Dhaka মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতের উপহারের অ্যাম্বুলেন্স এখন ভোটের গাড়ি

নাটোর জেলা প্রতিনিধি : 

নাটোর পৌরবাসীকে দ্রুত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছিল প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার লাইফসাপোর্ট (আইসিইউ) অ্যাম্বুলেন্স। মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচানোর সে বাহনটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে গণভোটের প্রচারণায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোর পৌর কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সটি প্রচারণার ‘ভোটের গাড়িতে’ রূপান্তর করেছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে নির্বাচনী স্টিকার সাঁটানো। ওপরে স্থাপন করা হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। বেলা ১১টায় পৌরসভার গেটের সামনে প্রথমে ভোটের প্রচারণা করে অ্যাম্বুলেন্সটি।

জানা যায়, ২০২২ সালের শুরুর দিকে ভারত সরকার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নাটোর পৌরসভা, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে মোট তিনটি অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি নাটোর পৌরসভা প্রাঙ্গণে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাট্টি নাটোর পৌর মেয়রের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন।

নাটোর-২: সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে গণভোটের প্রচার

এখন দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে অসহায় রোগী বহনের পরিবর্তে অ্যাম্বুলেন্সটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বাচনি প্রচারণায়। জীবন রক্ষাকারী একটি বাহনকে এভাবে নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।

শহরের কানাইখালির বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, ভারত সরকার এটি দিয়েছে মানবতার সেবার জন্য, ভোটের প্রচারণার জন্য না। এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী কাজ।

শহরের মাদ্রাসা মোড়ের বাসিন্দা আব্দুল বাতেন বলেন, অ্যাম্বুলেন্স মানেই জীবন বাঁচানোর বাহন। জনবল নিয়োগ দিয়ে এটি মানুষের সেবায় ব্যবহার করা যেত। এটি যদি ভোটের কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে অসুস্থ মানুষ যাবে কোথায়?

নাটোর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, সকালে পৌরসভায় এসে দেখি অ্যাম্বুলেন্সে হ্যাঁ-না ভোটের স্টিকার লাগানো। তবে অ্যাম্বুলেন্স হঠাৎ ভোটের গাড়িতে রূপান্তরের বিষয়ে আগে থেকে পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এস এইচ এম মাগ্ফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কথা বলে জানাতে পারব।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ভারতের উপহারের অ্যাম্বুলেন্স এখন ভোটের গাড়ি

প্রকাশের সময় : ০২:২৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

নাটোর জেলা প্রতিনিধি : 

নাটোর পৌরবাসীকে দ্রুত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছিল প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার লাইফসাপোর্ট (আইসিইউ) অ্যাম্বুলেন্স। মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচানোর সে বাহনটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে গণভোটের প্রচারণায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোর পৌর কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সটি প্রচারণার ‘ভোটের গাড়িতে’ রূপান্তর করেছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে নির্বাচনী স্টিকার সাঁটানো। ওপরে স্থাপন করা হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। বেলা ১১টায় পৌরসভার গেটের সামনে প্রথমে ভোটের প্রচারণা করে অ্যাম্বুলেন্সটি।

জানা যায়, ২০২২ সালের শুরুর দিকে ভারত সরকার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নাটোর পৌরসভা, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে মোট তিনটি অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি নাটোর পৌরসভা প্রাঙ্গণে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাট্টি নাটোর পৌর মেয়রের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন।

নাটোর-২: সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে গণভোটের প্রচার

এখন দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে অসহায় রোগী বহনের পরিবর্তে অ্যাম্বুলেন্সটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বাচনি প্রচারণায়। জীবন রক্ষাকারী একটি বাহনকে এভাবে নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।

শহরের কানাইখালির বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, ভারত সরকার এটি দিয়েছে মানবতার সেবার জন্য, ভোটের প্রচারণার জন্য না। এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী কাজ।

শহরের মাদ্রাসা মোড়ের বাসিন্দা আব্দুল বাতেন বলেন, অ্যাম্বুলেন্স মানেই জীবন বাঁচানোর বাহন। জনবল নিয়োগ দিয়ে এটি মানুষের সেবায় ব্যবহার করা যেত। এটি যদি ভোটের কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে অসুস্থ মানুষ যাবে কোথায়?

নাটোর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, সকালে পৌরসভায় এসে দেখি অ্যাম্বুলেন্সে হ্যাঁ-না ভোটের স্টিকার লাগানো। তবে অ্যাম্বুলেন্স হঠাৎ ভোটের গাড়িতে রূপান্তরের বিষয়ে আগে থেকে পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এস এইচ এম মাগ্ফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কথা বলে জানাতে পারব।