Dhaka বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের ইসরায়েলগামী অস্ত্রের চালান জব্দ করল বেলজিয়াম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে পাঠানো সামরিক অস্ত্রের দুটি চালান জব্দ করেছে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ। দেশটির আকাশসীমা ও মাটিতে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চালানগুলো গত ২৪ মার্চ বেলজিয়ামের লিজ বিমানবন্দরে জব্দ করা হয়।

এর আগে গত মাসে ব্রিটিশ নিউজ সাইট ডিক্লাসিফাইড, বেলজিয়ান এনজিও ভ্রেডেসাক্টি, আইরিশ নিউজ সাইট দ্য ডিচ এবং প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট যৌথভাবে বেলজিয়াম সরকারকে অস্ত্রের এই চালান সম্পর্কে সতর্ক করে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলজিয়ামে ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জামবাহী যেকোনো বিমানের অবতরণ বা আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নির্দেশনার ভিত্তিতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বেলজিয়াম।

সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলীর বরাতে মিডল ইস্ট আই জানায়, চালানগুলো তল্লাশি করে ‘ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং সামরিক বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ’ খুঁজে পাওয়া গেছে। কিন্তু জানানো হয়েছিল এতে ‘সাধারণ বিমানের যন্ত্রাংশ রয়েছে।

বেলজিয়াম সরকার এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে তারা এর সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তবে বেলজিয়ামের ওয়্যালুন আঞ্চলিক সরকার ‘মুগ’ নামে একটি কোম্পানির নাম প্রকাশ করেছে, যা মূলত মার্কিন অ্যারোস্পেস কোম্পানি। ‘মুগ’-এর কারখানা যুক্তরাজ্যে অবস্থিত।

ডিক্লাসিফাইড-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরেও ওলভারহ্যাম্পটনে অবস্থিত কোম্পানির কারখানার পোস্টকোড ব্যবহার করে বেলজিয়ামের মাধ্যমে ইসরায়েলে মালামাল পাঠানো হয়েছিল।

মুগ কোম্পানি মূলত এম-৩৪৬ বিমানের জন্য ‘অ্যাকচুয়েটর’ তৈরি করে, যা ইসরায়েলি পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়।

তদন্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই যন্ত্রাংশগুলো যুক্তরাজ্যের একটি ‘ওপেন ইন্ডিভিজুয়াল এক্সপোর্ট লাইসেন্স’-এর অধীনে রপ্তানি করা হয়েছিল। সেখানে এগুলোকে সামরিক যন্ত্রাংশের পরিবর্তে ‘সাধারণ বিমান এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।

তারা আরও জানতে পেরেছে, মুগ কোম্পানি থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে অন্তত ১৭টি চালান যুক্তরাজ্য থেকে লিজ বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য থেকে বেলজিয়ামের মাধ্যমে ইসরায়েলে সামরিক যন্ত্রাংশ পাঠানো হলেও কোনো চিঠিপত্র আদান-প্রদানের তথ্য নেই।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানির ৩৫০টি লাইসেন্সের মধ্যে ৩০টি স্থগিত করে। গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এই অস্ত্রগুলো ব্যবহৃত হওয়ার ‘স্পষ্ট ঝুঁকি’ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশেষ কিছু সামরিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছিল।

বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের চালান পরিবহনের জন্য ট্রানজিট লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই চালানের ক্ষেত্রে কোনো লাইসেন্সের আবেদনই করা হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেদন করা হলেও তা বাতিল করা হতো বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া

জনবান্ধব পুলিশিং গড়ে তুলতে কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করতে হবে : ডিএমপির কমিশনার

যুক্তরাজ্যের ইসরায়েলগামী অস্ত্রের চালান জব্দ করল বেলজিয়াম

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে পাঠানো সামরিক অস্ত্রের দুটি চালান জব্দ করেছে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ। দেশটির আকাশসীমা ও মাটিতে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চালানগুলো গত ২৪ মার্চ বেলজিয়ামের লিজ বিমানবন্দরে জব্দ করা হয়।

এর আগে গত মাসে ব্রিটিশ নিউজ সাইট ডিক্লাসিফাইড, বেলজিয়ান এনজিও ভ্রেডেসাক্টি, আইরিশ নিউজ সাইট দ্য ডিচ এবং প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট যৌথভাবে বেলজিয়াম সরকারকে অস্ত্রের এই চালান সম্পর্কে সতর্ক করে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলজিয়ামে ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জামবাহী যেকোনো বিমানের অবতরণ বা আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নির্দেশনার ভিত্তিতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বেলজিয়াম।

সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলীর বরাতে মিডল ইস্ট আই জানায়, চালানগুলো তল্লাশি করে ‘ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং সামরিক বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ’ খুঁজে পাওয়া গেছে। কিন্তু জানানো হয়েছিল এতে ‘সাধারণ বিমানের যন্ত্রাংশ রয়েছে।

বেলজিয়াম সরকার এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে তারা এর সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তবে বেলজিয়ামের ওয়্যালুন আঞ্চলিক সরকার ‘মুগ’ নামে একটি কোম্পানির নাম প্রকাশ করেছে, যা মূলত মার্কিন অ্যারোস্পেস কোম্পানি। ‘মুগ’-এর কারখানা যুক্তরাজ্যে অবস্থিত।

ডিক্লাসিফাইড-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরেও ওলভারহ্যাম্পটনে অবস্থিত কোম্পানির কারখানার পোস্টকোড ব্যবহার করে বেলজিয়ামের মাধ্যমে ইসরায়েলে মালামাল পাঠানো হয়েছিল।

মুগ কোম্পানি মূলত এম-৩৪৬ বিমানের জন্য ‘অ্যাকচুয়েটর’ তৈরি করে, যা ইসরায়েলি পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়।

তদন্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই যন্ত্রাংশগুলো যুক্তরাজ্যের একটি ‘ওপেন ইন্ডিভিজুয়াল এক্সপোর্ট লাইসেন্স’-এর অধীনে রপ্তানি করা হয়েছিল। সেখানে এগুলোকে সামরিক যন্ত্রাংশের পরিবর্তে ‘সাধারণ বিমান এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।

তারা আরও জানতে পেরেছে, মুগ কোম্পানি থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে অন্তত ১৭টি চালান যুক্তরাজ্য থেকে লিজ বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য থেকে বেলজিয়ামের মাধ্যমে ইসরায়েলে সামরিক যন্ত্রাংশ পাঠানো হলেও কোনো চিঠিপত্র আদান-প্রদানের তথ্য নেই।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানির ৩৫০টি লাইসেন্সের মধ্যে ৩০টি স্থগিত করে। গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এই অস্ত্রগুলো ব্যবহৃত হওয়ার ‘স্পষ্ট ঝুঁকি’ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশেষ কিছু সামরিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছিল।

বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের চালান পরিবহনের জন্য ট্রানজিট লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই চালানের ক্ষেত্রে কোনো লাইসেন্সের আবেদনই করা হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেদন করা হলেও তা বাতিল করা হতো বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।