হাঁস-মুরগি অনেককিছু আছে। ওদের সঙ্গেই আমার অবসর সময় কাটে।’

হাঁসের সঙ্গে তার এই স্মৃতিকে ধারণ করেই তিনি হাঁসকে প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিএনপি থেকে বের হয়ে বিজয়ের হাসি হাসার যাত্রাটা তার জন্য বেশ কঠিন ছিল বলে উল্লেখ করেন রুমিন।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমার জার্নিটা কঠিন ছিল। কিন্তু আমার চেয়েও কঠিন সময় পার করেছে আমকে সমর্থন দেয়া নেতারা। আমি যদি আজকে না জিততাম, আমায় হয়তো আবার ঢাকায় ফিরে যেতে হত। আমি আমার পেশায় ফিরে যেতাম। আমার এতগুলো কর্মী, সবাই বহিষ্কার হয়ে গেছে। এই ১৭টা বছর তারা এত কষ্ট করেছে, এত শ্রম দিয়েছে, তারা ঘরে ঘুমাতে পারে নাই। তারা কেউ কষ্ট রাখে নাই মনে; সবাই খুশি। এই ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করবো আমি?

তিনি বলেন, আমাকে শুধুমাত্র আমার আসনের প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গেই লড়তে হয়নি, বিএনপি এখানে সর্বশক্তি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে নেমেছিল। তারা বিষয়টি এমনভাবে নিয়েছিল যে, দলের চেয়ে ব্যক্তির ইমেজ ভালো হতে পারে না। আমি রুমিন হয়েছি, শুধুমাত্র বিএনপি একসময় করতাম এজন্য; তারা বলেছিল যে, রুমিনকে হারাতেই হবে।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমার এই নির্বাচনের প্রস্তুতি ২২দিন বা ২৫ দিনের প্রস্তুতি না। ৫ আগস্টের পর থেকে আমি প্রতি সপ্তাহে অন্তত চার-পাঁচদিন এলাকায় থাকতাম। এই প্রস্তুতি অনেক আগের। এটা আমার নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি। এই জয়টা আমার না, এই জয় আমার ভোটারের। যারা আমাকে ভোট দেয়নি, আমাকে নিয়ে অশালীন কুৎসিত মন্তব্য করেছে- বিএনপির পদধারী নেতারা, আমি তাদের কাছেও কৃতজ্ঞ। কারণ তারা যদি এতটা কদর্য আচরণ না করত, তাহলে হয়তো আমি এতো ভোটের ব্যবধানে জিততাম না। মানুষ ব্যালটে তাদের সমস্ত অন্যায়, অবিচার ও অকৃতজ্ঞতার জবাব দিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের (এমপি) যেমন অবস্থান থাকে, আমার অবস্থানও তেমনই থাকবে। আমি কখনও কোনও অন্যায়কে অন্যায় দেখে চুপ থাকিনি। আমি যখন দলে ছিলাম, তখন আমি চাঁদাবাজি, জুলুম, অত্যাচার এগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলেছি। সরকারে কে আসলো, আর কে গেলো সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমি সরাইল-আশুগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করছি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-এর প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার এলাকার স্বার্থ, আমার মানুষের স্বার্থ সবার আগে।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নেতাকর্মীদের জয়ের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমার এই জয় আমার নির্বাচনি আসনের সবাইকে উৎসর্গ করলাম।’ এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে, চলাকালে এবং নির্বাচনের পরে আমার দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে– “বিএনপি ক্ষমতায় যাচ্ছে, আপনাদের দেখে নেওয়া হবে।” তারপরও আমি বলবো, আপনারা শান্ত থাকুন, যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা হুমকি দেয়। তারা কখনও জয়ী হয় না। আপনারা জয়ী হয়েছেন, আপনারা শান্ত থাকবেন। আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে, সরাইল আশুগঞ্জ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা। একসঙ্গে যেন আমরা একটা মডেল উপজেলা করতে পারি।’

দলগতভাবে যদি বিএনপি আপনাকে আমন্ত্রণ জানায়, সেক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কী হবে? এ প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আগে আমন্ত্রণ জানাক, তখন দেখা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনের কলঙ্কের ইতিহাস ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালে এসে একই জিনিস আমার সঙ্গে হতে পারতো। আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যদি শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করতো। যদি অসম্ভব রকম নিরপেক্ষতার সঙ্গে কোন দল, কোন ব্যক্তি না দেখে তারা র‌্যাপিড অ্যাকশনে গেছে। এই আসনে বিএনপি যথেষ্ট কারচুপির চেষ্টা করেছে। বিএনপির লোকাল নেতারা মানুষকে ঘরে ঘরে গিয়ে ভয় দেখিয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতারা রাতে গিয়ে টাকা বিলি করেছেন। বিএনপির নেতারা প্রত্যন্ত এলাকার ভোটকেন্দ্র ধামাউড়া, দুবাজাইল কেন্দ্রে ভোট ছাপিয়েছে এবং তারা ফলাফল বিভিন্ন কেন্দ্রে আটকে রেখেছে। গতকাল সরাইল উচালিয়া পাড়ায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আমি কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে পাঁচবারের মতো ফল গণনা করতে বাধ্য করেছি।

‘আমি শুভেচ্ছা জানাই, যারাই ভালো ফল করেছে, দল হোক ব্যক্তি হোক, যারা যারা ভালো ফলাফল করেছে, অবশ্যই তাদের প্রতি আমার শুভকামনা থাকবে। আমি আশা করবো, প্রত্যেকেই তার অবস্থান থেকে তার শপথ অনুযায়ী যে দায়িত্ব ও কর্তব্য সেটা তারা পালন করবেন।’

বিএনপিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি ঘরের মেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার, আমি তো ঘরেই আছি। ঘরের মেয়ে তো বাইরে যায়নি। আমি যদি গিয়ে সিলেট থেকে নির্বাচন করতাম, তাহলে বলতেন ঘরের মেয়ে বাইরে গেছে। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আছি। আমার দল তো আমাকে বহিষ্কার করে দিয়েছে। আমার দল বলতে কিছু নেই, এটা তারেক রহমান সাহেবের দল। তিনি তো আমাকে বহিষ্কারই করে দিয়েছেন। এটা তো আমার দল না।

‘দলের লড়াই-সংগ্রাম ছিল ভোটের আন্দোলনের জন্য। আমাদের একটা ফ্রি ফেয়ার ইলেকশনের জন্য সে আন্দোলনে আমি শরিক ছিলাম। দলের ১৮ মাসের কার্যক্রমে আমরা দেখেছি, কী করে মানুষের কাছ থেকে পয়সা আদায় করা যায়, কী করে লুট করা যায়, কী করে জমি দখল করা যায়, ব্যবসা দখল করা যায়, বালুর ব্যবসা করা যায়, কী করে দুর্নীতি করে পয়সা কামানো যায়, কী করে তদবির বাজি করা যায়, কী করে চাঁদাবাজি করা যায় এখন আপনারা কি বলতে চান আমি ওইগুলোর সঙ্গী হবো? তা তো নয়, নিশ্চয়ই। আমার রাজনীতি আমার, দলের রাজনীতি দলের। আমি আশা করব তারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যে ভুলগুলো করেছে তার পুনরাবৃত্তি তাদের হবে না। গত দেড় বছরে তারা নানারকমভাবে তারা মানুষকে বিরক্ত করেছে, সেটার আর পুনরাবৃত্তি হবে না।’

জামায়াত সংসদে যাবে কিনা এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন, এ প্রসঙ্গে রুমিন বলেন, ‘আমরা তো এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচনটা করলাম এবং আওয়ামী লীগসহ যে বাম দলগুলো আছে, তারা তো এই মুহূর্তে সংসদে নাই এবং জাতীয় পার্টি কয়টি আসন পেয়েছে সেটিও জানি না। তাহলে বিরোধী দলে কাউকে তো থাকতে হবে। সেটা কীভাবে হবে, সেটিও একটা বড় প্রশ্ন। দেখা যাক সময় বলবে।’

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

খালেদা জিয়া এই অভূতপূর্ব বিজয় দেখে যেতে পারলেন না : মির্জা ফখরুল

হাঁস কোলে নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা

প্রকাশের সময় : ০৬:২৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা।

‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি এক লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭টি ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪টি ভোট।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাড়িতে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় হাঁস কোলে নিয়ে তিনি তার এ প্রতীক বেছে নেওয়ার কারণ জানান এবং তার বেড়ে ওঠার গল্পও শোনান।

ভোটের মার্কা হিসেবে হাঁস বেছে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার অনেক হাঁস ছিল, মোরগ ছিল, কবুতর ছিল। আম্মুর বড় চাকরির সুবাদে আমরা বড় বড় বাসায় থাকতাম। এরপর তো আমরা ছোট অ্যাপার্টমেন্টে চলে গেলাম। তখন এই হাঁস-টাস পালা হলো না…। কিন্তু এখানে (ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে) আমার হাঁস-মুরগি অনেককিছু আছে। ওদের সঙ্গেই আমার অবসর সময় কাটে।’

হাঁসের সঙ্গে তার এই স্মৃতিকে ধারণ করেই তিনি হাঁসকে প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিএনপি থেকে বের হয়ে বিজয়ের হাসি হাসার যাত্রাটা তার জন্য বেশ কঠিন ছিল বলে উল্লেখ করেন রুমিন।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমার জার্নিটা কঠিন ছিল। কিন্তু আমার চেয়েও কঠিন সময় পার করেছে আমকে সমর্থন দেয়া নেতারা। আমি যদি আজকে না জিততাম, আমায় হয়তো আবার ঢাকায় ফিরে যেতে হত। আমি আমার পেশায় ফিরে যেতাম। আমার এতগুলো কর্মী, সবাই বহিষ্কার হয়ে গেছে। এই ১৭টা বছর তারা এত কষ্ট করেছে, এত শ্রম দিয়েছে, তারা ঘরে ঘুমাতে পারে নাই। তারা কেউ কষ্ট রাখে নাই মনে; সবাই খুশি। এই ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করবো আমি?

তিনি বলেন, আমাকে শুধুমাত্র আমার আসনের প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গেই লড়তে হয়নি, বিএনপি এখানে সর্বশক্তি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে নেমেছিল। তারা বিষয়টি এমনভাবে নিয়েছিল যে, দলের চেয়ে ব্যক্তির ইমেজ ভালো হতে পারে না। আমি রুমিন হয়েছি, শুধুমাত্র বিএনপি একসময় করতাম এজন্য; তারা বলেছিল যে, রুমিনকে হারাতেই হবে।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমার এই নির্বাচনের প্রস্তুতি ২২দিন বা ২৫ দিনের প্রস্তুতি না। ৫ আগস্টের পর থেকে আমি প্রতি সপ্তাহে অন্তত চার-পাঁচদিন এলাকায় থাকতাম। এই প্রস্তুতি অনেক আগের। এটা আমার নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি। এই জয়টা আমার না, এই জয় আমার ভোটারের। যারা আমাকে ভোট দেয়নি, আমাকে নিয়ে অশালীন কুৎসিত মন্তব্য করেছে- বিএনপির পদধারী নেতারা, আমি তাদের কাছেও কৃতজ্ঞ। কারণ তারা যদি এতটা কদর্য আচরণ না করত, তাহলে হয়তো আমি এতো ভোটের ব্যবধানে জিততাম না। মানুষ ব্যালটে তাদের সমস্ত অন্যায়, অবিচার ও অকৃতজ্ঞতার জবাব দিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের (এমপি) যেমন অবস্থান থাকে, আমার অবস্থানও তেমনই থাকবে। আমি কখনও কোনও অন্যায়কে অন্যায় দেখে চুপ থাকিনি। আমি যখন দলে ছিলাম, তখন আমি চাঁদাবাজি, জুলুম, অত্যাচার এগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলেছি। সরকারে কে আসলো, আর কে গেলো সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমি সরাইল-আশুগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করছি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-এর প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার এলাকার স্বার্থ, আমার মানুষের স্বার্থ সবার আগে।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নেতাকর্মীদের জয়ের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমার এই জয় আমার নির্বাচনি আসনের সবাইকে উৎসর্গ করলাম।’ এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে, চলাকালে এবং নির্বাচনের পরে আমার দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে– “বিএনপি ক্ষমতায় যাচ্ছে, আপনাদের দেখে নেওয়া হবে।” তারপরও আমি বলবো, আপনারা শান্ত থাকুন, যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা হুমকি দেয়। তারা কখনও জয়ী হয় না। আপনারা জয়ী হয়েছেন, আপনারা শান্ত থাকবেন। আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে, সরাইল আশুগঞ্জ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা। একসঙ্গে যেন আমরা একটা মডেল উপজেলা করতে পারি।’

দলগতভাবে যদি বিএনপি আপনাকে আমন্ত্রণ জানায়, সেক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কী হবে? এ প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আগে আমন্ত্রণ জানাক, তখন দেখা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনের কলঙ্কের ইতিহাস ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালে এসে একই জিনিস আমার সঙ্গে হতে পারতো। আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যদি শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করতো। যদি অসম্ভব রকম নিরপেক্ষতার সঙ্গে কোন দল, কোন ব্যক্তি না দেখে তারা র‌্যাপিড অ্যাকশনে গেছে। এই আসনে বিএনপি যথেষ্ট কারচুপির চেষ্টা করেছে। বিএনপির লোকাল নেতারা মানুষকে ঘরে ঘরে গিয়ে ভয় দেখিয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতারা রাতে গিয়ে টাকা বিলি করেছেন। বিএনপির নেতারা প্রত্যন্ত এলাকার ভোটকেন্দ্র ধামাউড়া, দুবাজাইল কেন্দ্রে ভোট ছাপিয়েছে এবং তারা ফলাফল বিভিন্ন কেন্দ্রে আটকে রেখেছে। গতকাল সরাইল উচালিয়া পাড়ায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আমি কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে পাঁচবারের মতো ফল গণনা করতে বাধ্য করেছি।

‘আমি শুভেচ্ছা জানাই, যারাই ভালো ফল করেছে, দল হোক ব্যক্তি হোক, যারা যারা ভালো ফলাফল করেছে, অবশ্যই তাদের প্রতি আমার শুভকামনা থাকবে। আমি আশা করবো, প্রত্যেকেই তার অবস্থান থেকে তার শপথ অনুযায়ী যে দায়িত্ব ও কর্তব্য সেটা তারা পালন করবেন।’

বিএনপিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি ঘরের মেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার, আমি তো ঘরেই আছি। ঘরের মেয়ে তো বাইরে যায়নি। আমি যদি গিয়ে সিলেট থেকে নির্বাচন করতাম, তাহলে বলতেন ঘরের মেয়ে বাইরে গেছে। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আছি। আমার দল তো আমাকে বহিষ্কার করে দিয়েছে। আমার দল বলতে কিছু নেই, এটা তারেক রহমান সাহেবের দল। তিনি তো আমাকে বহিষ্কারই করে দিয়েছেন। এটা তো আমার দল না।

‘দলের লড়াই-সংগ্রাম ছিল ভোটের আন্দোলনের জন্য। আমাদের একটা ফ্রি ফেয়ার ইলেকশনের জন্য সে আন্দোলনে আমি শরিক ছিলাম। দলের ১৮ মাসের কার্যক্রমে আমরা দেখেছি, কী করে মানুষের কাছ থেকে পয়সা আদায় করা যায়, কী করে লুট করা যায়, কী করে জমি দখল করা যায়, ব্যবসা দখল করা যায়, বালুর ব্যবসা করা যায়, কী করে দুর্নীতি করে পয়সা কামানো যায়, কী করে তদবির বাজি করা যায়, কী করে চাঁদাবাজি করা যায় এখন আপনারা কি বলতে চান আমি ওইগুলোর সঙ্গী হবো? তা তো নয়, নিশ্চয়ই। আমার রাজনীতি আমার, দলের রাজনীতি দলের। আমি আশা করব তারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যে ভুলগুলো করেছে তার পুনরাবৃত্তি তাদের হবে না। গত দেড় বছরে তারা নানারকমভাবে তারা মানুষকে বিরক্ত করেছে, সেটার আর পুনরাবৃত্তি হবে না।’

জামায়াত সংসদে যাবে কিনা এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন, এ প্রসঙ্গে রুমিন বলেন, ‘আমরা তো এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচনটা করলাম এবং আওয়ামী লীগসহ যে বাম দলগুলো আছে, তারা তো এই মুহূর্তে সংসদে নাই এবং জাতীয় পার্টি কয়টি আসন পেয়েছে সেটিও জানি না। তাহলে বিরোধী দলে কাউকে তো থাকতে হবে। সেটা কীভাবে হবে, সেটিও একটা বড় প্রশ্ন। দেখা যাক সময় বলবে।’